Don't Miss
Home / জাতীয় / ১ হাজার ৮৬০টিরও বেশি সীমান্ত হত্যার ঘটনা
ভারত দ্বিপক্ষীয়

১ হাজার ৮৬০টিরও বেশি সীমান্ত হত্যার ঘটনা

এমএনএ জাতীয় ডেস্ক : অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে প্রতিবেশী দুই দেশ বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভালো সময় যাচ্ছে। যাকে দুই দেশই ‘সম্পর্কের সোনালি অধ্যায়’ বলছে। কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ এই সম্পর্কের মধ্যেও সীমান্ত হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। বিগত ১৯৭২ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত কমবেশি ১৮৬০টি সীমান্ত হত্যার ঘটনা ঘটেছে। যা নিয়ে নয়াদিল্লির কাছে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা।

নয়াদিল্লিও একাধিকবার কথা দিয়েছে যে সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও বলেছেন যে সীমান্তে প্রাণঘাতী কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা হবে না। কিন্তু সীমান্ত হত্যা থামছে না। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এমন ঘটনাকে ভারতের জন্য লজ্জাকর বলে গতকাল উল্লেখ করেন। আর ঢাকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, সীমান্ত হত্যা বন্ধের জন্য ভারতের ইচ্ছাই যথেষ্ট। চলমান নভেম্বরে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহীনী বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি উত্তরাঞ্চলীয় জেলা লালমনিরহাটে সীমান্তে হত্যার শিকার হয়। এর ৯ দিন আগে গত দুই নভেম্বর দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলা সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করে বিএসএফ।

বেসরকারি সংস্থা আইন ও শালিস কেন্দ্র (আসক), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিজ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত সিজিএস পিস প্রতিবেদন, ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দু এবং সরকারি তথ্য অনুযায়ী বিগত ১৯৭২ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত কমবেশি ১৮৬০টি সীমান্ত হত্যার ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে চারজন সীমান্ত হত্যার শিকার হন। এরপরের মাসগুলোতেও অনাকাক্সিক্ষত এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

সিজিএস পিসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীমান্ত হত্যা কমতে থাকলেও ২০১৯ থেকে আবারও বাড়ছে। গত ২০১৯ সালে জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, গত ১০ বছরে সীমান্তে বিএসএফের হাতে ২৯৪ জন প্রাণ হারান। যার মধ্যে ২০০৯ সালে ৬৬, ২০১০ সালে ৫৫, ২০১১ সালে ২৪, ২০১২ সালে ২৪, ২০১৩ সালে ১৮, ২০১৪ সালে ২৪, ২০১৫ সালে ৩৮, ২০১৬ সালে ২৫, ২০১৭ সালে ১৭ ও ২০১৮ সালে ৩ জন বাংলাদেশি বিএসএফের গুলিতে হত্যার শিকার হন। আসক জানিয়েছে, ২০১৯ সালে ৪৩ জন এবং ২০২০ সালে ৪২ জন বাংলাদেশি সীমান্ত হত্যার শিকার হন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি, সীমান্ত হত্যা বন্ধ নিয়ে ভারত-বাংলাদেশের দুই দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে অঙ্গীকার রয়েছে। কিন্তু তারপরও সীমান্ত হত্যা বন্ধ হচ্ছে না। আমাদের জন্য দুঃখজনক, ভারতের জন্য এটা লজ্জার।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার কিছু বলার নেই। সীমান্ত হত্যা নিয়ে ভারত সবসময় মন্তব্য করে এসেছে, জীবন বাঁচানোর শেষ উপায় হিসেবে বিএসএফ গুলি চালায়।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গত মার্চে বাংলাদেশ সফরে এসে ওই সময়ের ২৮ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, ‘ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, সীমান্তে অবাধ বাণিজ্য হলে এবং সে জন্য প্রচুর সীমান্ত হাট চালু করতে পারলে সীমান্তে হত্যার মতো ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।’এর আগে, গত ডিসেম্বরে ভার্চুয়াল পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

শীর্ষ বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘আমরা বহুবার সীমান্ত হত্যার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতকে জানিয়েছি, আজকের বৈঠকেও এই ইস্যু তুলেছি। বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন যে সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার নির্দেশ আবার জারি করবেন’।

ওই সময়ের শীর্ষ বৈঠক শেষে ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন ১৭ ডিসেম্বর জানায়, ‘ভারত আশ্বাস দিয়েছে যে, বিএসএফ সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করবে এবং সম্ভাব্য প্রাণঘাতী অস্ত্রকে আত্মরক্ষার্থে শেষ সম্বল হিসেবে ব্যবহার করার মাধ্যমে কঠোর প্রটোকল অনুসরণ করবে।’

সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার চাইলেই সীমান্তে হত্যা বন্ধ করতে পারে। তারা কেন চায় না সেটা জানি না। এর আগে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষবর্ধন শ্রীংলা বলেছিলেন যে সীমান্তে বাংলাদেশি মানুষের পাশাপাশি ভারতীয়রাও হত্যার শিকার হচ্ছে। কিন্তু এগুলো অদ্ভুত যুক্তি। সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতের সদিচ্ছাই গুরুত্বপূর্ণ।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লাইলুফার ইয়াসমিন এই প্রতিবেদককে বলেন, ‘এই ইস্যুতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত মার্চে ঢাকায় এসে বলেছিলেন যে সীমান্তে নো ক্রাইম, নো বর্ডার কিলিং। এরপর ভারতের প্রধানমন্ত্রীও সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার না করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এখনও সীমান্তে উত্তেজনা বিরাজ করছে।’

x

Check Also

দিল্লি বিমানবন্দরে অপেক্ষায় রাখার প্রতিবাদে ফিরে এসেছি: জাহেদ উর রহমান

এমএনএ প্রতিবেদক ভারতের দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখার ঘটনাকে হয়রানিমূলক ...