বিশেষ প্রতিনিধি
রাজধানীর মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৭ জুন) সুপ্রিম কোর্ট চেম্বারে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতায় মধ্যস্থতাকারী আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। তিনি বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যৌথ আলোচনার মাধ্যমে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রতিটি পরিবারকে ৮০ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি আগে ঘোষণা করা সহায়তাগুলোও বহাল থাকবে। এরই মধ্যে প্রতিটি পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে দেওয়া হয়েছে।
এর আগে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, নিহত নবজাতকদের পরিবারের সদস্যদের আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা, শিক্ষা সহায়তা এবং যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুযোগ দেওয়া হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের বাবা-মা, ভাই-বোন ও সন্তানরা আদ্-দ্বীন হাসপাতাল এবং এর অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা সুবিধা পাবেন। তবে ওষুধের খরচ এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে না। পরিবারের সদস্যদের জন্য আদ্-দ্বীন পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হবে। উচ্চ খরচের শিক্ষা, এমনকি চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রেও বিশেষ বৃত্তি বা ফি মওকুফের বিষয় বিবেচনা করা হবে। যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরির সুযোগও দেওয়া হবে।
গত ২৭ মে মগবাজার শাখায় ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ তদন্তে বিষয়টিকে “অনাকাঙ্ক্ষিত অবহেলা” হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং দুই কর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
শনিবার তেজগাঁওয়ের হলিডে ইন ঢাকা সিটি সেন্টারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করেন শিশির মনির।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন নার্সসহ দুই কর্মী দায়িত্ব পালনে “পেশাদারিত্বের ঘাটতি” দেখিয়েছেন। পরে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এদিকে, কথিত অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের লাইসেন্স কেন বাতিল করা হবে না—এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) দেওয়া নোটিশ প্রসঙ্গে শিশির মনির বলেন, নোটিশটি “আইনসঙ্গত নয়”। তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জবাব দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় এবং মৌখিক শুনানির সুযোগ চেয়েছে।
ডিজিএইচএসের নোটিশের জবাব দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আরও ৪৮ ঘণ্টা সময় চেয়ে ৯ জুন পর্যন্ত সময় চেয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, সময় বাড়ানোর আবেদন তারা পেয়েছেন। তিনি বলেন, রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত জবাব দেওয়ার সময় ছিল। জবাব না এলে বা সন্তোষজনক না হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হাসপাতালের ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জনস্বার্থ ও রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে একটি ফৌজদারি মামলা হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিহত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, পরিবারগুলো দায়ীদের শাস্তি চায়, তবে হাসপাতাল বন্ধ হোক—এটা তারা চান না। বরং সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

