Don't Miss
Home / সারাদেশ / হামে মৃত শিশুদের ৬৩ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম

হামে মৃত শিশুদের ৬৩ শতাংশের বয়স ৯ মাসের কম

এমএনএ প্রতিবেদক

দেশে চলতি বছর হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া শিশুদের বড় একটি অংশের বয়স ছিল ৯ মাসের কম। রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতাল এবং বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে গত ১৫ মার্চ থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া ৮৫ শিশুর বয়স বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, মৃত ৮৫ শিশুর মধ্যে ৫৪ জনের বয়স ছিল ৯ মাসের নিচে, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৬৩ শতাংশ। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব শিশু টিকা গ্রহণের বয়স হওয়ার আগেই হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ২৯ শিশুর মধ্যে ১৯ জনের বয়স ছিল ৯ মাসের কম। বাকি ১০ শিশুর বয়স ছিল ১০ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে। মৃত শিশুদের মধ্যে ২৮ জনই রাজধানীর বাইরের বিভিন্ন জেলা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসেছিল।

অন্যদিকে, রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে ৪৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে বয়স ও অঞ্চলভিত্তিক ৩৪ জনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৯ শিশুর বয়স ছিল ৯ মাসের নিচে এবং বাকি ৫ জনের বয়স ৯ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে। মৃত শিশুদের মধ্যে মাত্র ৫ জন ঢাকার বাসিন্দা, বাকিরা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছিল।

সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এফ এম আসমা খান বলেন, হামে আক্রান্ত হওয়ার পর অধিকাংশ শিশুই নিউমোনিয়ায় ভুগেছে। যেসব শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তাদের প্রায় সবাই অপুষ্টিতে আক্রান্ত ছিল।

তিনি বলেন, “আমাদের দেশে হামের রুটিন টিকা ৯ মাস বয়স থেকে দেওয়া হয়। কিন্তু টিকা পাওয়ার আগেই শিশুরা আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। কেন এমন হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন। সাধারণত শিশু ৯ মাস পর্যন্ত মায়ের শরীর থেকে অ্যান্টিবডি পেয়ে থাকে। সেই সুরক্ষা কার্যকর আছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার।”

ডিএনসিসি কোভিড হাসপাতালে গত ১৫ মার্চ থেকে মারা যাওয়া ২৩ শিশুর মধ্যে ৭ জনের বয়স ছিল ৯ মাসের কম। বাকি ১৬ জনের বয়স ১০ মাস থেকে ৩ বছরের মধ্যে। এ হাসপাতালে এ সময় পর্যন্ত হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে ৪ হাজার ৬৭৯ জন রোগী। এর মধ্যে ৯ মাসের কম বয়সী রোগী ৮০০ জন, যা মোট রোগীর ১৭ শতাংশ।

এ ছাড়া ১০ মাস থেকে ২ বছর বয়সী ১ হাজার ২৪৩ জন, ২ থেকে ৫ বছর বয়সী ৯৫৩ জন, ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী ৬১৪ জন, ১০ থেকে ১৫ বছর বয়সী ৩২৩ জন, ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৪৮৮ জন এবং ৩০ বছরের বেশি বয়সী ২৫৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ডিএনসিসি হাসপাতালে মৃত শিশুদের তথ্য নিয়ে কাজ করা ডা. মাহমুদা ইসলাম স্নিগ্ধা জানান, কয়েকজন শিশু অ্যাসপিরেশন নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত ছিল। শোয়ানো অবস্থায় খাবার খাওয়ানোর কারণে খাবার ফুসফুসে চলে গিয়ে সংক্রমণ তৈরি হয়েছিল। এছাড়া অনেক শিশুর নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কে প্রদাহ, হার্ট ফেইলর ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা ছিল।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখার তথ্যে দেখা গেছে, দেশের ২১ জেলায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর শিকার ৬০ শিশুর মধ্যে ২৯ জনের বয়স ৯ মাসের কম ছিল। এর মধ্যে ১৫ শিশুর বয়স ছিল ছয় মাস বা তারও কম।

জনস্বাস্থ্যবিদ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, “এবারের ভাইরাসটি অনেক বেশি ছড়িয়েছে। আগে টিকার উচ্চ কাভারেজ থাকায় কম বয়সী শিশুরা তুলনামূলক সুরক্ষিত থাকত। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে টিকার কাভারেজ কমে যাওয়ায় ভাইরাসটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সাধারণত বুকের দুধ খাওয়া শিশুরা মায়ের শরীর থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির কারণে অন্তত ৯ মাস পর্যন্ত সুরক্ষিত থাকে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ছয় মাসের পর থেকেই সেই সুরক্ষা কমে যেতে পারে। এবার ছড়ানো ভাইরাসে কোনো নতুন মিউটেশন হয়েছে কি না, তা গবেষণার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে ৪৩৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মারা গেছে ৭০ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ৩৬৯ জন। একই সময়ে দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৩০৫ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে ৫৪ হাজার ৪১৯ জন।

সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এ বিভাগে হাম-সদৃশ উপসর্গে ১৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৪৮১ জন।

x

Check Also

ঈদকে সামনে রেখে অস্থির নিত্যপণ্যের বাজার, ডিম ১৫০ টাকা ডজন

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজারে আবারও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে। এক ...