Don't Miss
Home / রাজনীতি / ইতিহাসের প্রতি অবিচার, সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতের পথকেও বিপথে নিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

ইতিহাসের প্রতি অবিচার, সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি ভবিষ্যতের পথকেও বিপথে নিতে পারে: প্রধানমন্ত্রী

এমএনএ প্রতিবেদক

ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ইতিহাসের প্রতি অবিচার এবং সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি শুধু অতীতকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং ভবিষ্যতের পথকেও বিপথে নিতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘স্বাধীনতা পুরস্কার ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ইতিহাস বিকৃতির বিরুদ্ধে এই সতর্কবার্তা দেন।

বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। পাশাপাশি যুদ্ধাহত ও পঙ্গু মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি বলেন, দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ জাতির গৌরবের প্রতীক। এ পুরস্কার প্রবর্তনের কৃতিত্ব তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর প্রতি অর্পণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে যাঁরা অবদান রেখেছেন, তাঁদের যথাযথ সম্মান দেওয়া জাতির দায়িত্ব। ইতিহাস বিকৃত বা উপেক্ষা করা হলে তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করবে বলে তিনি সতর্ক করেন।

রাজনৈতিক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক অংশ হলেও তা যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়। জিয়াউর রহমান-এর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, দেশে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে এবং এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

সরকার দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় কাজ করছে বলে জানান তিনি। কর্মসংস্থান সৃষ্টি বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন।

শিক্ষা খাতের অতীতের ‘বিপর্যয়’ কাটিয়ে উঠতে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী—তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই নারী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকারগুলোর একটি।

তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া দলীয় ইশতেহার এবং ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং তা অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করা হবে।

ব্যক্তিগত পরিবর্তনের চেয়ে মানসিকতার পরিবর্তন বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চাপের মধ্যেও জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের কষ্ট লাঘবে সরকার ভর্তুকি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ও আড়ম্বর পরিহারের আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে এবারের স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ১৫ ব্যক্তি ও ৫ প্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী। মরণোত্তর সম্মানপ্রাপ্তদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

এছাড়া খালেদা জিয়া-এর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণের বিষয়টিও অনুষ্ঠানে আলোচনায় আসে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী দেশ ও জনগণের কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বলেন, গুণীজনদের অবদান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

x

Check Also

আনসার বাহিনীর জাতীয় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা, তিন আনসার সদস্য গ্রেপ্তার

গাজীপুর প্রতিনিধি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিকে ...