Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / অর্থনীতি / রিহ্যাব আবাসিক ভবনের আটতলার সর্বোচ্চ সীমা বাতিল চায়
রাজউক

রিহ্যাব আবাসিক ভবনের আটতলার সর্বোচ্চ সীমা বাতিল চায়

এমএনএ অর্থনীতি ডেস্কঃ রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় (ড্যাপ) আট তলার উপরে ভবন না করার যে প্রস্তাব দিয়েছে, তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)।

তারা মনে করে, উচ্চতা সীমিত করার বাধ্যবাধকতা তাদের ব্যবসায় ক্ষতি করবে এবং এর পাশাপাশি রাজধানীর আধুনিক ভবনগুলোকে কেবল উচ্চ আয়ের মানুষের সামর্থ্যের নাগালে রাখবে।

সম্প্রতি এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের নিকট একটি চিঠিতে রিহ্যাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী তাজুল ইসলামের হস্তক্ষেপ কামনা করে।

তারা এ ব্যাপারে তাকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও রিহ্যাবের সাথে আলোচনার অনুরোধ জানায়।

এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলাম রাজউকের ড্যাপ বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক।

সম্প্রতি রাজউক ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে ড্যাপ-২০৩৫ নামে একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব দেয়, যেখানে বলা হয় শহরের সকল আবাসিক ভবনের উচ্চতা হবে সর্বোচ্চ আটতলা।

প্রস্তাবে গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এবং সাভার পৌরসভার আবাসিক ভবনগুলোর উচ্চতা নির্ধারণ করা হয় সর্বোচ্চ ছয়তলা।

যদিও বিশেষ ক্ষেত্রে জনবহুল এলাকাগুলোয় অতিরিক্ত দুই তলা নির্মাণের অনুমোদন দেয়ার কথা বলা হয়েছে।

রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল) ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, তারা মন্ত্রীকে ড্যাপের আটতলা ভবন পরিকল্পনা বাতিল করে ভবন নির্মাণ আইন-২০০৮ অনুযায়ী ‘ফ্লোর এরিয়া রেশিও’ (ফার) বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়েছে।

‘ফ্লোর এরিয়া রেশিও’ হলো একটি ভবনের ব্যবহারযোগ্য এবংঅনুমোদনকৃত জায়গার সাথে উচ্চতার অনুপাত।

এ অনুপাত যত বেশি হবে, ঘন বসতিপূর্ণ এলাকার জন্য ভবন নির্মাণে ততো সহায়ক হবে।

জনাব কাজল বলেন, ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্বের প্রতি বিশেষ নজর দিয়ে ড্যাপের খসড়া পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে।

“ঢাকার জনসংখ্যা প্রায় দুই কোটি ধরে নিয়ে ড্যাপে ঢাকার জনসংখ্যার ঘনত্ব গণনা করা হয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে প্রায় এক কোটি লোক বাস করে আধুনিক পরিকল্পিত আবাসনে আর বাকি এক কোটি বাস করে অপরিকল্পিত বাসস্থান ও বস্তিতে”।

তিনি বলেন, ভবন নির্মাণ আইন-২০০৮ অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে ৮০,০০০ বর্গফুট আয়তনের ভবন নির্মান করা যায়। কিন্তু ড্যাপ বাস্তবায়ন হলে এই পরিমাণ জমিতে নির্মাণ করা যাবে কেবল ৫০,০০০ বর্গফুট ভবন।

“এর ফলে নির্মাণ খরচ বৃদ্ধি পাবে বহুগুণে, এমনকি উচ্চ মধ্যম আয়ের ব্যক্তিরাও ফ্ল্যাট কিনতে পারবেন না”।

বর্তমানে দেশে আবাদযোগ্য জমির ব্যাপক সংকট। ড্যাপের এমন সিদ্ধান্ত এই সংকট আরও বৃদ্ধি করবে বলে তিনি মনে করেন।

রিহ্যাব সভাপতি বলেন, সরকারের উচিত ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণের চেষ্টা করে রাজধানীতে ঘনবসতির চাপ কমানো।

তিনি বলেন, ড্যাপ বাস্তবায়ন কমিটি ও নীতি প্রণয়নকারীরা চায়, ভবন নির্মাণ হোক শহরের বাইরে। কিন্তু শহরের বাইরে সব জায়গায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নেই।

“আমরা ঢাকার বাইরে যেতে প্রস্তুত, কিন্তু বাইরে গ্যাস, পানি, বিদ্যুৎ ইত্যাদি নাগরিক সুযোগ-সুবিধার ব্যপক ঘাটতি রয়েছে। নির্মাণকারীরা কীভাবে এসব এলাকায় ভবন নির্মাণ করবে”।

সম্প্রতি এলজিআরডি মন্ত্রী তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ড্যাপ বাস্তবায়ন কমিটির কয়েকটি সভা হয়েছে।

এলজিআরডি মন্ত্রণালয় সূত্র থেকে জানা যায়, শীঘ্রই সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে আলোচনা শেষে ড্যাপ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

x

Check Also

গুলি

চট্টগ্রাম কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিকদের বিক্ষোভে গুলিতে ৫ জন নিহত

এমএনএ শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্কঃ চট্টগ্রামে বেতন-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভে শ্রমিকদের উপরে গুলি চালিয়েছে পুলিশ। এ ...

Scroll Up