Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / চরম অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যাভ্যাস ও ভবিষ্যত
পরীক্ষা

চরম অনিশ্চয়তায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যাভ্যাস ও ভবিষ্যত

এমএনএ ফিচার ডেস্কঃ করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত মার্চ মাসের শেষ থেকে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা থমকে গেছে। পর্যায়ক্রমে পিইসি-জেএসসি পরীক্ষা বাতিল হয়েছে ও এইচএসসি পরীক্ষা না নিয়ে ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সর্বশেষ প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষা হবে না বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী। শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টভিত্তিক মূল্যায়ন করে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেছেন, ‘শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্টভিত্তিক মূল্যায়নের জন্য একটি সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রণয়ন করা হয়েছে। আগামী ৩০ কর্মদিসের মধ্যে শেষ করা যায় এমন সিলেবাস প্রণয়ন করেছে এনসিটিবি। সেই সিলেবাস সারাদেশের স্কুলগুলোতে অনলাইনে পাঠানো হবে। স্কুল কর্তৃপক্ষ অনলাইনে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট দেবে। শিক্ষার্থীরা সেই অ্যাসাইনমেন্ট সম্পন্ন করে অনলাইনে স্কুলে জমা দেবে।’

দেশে যখন ‘এ লেভেল’ এবং ‘ও লেভেল’ পরীক্ষা পরীক্ষা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়েছিল, তখন ধারণা করা হচ্ছিল হয়তো কোনো বিকল্প বা ধারাবাহিক পদ্ধতিতে এইচএসসি পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হবে, কিন্তু তা ভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়নের সিদ্ধান্ত হয়। এই এইচএসসি পাসের ফল নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতার জন্য দেশের শিক্ষার্থীরা কতোটুকু যোগ্য হবে বা আদৌ হবে কিনা, তা নিয়ে অনেকে শঙ্কায় আছে।

এরপরে শ্রেণিভিত্তিক বার্ষিক পরীক্ষা বিষয়ে স্কুল-কলেজগুলো একরকম প্রস্তুতি নিয়ে রাখলেও সরকারি সিদ্ধান্তে তাও বন্ধ হয়ে গেল। যেহেতু পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না, সেহেতু সামনের দিনগুলোতে অনলাইন ক্লাসের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ কমে যেতে পারে বলে আমাদের ধারণা। সবমিলিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বিকল্প কোনো পথে না গিয়ে চলমান অচলাবস্থার ধারাবাহিকতায় আটকে থাকলো বললে ভুল হবে না।

করোনাভাইরাসের কারণে ৭ মাসের বেশি সময় ধরে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষের বাইরে। অনলাইন ক্লাসের নামে শিক্ষার্থীদের পাঠ্যাভ্যাস কোনোরকমে টিকে আছে। তবে বহুসংখ্যক শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি সামগ্রী না থাকায় তারা সেই সুবিধা থেকেও বঞ্চিত। শ্রেণিকক্ষে গিয়ে পড়াশোনার অভ্যাস আবার কবে তৈরি হবে, তা যেন এক অনিশ্চিত যাত্রা। অন্যদিকে বেতন-ভাতা ও সরকারি সহায়তার অভাবে বহু বেসরকারি স্কুল-কলেজ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বলে গণমাধ্যমে প্রকাশ। বিষয়গুলো খুবই শঙ্কার।

বিশ্বের বিভিন্ন করোনাক্লান্ত দেশগুলোতেও শিক্ষা কার্যক্রম চালুতে সেসব দেশের সরকার নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী সংখ্যা কমিয়ে ধারাবাহিক শিক্ষা কার্যক্রমসহ পরীক্ষা কার্যক্রম মোটামুটি স্বাভাবিক বলা যায়। যেহেতু করোনার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেই যাচ্ছে সেজন্য হয়তো সরকার ওইপথে যায়নি। তারপরেও এবিষয়ে বিকল্প ও কার্যকর পরিকল্পনা করে সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আমাদের আশাবাদ।

x

Check Also

বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের টিকা পাবেন একজন নার্স

এমএনএ সংবাদ ডেস্ক :  বাংলাদেশে প্রথম করোনাভাইরাসের টিকা ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে দেওয়া ...

Scroll Up
%d bloggers like this: