এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসান এবং সাব্বির রহমানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভর করে স্বাগতিক শ্রীলংকাকে ৩২৫ রানের টার্গেট দিয়েছে টাইগাররা।
আজ শনিবার রনগিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টসে হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ তামিম ইকবালের সেঞ্চুরি এবং সাকিব ও সাব্বিরের দুর্দান্ত অর্ধশতকে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩২৪ রান করে। তামিম ১২৭, সাকিব ৭২ এবং সাব্বির ৫৪ রান করেন।
শ্রীলঙ্কা-বাংলাদেশ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ শুরু হয় বিকেল তিনটায়। টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন লঙ্কান দলপতি উপল থারাঙ্গা। তবে, টাইগার দলপতি মাশরাফি বিন মুর্তজা জানান, টস জিতলে তিনি ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তই নিতেন।
ডাম্বুলা স্টেডিয়ামে প্রথম জয়ের খোঁজে ব্যাট করতে নামেন দুই ওপেনার তামিম ও সৌম্য সরকার। সৌম্য ব্যক্তিগত ১০ রান করে সুরঙ্গা লাকমালের বলে সাজঘরে ফেরেন। সৌম্য সরকারের বিদায়ে দলীয় ২৯ রানে প্রথম উইকেটের পতন ঘটে। শুরুর ধাক্কা কাটিয়ে তামিম-সাব্বির যোগ করেন আরও ৯০ রান। দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হয়ে ফেরেন হাফ-সেঞ্চুরি করা সাব্বির। দ্রুত বিদায় নেন মুশফিকও। এরপর শত রানের (১৪৪) জুটি গড়েন তামিম-সাকিব।
আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ পেয়ে টাইগারদের হয়ে ইনিংসের শুরু করতে নামেন বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল এবং সৌম্য সরকার। শুরুটা সতর্ক থেকেই করেছিলেন তামিম-সৌম্য। তবে, ইনিংসের পঞ্চম ওভারে বিদায় নেন সৌম্য। লাকমলের করা চতুর্থ বলে ফ্লিক করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে দিনেশ চান্দিমালের গ্লাভসবন্দি হন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১০ রান। ১৩ বলের ইনিংসে দুটি চার হাঁকান সৌম্য। দলীয় ২৯ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।
১৯তম ওভারে টাইগারদের দলীয় শতক পূর্ণ হয়। ২০তম ওভারে সাব্বির ওয়ানডে ক্যারিয়ারের চতুর্থ অর্ধশতকের দেখা পান। ৪৮ বলে ৯টি চারের সাহায্যে ৫০ করেন সাব্বির। তবে, ইনিংসের ২২তম ওভারে বিদায় নিতে হয় সাব্বিরকে। গুনারত্নের বলে থারাঙ্গার তালুবন্দি হয়ে ফেরেন ৫৬ বলে ৫৪ রান করা সাব্বির। দশটি বাউন্ডারিতে তিনি এই ইনিংসটি সাজান। দলীয় ১১৯ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তামিম-সাব্বির মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৯০ রান।
সাব্বিরের বিদায়ে মাঠে আসেন মুশফিক। সান্দাকানের করা ২৩তম ওভারে বোলারের হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। সাজঘরে ফেরার আগে মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ১ রান। দলীয় ১২০ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ২৬তম ওভারে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৫তম অর্ধশতকের দেখা পান তামিম। পরে সেটি ক্যারিয়ারের অষ্টম শতকে রূপ নেয়। তিনি পঞ্চাশ ছুঁয়েছেন ৭৫ বলে, তাতে ছিল ছয়টি চারের মার। শতক ছুঁয়েছেন ১২৭ বলে, ১২টি চারের সাহায্যে। শ্রীলঙ্কা সফরে মোরাতুয়ায় বোর্ড প্রেসিডেন্ট একাদশের বিপক্ষে তামিম করেছিলেন ১৩৬ রান। এরপর গল টেস্টে করেছিলেন ৫৭ ও ১৯ রান। কলম্বো টেস্টে করেছিলেন ৪৯ ও ম্যাচ জেতানো ৮২ রান।
দলীয় ১২০ রানের মাথায় তৃতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সাময়িক বিপর্যয় কাটিয়ে সাকিব-তামিমের ব্যাটে এগুতে টাইগাররা। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৩৩তম অর্ধশতক হাঁকিয়ে সাকিব বিদায় নেন ৭২ রান করে। ৭১ বলে চারটি চার আর একটি ছক্কা হাঁকান সাকিব। দলীয় ২৬৪ রানের মাথায় বাংলাদেশ চতুর্থ উইকেট হারায়। সাকিব-তামিম জুটি থেকে আসে ১৪৪ রান।
ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অষ্টম শতক হাঁকিয়ে ১২৭ রানে বিদায় নেন তামিম। কুমারার বলে ইনিংসের ৪৮তম ওভারে গুনাথিলাকার হাতে ধরা পড়েন তামিম। ১৪২ বলে ১৫টি চারের পাশাপাশি তামিমের ইনিংসে ছিল একটি ছক্কার মার। দলীয় ২৮৯ রানের মাথায় টাইগারদের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হয়ে ফেরেন তামিম।
শেষদিকে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ক্যামিয় ইনিংস উপহার দেন। ১৩ বলে তাদের জুটিতে আসে ৩৫ রান। সৈকত ৯ বলে ২৪ এবং রিয়াদ ৭ বলে ১৩ রান করেন। শেষ ১০ ওভারে টাইগার ব্যাটসম্যানরা স্কোরবোর্ডে ১০৯ রান জমা করে।
এ ম্যাচের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডেতে অভিষেক হয় মেহেদি হাসান মিরাজের। তার মাথায় ওয়ানডে অভিষেকের ক্যাপ পড়িয়ে দেন আরেক অফস্পিনিং অলরাউন্ডার মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১৯ বছর বয়সী মিরাজ বাংলাদেশের ১২৩তম ওয়ানডে ক্রিকেটার।তবে ব্যাট হাতে নামার সুযোগ হয়নি তার। বল হাতে অবশ্যই অভিষেক ম্যাচ স্মরণীয় করে রাখতে চাইবেন এই অলরাউন্ডার।
টেস্টে সিরিজ ড্র (১-১) হওয়ার পর এই তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের দিকে তুমুল আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে দুই দল। ডাম্বুলায় আজ থেকে শুরু হওয়া ওয়ানডে সিরিজে বাড়তি শক্তি বদলে যাওয়া টাইগারদের পারফর্ম। শেষবার এই মাঠে ২০১০ সালের এশিয়া কাপে খেলেছিল লাল-সবুজরা। সে আসরের সবক’টি ম্যাচই বাজে ভাবে হারতে হয়েছিল বাংলাদেশকে।
তবে, ২০১০ সালের তুলনায় এই বাংলাদেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্রিকেট বিশ্বকে এখন আর চমকিয়ে দিতে হয় না টাইগারদের। যোগ্যতার প্রমাণ দিয়েই জায়ান্ট দলগুলোর বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে নেয়। মাশরাফির নেতৃত্বে এই বাংলাদেশ এখন অনেক পরিণত আর অভিজ্ঞ।
উল্ল্যেখ্য, ডাম্বুলার এই মাঠে ২৮ মার্চ দ্বিতীয় ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেটি অনুষ্ঠিত হবে ১ এপ্রিল কলম্বোতে।
বাংলাদেশ : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, মুশফিকুর রহিম, সাকিব আল হাসান, সাব্বির রহমান, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মাশরাফি বিন মুর্তজা, মোস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ এবং মেহেদি হাসান মিরাজ।
শ্রীলঙ্কা : উপল থারাঙ্গা, দানুসকা গুনাথিকালা, দিনেশ চান্দিমাল, আসেলা গুনারত্নে, কুশল মেন্ডিস, সাচিথ পাথিরানা, থিসারা পেরেরা, সুরাঙ্গা লাকমাল, লাকসান সান্দাকান, মিলিন্দা সিরিবর্ধানে, লাহিরু কুমারা।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

