এমএনএ রিপোর্ট : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর রামদা, লোহার রড, হাতুড়ি ও বাঁশের লাঠি নিয়ে হামলা চালায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
গতকাল সোমবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের কিছু দূরে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলায় আহত হন কোটা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ রাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তারেক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী।
আহত তারেক বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
চিকিৎসকরা বলছেন, ভারি কিছু দিয়ে আঘাত করায় তারেকের ডান পা ভেঙে গেছে। আপাতত প্লাস্টার করে রাখা হয়েছে। অস্ত্রোপচার না করলে তার পা স্বাভাবিক হবে না। আর তার পুরো শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তবে আশার কথা হচ্ছে, তারেকের মস্তিষ্কে বড় ধরনের কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত রবিবারও কোটা আন্দোলনকারীরা মানববন্ধন করতে গেলে তাদের ওপর হামলা করে ছাত্রলীগ। দুই দিনের হামলার প্রত্যক্ষদর্শী, হামলার ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রাবি ছাত্রলীগের ১০-১৫ জন নেতাকর্মী এ হামলায় মূল ভূমিকা পালন করেন।
ছাত্রলীগের রাবি শাখার সভাপতি গোলাম কিবরিয়া ও সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু এ দুই হামলার নেতৃত্বে থাকলেও আক্রমণ ও মারধরের সময় তাদের দেখা যায়নি।
আক্রমণের নেতৃত্বে ছিলেন কয়েকজন সহসভাপতি এবং সংগঠনিক সম্পাদকসহ অন্য পদগুলোর কয়েকজন শীর্ষ নেতা।
গত রবিবার কোটা আন্দোলনকারীদের ওপর আক্রমণে লতিফুল কবির মানিক নামের একজনকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গেছে। রামদা হাতে আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া মানিক নিজেও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কোটায়। তিনি ইতিহাস বিভাগে মার্স্টাসের ছাত্র এবং ছাত্রলীগকর্মী।
এরপরই হাতুড়ি হাতে আক্রমণে আবদুল্লাহ আল মামুনকে দেখা গেছে। তিনি রাবি ছাত্রলীগের সহসম্পাদক ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী।

কোটা আন্দোলনকারীদের লাঠি হাতে ধাওয়ায় রাবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ (ডানে) এবং সাবরুল জামিল সুস্ময় (বামে)

কোটা আন্দোলনকারীদের ধাওয়া দিয়েছেন রাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি সাদ্দাম হোসেন (সামনে) এবং উপ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মেহেদী হাসান আশিক (পেছনে)।

আক্রমণে লাঠি হাতে রাবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মিশু।

বাঁশের লাঠি হাতে রাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি গোফরান গাজী (বামে) এবং রমিজুল ইসলাম রিমু (মাঝে)

বাঁশের লাঠি হাতে রাবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসান লাবন।

বাঁশের লাঠি দিয়ে কোটা আন্দোলনকারী তারেককে পেটাচ্ছে রাবি ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান মিশু।

বাঁশের লাঠি হাতে রাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি মিজানুর রহমান সিনহা (বামে)। মাঝে রামদা হাতে লতিফুল কবির মানিক। ডান পাশে হাতুড়ি হাতে রাবি ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন।

এখানেও রামদা হাতে হামলায় লতিফুল কবির মানিক (বামে)। বাঁশের লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছেন রাবি ছাত্রলীগের সহসভাপতি আহমেদ সজীব (ডানে)। মাঝে পতাকায় থাকা লাঠি হাতে সহসভাপতি শোভন।

কোটা আন্দোলনকারী তরিকুল ইসলাম তারেকের ওপর রামদা নিয়ে হামলায় ছাত্রলীগকর্মী লতিফুল কবির মানিক।

২ জুলাই কোটা আন্দোলনকারী সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ রাবি শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তারেককে পতাকায় থাকা লাঠি দিয়ে পেটাচ্ছে ছাত্রলীগকর্মী জন স্মিথ। লাথি দিচ্ছে সহসভাপতি রমিজুল ইসলাম রিমু এবং মাঝে শোভন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

