Don't Miss
Home / আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ / তেহরানে যৌথ হামলার আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর দাবি, ইরানে নেতৃত্ব সংকটের আশঙ্কা

তেহরানে যৌথ হামলার আয়াতুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর দাবি, ইরানে নেতৃত্ব সংকটের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহতের শীর্ষ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালনের জন্য তিন সদস্যের একটি সাময়িক পরিষদ গঠন করেছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ খবর জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছ, এই পরিষদে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান এবং প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন ফকিহ (আইনবিদ)। তারা সাময়িকভাবে দেশটির নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবেন।

ইরানের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য একাধিক কর্তৃপক্ষ বা সংস্থা কাজ করে থাকে। এর মধ্যে ৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিষদের সদস্যদের প্রার্থিতা যাচাই-বাছাই করে গার্ডিয়ান কাউন্সিল।

দেশটির শাসনতান্ত্রিক নিয়ম অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করে এই অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস। এছাড়া একক কোনও নেতার পরিবর্তে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য তারা প্রয়োজনে একটি ‘নেতৃত্ব পরিষদ’ গঠনের ক্ষমতাও রাখে।

শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম। খামেনির সঙ্গে তার মেয়ে, জামাতা এবং নাতিও এই হামলায় নিহত হয়েছেন।

যৌথ সামরিক অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন—এমন দাবি ঘিরে দেশটিতে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলায় এই ঘটনা ঘটেছে বলে একাধিক সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো সীমিত, এবং স্বাধীনভাবে এসব তথ্য যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

উত্তরসূরি নির্বাচনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়া

ইরানের সংবিধান অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা মৃত্যুবরণ করলে বা দায়িত্ব পালনে অক্ষম হলে তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচন করবে ৮৮ সদস্যের ধর্মীয় পরিষদ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস। ১৯৭৯ সালে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পর এ পরিষদ মাত্র একবারই এ দায়িত্ব পালন করে—প্রতিষ্ঠাতা নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি-এর মৃত্যুর পর।

নতুন নেতা নির্বাচনে ধর্মীয় যোগ্যতা, রাজনৈতিক দক্ষতা, নৈতিক কর্তৃত্ব এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতি আনুগত্য—এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে পরিষদের বৈঠক আয়োজন করাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইরানকে লক্ষ্য করে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সম্ভাব্য উত্তরসূরিদের নাম

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর বিশ্লেষণে সম্ভাব্য কয়েকজন প্রার্থীর নাম উঠে এসেছে—

মোজতবা খামেনি: সর্বোচ্চ নেতার দ্বিতীয় ছেলে। ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং এর স্বেচ্ছাসেবী শাখা বাসিজ-এর সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। তবে তিনি উচ্চপদস্থ আলেম নন এবং কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদেও নেই।

আলিরেজা আরাফি: অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের ডেপুটি চেয়ারম্যান। তিনি আগে প্রভাবশালী গার্ডিয়ান কাউন্সিল-এর সদস্য ছিলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউট-এর বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে তিনি আলোচনায় থাকতে পারেন।

মোহাম্মদ মেহদি মিরবাঘেরি: অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য এবং কট্টরপন্থী আলেম হিসেবে পরিচিত। সংবাদমাধ্যম ইরানওয়্যার তাঁকে পশ্চিমবিরোধী অবস্থানের জন্য উল্লেখ করেছে।

হাসান খোমেনি: প্রতিষ্ঠাতা নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির নাতি। বিপ্লবী ঐতিহ্যের কারণে তাঁর নাম আলোচনায় এলেও অতীতে প্রার্থী হওয়ার অনুমতি পাননি।

হাশেম হোসেইনি বুশেহরি: অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের প্রথম ডেপুটি চেয়ারম্যান। তিনি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রভাবশালী বলে বিবেচিত।

হামলার পেছনে গোয়েন্দা সমন্বয়ের দাবি

প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, হামলার আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) কয়েক মাস ধরে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তেহরানের একটি উচ্চনিরাপত্তা কমপ্লেক্সে শীর্ষ বৈঠকের তথ্য পাওয়ার পর হামলার সময়সূচি পরিবর্তন করা হয়।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, অভিযানে দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস বা সিআইএ আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।

আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব

বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা সত্য হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। ইরানের নেতৃত্বে দ্রুত পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াই এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

তবে সামরিক ও গোয়েন্দা সংক্রান্ত সংবেদনশীলতার কারণে অনেক তথ্যই এখনো অস্পষ্ট। পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটতে পারে—এমন সতর্কবার্তাও দিয়েছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

x

Check Also

আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ...