বিশেষ প্রতিনিধি
সৌদি সরকারের নির্ধারিত হজ ব্যবস্থাপনা রোডম্যাপ অনুযায়ী চলতি বছরের হজ ফ্লাইট আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে। এ উপলক্ষে ১৭ এপ্রিল রাত ১১টা ৩৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ হজ ফ্লাইট কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
উদ্বোধনী ফ্লাইটটি ১৭ এপ্রিল দিনগত রাত ১২টা ২০ মিনিটে (১৮ এপ্রিলের প্রথম প্রহরে) ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে ঢাকার এই বিমানবন্দর থেকে সৌদি আরবের জেদ্দায় অবস্থিত কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এর উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। প্রথম দিনেই মোট ১৪টি ফ্লাইট পরিচালিত হবে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করবে ৬টি, সাউদিয়া ৪টি এবং ফ্লাইনাস পরিচালনা করবে আরও ৪টি ফ্লাইট।
ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হজ ফ্লাইট শুরুর আগেই রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে যাত্রীদের ভিড় বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আগত হজযাত্রীরা বিশেষ করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নিবন্ধিতরা ক্যাম্পে অবস্থান করছেন এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী, মোট হজযাত্রীর ৫০ শতাংশ পরিবহন করবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বাকি ৫০ শতাংশের মধ্যে সাউদিয়া বহন করবে ৩৫ শতাংশ এবং ফ্লাইনাস ১৫ শতাংশ যাত্রী। চলতি বছরে বাংলাদেশ থেকে মোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন হজ পালনের সুযোগ পাচ্ছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাচ্ছেন ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাচ্ছেন ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন।
এই বিপুল সংখ্যক যাত্রীকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সৌদি আরবে পৌঁছে দেওয়া এবং সেখানে তাদের আবাসন, পরিবহন ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। হজযাত্রীদের চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রথম ধাপে ৯৭ সদস্যের একটি সমন্বিত হজ চিকিৎসক দল গঠন করা হয়েছে। এতে রয়েছেন ৪৫ জন চিকিৎসক, ২৪ জন নার্স, ১৬ জন ফার্মাসিস্ট এবং ১২ জন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. আবু শাহেদ মোহাম্মদকে এই দলের প্রধান এবং ইউরোলজি বিভাগের ডা. মফিজুর রহমানকে উপ-প্রধান করা হয়েছে।
এছাড়া ২৪ সদস্যের একটি প্রশাসনিক দল এবং ৩৫ সদস্যের একটি সহায়ক প্রশাসনিক দল গঠন করা হয়েছে। প্রশাসনিক দলের ১৩ জন মক্কায়, ৭ জন মদিনায় এবং ৪ জন জেদ্দায় দায়িত্ব পালন করবেন। সহায়ক দলের ১৭ জন মক্কায়, ১২ জন মদিনায় এবং ৬ জন জেদ্দায় দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি ৯ সদস্যের একটি কারিগরি দল গঠন ও তাদের সৌদি আরব প্রেরণের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রি-হজ ফ্লাইট কার্যক্রম চলবে ২১ মে পর্যন্ত। মোট ২০৭টি ফ্লাইটের মাধ্যমে হজযাত্রীদের সৌদি আরবে নেওয়া হবে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স পরিচালনা করবে ১০২টি, সাউদিয়া ৭৫টি এবং ফ্লাইনাস ৩০টি ফ্লাইট।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। হজ শেষে ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে, যা চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের হজ ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজরদারি আরোপ করা হয়েছে। ফ্লাইট ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন এবং সার্বিক সমন্বয়ে সরকার অতীতের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আরও কার্যকর ও যাত্রীবান্ধব ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীক জানিয়েছেন, হজ ফ্লাইট উদ্বোধনসহ সামগ্রিক প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

