আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ সত্ত্বেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি—এমনটাই উঠে এসেছে আল জাজিরার এক সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবরোধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১টি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৪টি তেল, গ্যাস ও রাসায়নিকবাহী ট্যাংকার, ১৩টি কার্গো ও কনটেইনার জাহাজ এবং ৪টি বাল্ক কার্গো জাহাজ। এসব জাহাজের একটি বড় অংশই আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা সত্ত্বেও চলাচল অব্যাহত রেখেছে।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, অতিক্রমকারী জাহাজগুলোর মধ্যে ১৪টি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকাভুক্ত। এছাড়া অন্তত ৭টি জাহাজ ইরানের বিভিন্ন বন্দর থেকে যাত্রা করে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়েছে। জাহাজ পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৭টি চীনভিত্তিক, ৬টি ইরানভিত্তিক এবং ৪টি সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বাণিজ্য নেটওয়ার্কের জটিলতা তুলে ধরে।
অন্যদিকে, মার্কিন সামরিক কমান্ড ইউনাইটেড স্টেটস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছিল যে অবরোধের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় কোনো জাহাজই তাদের নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে যেতে পারেনি। তবে নতুন এই তথ্য সেই দাবির সঙ্গে স্পষ্ট বিরোধ তৈরি করেছে।
এদিকে, সামুদ্রিক বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান ট্যাংকার ট্রাকার্স জানিয়েছে, অবরোধ শুরু হওয়ার পরও ইরান প্রায় ৯ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে। তাদের মতে, বিভিন্ন কৌশল—যেমন জাহাজের অবস্থান শনাক্তকারী সিস্টেম (এআইএস) বন্ধ রাখা, জাহাজ-থেকে-জাহাজে তেল স্থানান্তর এবং ভিন্ন পতাকাবাহী জাহাজ ব্যবহার—এর মাধ্যমে এই রপ্তানি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বে মোট জ্বালানি সরবরাহের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে আংশিক চলাচল অব্যাহত থাকলেও, যেকোনো ধরনের উত্তেজনা বা অবরোধ বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
