জনপ্রিয় অভিনেতা টেলি সামাদ আর নেই
Posted by: News Desk
April 6, 2019
এমএনএ রিপোর্ট : ঢাকাই চলচ্চিত্রের দাপুটে কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ মারা গেছেন। আজ শনিবার দুপুর দেড়টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি (ইন্না লিল্লালি…রাজিউন)।
বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
টেলি সামাদের বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তার আসল নাম আবদুস সামাদ। টেলিভিশন থেকে চলচ্চিত্রে পা রাখায় তার নামের আগে যুক্ত হয় ‘টেলি’। সেই থেকে তিনি টেলি সামাদ নামেই পরিচিত, যা তিনি নিজেও আর বদলাননি।
বেশ কিছুদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন সামাদ; শুক্রবার অবস্থা গুরুতর হলে তাকে নেওয়া হয় স্কয়ার হাসপাতালে।
আজ শনিবার দুপুর দেড়টায় চিকিৎসক এই অভিনেতার মৃত্যু ঘোষণা করেন বলে হাসপাতালে যোগাযোগ করে জানা যায়।
স্কয়ার হাসপাতালের কার্ডিওলজিস্ট ডা. কামাল পাশা গণমাধ্যমকে বলেন, ‘শুক্রবার রাতে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। শনিবার সকালে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হলে তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে আমাদের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।”
স্কয়ার হাসপাতালে ডা. প্রতীক দেওয়ানের তত্ত্বাবধানে ছিলেন টেলি সামাদ।
হাসপাতাল থেকে সন্ধ্যায় টেলি সামাদের মরদেহ তার বাসায় নেওয়া হবে। পশ্চিম রাজাবাজার জামে মসজিদে মাগরিবের পর জানাজা হবে।
আগামীকাল রবিবার সকাল ১১টায় এফডিসিতে আরেকটি জানাজা শেষে মুন্সিগঞ্জের নয়াগাঁওয়ে নিয়ে পারিবারিক কবরস্থানে টেলি সামাদকে সমাহিত করা হবে বলে জানিয়েছেন এ অভিনেতার ছেলে দিগন্ত।
টেলি সামাদের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চলতি বছরের শুরুতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) বেশ কিছুদিন ভর্তি ছিলেন। কিছুটা সুস্থ হয়ে সম্প্রতি বাসায় ফিরেন তিনি। সে সময় তিনি ‘স্বাভাবিক জীবনে’ ফিরতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন চিকিৎসকরা।
তারও আগে গত ৪ ডিসেম্বর বুকে ইনফেকশনের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে টেলি সামাদ প্রথমে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। টানা দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে সেখানে তার চিকিৎসা চলে। এরপর টেলি সামাদকে ভর্তি করা হয় বিএসএমএমইউতে। শুরুতে কেবিনে রাখা হয়, পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে আইসিইউতে নেওয়া হয়।
এর আগে ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে টেলি সামাদের বাইপাস সার্জারি করা হয়। এরপর ২০১৭ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফেরেন। দেশে আসার পর অক্টোবর ও নভেম্বরে দুই দফা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। গত বছরের ২০ অক্টোবর জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়েছিল তার বাম পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে।
অসুস্থ টেলি সামাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়ে তার চিকিৎসায় উদ্যোগী হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালে এই অভিনেতার হাতে ২০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র তুলে দেন।
মুন্সীগঞ্জ শহরের উপকন্ঠ নয়াগাঁও এলাকার সন্তান সামাদ। সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠা সামাদ তার বড়ভাই চারুশিল্পী আব্দুল হাইকে অনুসরণ করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায়। সাবেক রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদ অভিনেতা টেলি সামাদের চাচা।
কৌতুক অভিনেতা হিসেবে বেশিরভাগ দর্শক টেলি সামাদকে চিনলেও প্রায় ৪০টির বেশি চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক করেছেন তিনি। ‘মনা পাগলা’ ছবির সংগীত পরিচালনাও করেছেন তিনি।
১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ দিয়ে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় টেলি সামাদের। গত চার দশকে ৬০০ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। সর্বশেষ অভিনীত চলচ্চিত্র ছিল ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জিরো ডিগ্রি’। ১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি ঢাকার বিক্রমপুরে জন্মগ্রহণ করেন এই অভিনয়শিল্পী।
অভিনেতা জনপ্রিয় আর নেই টেলি সামাদ 2019-04-06