সংসদ প্রতিবেদক
কোন আলোচনা ছাড়াই বুধবার জাতীয় সংসদে কোন রাজনৈতিক দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট বিধানসহ ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল পাস হয়েছে, যার ফলে রাজনৈতিক দল হিসেবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর কার্যক্রম নিষিদ্ধই বহাল থাকছে।
মূল সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯-এ আগে কোনো সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণার বিধান থাকলেও তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার স্পষ্ট বিধান ছিল না। এই ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালের ১১ মে সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারি করে।
এর পরদিন, ১২ মে নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর দলটির অঙ্গসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।
সংশোধিত আইনে “কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ” সংক্রান্ত বিধান স্পষ্টভাবে যুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সত্তার পক্ষে বা সমর্থনে— মিছিল, সভা-সমাবেশ; সংবাদ সম্মেলন; গণমাধ্যম, অনলাইন বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণা; প্রকাশনা বা বিবৃতি প্রদানসহ সকল কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।
বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ অংশে বলা হয়েছে, সন্ত্রাসী কার্য প্রতিরোধ এবং সংশ্লিষ্টদের কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনটি সময়োপযোগী করা প্রয়োজন ছিল। সরকার যুক্তিসঙ্গত কারণে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত মনে করলে গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের তালিকাভুক্ত বা নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে পারে—এই বিধান আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। বিল পাসের সময় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ চাইলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তা নাকচ করেন।
স্পিকার রুলিংয়ে বলেন, নির্ধারিত সময়ে আপত্তি বা সংশোধনী প্রস্তাব না আসায় এই পর্যায়ে আলোচনা সম্ভব নয়।
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে বলেন, এটি একটি “সন্ত্রাসী সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ” সংক্রান্ত সংশোধনী। তার বক্তব্যের পর স্পিকারের নির্দেশনায় কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

