নীলক্ষেতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন, তীব্র যানজট
Posted by: News Desk
October 8, 2017
এমএনএ রিপোর্ট : নীলক্ষেতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে সপ্তাহের প্রথম দিনেই প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে রাজধানীর কয়েকটি সড়ক। চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষার ফল প্রকাশসহ পাঁচ দফা দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে রাজধানীতে তীব্র যানজট তৈরি হয়েছে। আন্দোলনস্থল নীলক্ষেত গোল চত্বরের চারদিক বন্ধ করে দেয়ায় ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে সকাল ৯টার পর থেকে। এর প্রভাব পড়েছে এর আশপাশ এলাকায়।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ রবিবার সকাল ৯টায় নীলক্ষেত চত্বরে অবস্থান নেন ঢাবি অধিভুক্ত সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা চারদিকে দড়ি দিয়ে রাস্তায় চলাচল বন্ধ করে মাঝখানে অবস্থানে নিয়ে বিক্ষোভ ও স্লোগান দিতে থাকেন। পাঁচ দফা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
আজ রবিবার সকাল ১০টা থেকে বেলা পৌনে ২টা পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে শাহবাগ, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, নীলক্ষেত, আজিমপুর, বুয়েট, প্রেসক্লাব ও ঢাবির টিএসসি এলাকায় যানজট তৈরি হয়েছে। যানজটের কারণে যানবাহনে বসে থাকতে দেখা যায় যাত্রীদের।
আজিমপুর থেকে সাভার, ধামরাই, মানিকগঞ্জ ও গাজীপুরগামী যানবাহনগুলো পড়েছে বিপাকে। নিউমার্কেটে আসার পর রাস্তা বন্ধ থাকায় আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে আটকে থাকতে দেখা যায় মূল সড়কে। নিউমার্কেট এলাকার রাস্তা বন্ধ হওয়ায় দ্রুত এর প্রভাব পড়ে শাহবাগ, ধানমন্ডি এলাকায়।
সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, নীলক্ষেত এলাকা থেকে শিক্ষার্থীরা সরে না যাওয়ায় যানজট কমেনি। যানবাহন চলাচল পরিস্থিতিরও উন্নতি হয়নি। যানজটের কারণে যানবাহন থেকে নেমে অনেক যাত্রী হেঁটে গন্তব্যে যাচ্ছেন। অনেককে যাত্রীবাহী বাস, প্রাইভেটকার ও সিএনজি আটকে থাকতে দেখা যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণেই এ পরিস্থিতি। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন বন্ধ না হলে এ পরিস্থিতির উন্নতিও হচ্ছে না।
শামীম নামে এক যাত্রী জানান, আজিমপুর যাবেন আত্মীয়ের বাসায়। ধামরাই থেকে বাসে নিউমার্কেট পর্যন্ত আসতে পারলেও যানজটের কারণে এক ঘণ্টারও বেশি সময় বাসেই অপেক্ষা করেন তিনি। কিন্তু পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়ায় বাধ্য হয়ে হেঁটে গন্তব্যে রওনা দেন।
অন্যদিকে শাহবাগ মোড়ে কথা হয় বুয়েট শিক্ষার্থী সজিবুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ক্যাম্পাসে যাব কিন্তু যানবাহন চলছে না বললেই চলে। সোনারগাঁও হোটেলের সামনে বাস থেকে তাই নেমে হেঁটে যাই টিএসসি এলাকায়। এরপর রিকশাযোগে ক্যাম্পাসে রওনা দেই।
অন্যদিকে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে আজিমপুর এলাকায় ঢুকতে বিপাকে পড়েন বাসযাত্রী আলমগীর হোসেন। তিনি বলেন, রাস্তা চালু থাকলেও আন্দোলনের কারণে সব যানবাহন আটকে রয়েছে, রিকশা পর্যন্ত চলছে না।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ডিএমপির দক্ষিণ ট্রাফিক বিভাগের নিউমার্কেট এলাকার সহকারী কমিশনার আনিস উদ্দিন বাহাদুর এমএনএকে বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে যান চলাচল বন্ধ। রাস্তায় বেগ পেতে হচ্ছে। যানবাহন আপাতত ডাইভার্সন করে চলাচলে সহযোগিতা করা হচ্ছে। আজিমপুর এলাকা থেকে আসা নিউমার্কেট ও নীলক্ষেত সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে সাইন্সল্যাব হয়ে বের করে দেয়া হচ্ছে। আন্দোলন ও শিক্ষার্থীদের অবস্থান প্রত্যাহার হলে যানজট পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
এর আগে পাঁচ দফা দাবিতে আজ রবিবার সকাল ৯টা থেকে নীলক্ষেতে রাস্তা অবরোধ শুরু করেন শিক্ষার্থীরা। দাবিগুলো হলো- এক হাজার ২০০ ছাত্রের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার, চতুর্থ ও দ্বিতীয় বর্ষের ফল দ্রুত প্রকাশ, একাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রকাশ, তৃতীয় বর্ষের রুটিন প্রকাশ ও অধিভুক্ত সাত কলেজের জন্য স্বতন্ত্র ওয়েবসাইট খোলা।
পরে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দেখা করে তাদের আশ্বস্ত করেন ঢাবি উপাচার্য ড. মো. অধ্যাপক আখতারুজ্জামান। তিনি বলেন, দুঃখ প্রকাশ করছি। তোমাদের ওপর যে দুর্ভোগ তা তোমাদের ওপর বর্তায় না, তা আমাদের ওপরও বর্তায়। আগামী নভেম্বরের মধ্যে রেজাল্ট দেয়া হবে। সম্ভব হলে নভেম্বরের আগেই।
দুপুরে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা বলেন, চতুর্থ বর্ষের স্নাতক পরীক্ষার ফল প্রকাশসহ পাঁচ দফা দাবিতে তাঁরা সকাল নয়টা থেকে নীলক্ষেতের মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোর চতুর্থ বর্ষের ফল গত মে মাসে প্রকাশিত হয়েছে। অথচ তাঁদের ফল এখনো প্রকাশ না হওয়ায় তাঁরা স্নাতকোত্তর শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারছেন না। এ ছাড়া বিসিএস পরীক্ষায় আবেদন করা ছাড়া তারা কোনো নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করতে পারেননি।গত বৃহস্পতিবার তাঁরা পাঁচ দফা দাবিতে শহীদ মিনারে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১১-১২ সেশনের অনার্স শেষ বর্ষের পরীক্ষা গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষা চলাকালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আলাদা হয়ে এই সাতটি কলেজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয়। যে কারণে ফল প্রকাশের দায়িত্ব পায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন। কিন্তু পরীক্ষার নয় মাস পার হলেও এখনও ফল প্রকাশ করা হয়নি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকা সাতটি কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সাত কলেজ হলো ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ। এসব কলেজে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ১ লাখ ৬৭ হাজার ২৩৬ জন শিক্ষার্থী ও ১ হাজার ১৪৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। পরে এসব কলেজের শিক্ষা কার্যক্রমে অব্যবস্থাপনা শুরু হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সিদ্ধান্ত সমালোচিত হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসার পরে পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ নিয়ে নিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হয়। পরীক্ষার সময়সূচি (রুটিন) না দেওয়ায় গত জুলাই মাসে শিক্ষার্থীরা প্রথম দফায় আন্দোলনে নামে। গত ২০ জুলাই পরীক্ষার রুটিনসহ পাঁচ দফা দাবিতে শাহবাগে বিক্ষোভের সময় পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের ছোড়া টিয়ার শেলের আঘাতে চোখ হারান তিতুমীর কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্র সিদ্দিকুর রহমান। ওই বিক্ষোভের ২৩ দিনের মাথায় পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হলেও চোখে আলো ফেরেনি সিদ্দিকুরের। আর কোনো দিন ফিরবে সে সম্ভাবনার কথাও বলেননি দেশে-বিদেশের কোনো চিকিৎসক।
আন্দোলন তীব্র নীলক্ষেতে যানজট শিক্ষার্থীদের 2017-10-08