Don't Miss
Home / সারাদেশ / অফিসার্স মেসে পুলিশ কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু

অফিসার্স মেসে পুলিশ কর্মকর্তার রহস্যজনক মৃত্যু

রাজশাহী ব্যুরো প্রতিবেদক : রাজশাহী মহানগর পুলিশ অফিসার্স মেসে জানালার সঙ্গে গলায় দড়ি বাঁধা সোফায় বসা অবস্থায় পুলিশের সহকারী কমিশনার সাব্বির আহম্মেদ সরফরাজের লাশ আজ শনিবার উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি রাজপাড়া থানার তদারককারী কর্মকর্তা ছিলেন।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার ইফতেখায়ের আলম গণমাধ্যমকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। সাব্বির আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে তিনি জানান।

ইফতেখায়ের আলম গণমাধ্যমকর্মীদেরকে জানান, আজ শনিবার সকাল ৯টার দিকে সহকর্মীরা জানালা দিয়ে তার লাশ দেখতে পান।

সাব্বির আহম্মেদ সরফরাজ নগরীর রাজপাড়া থানা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন। বাড়ি নগরীর ভদ্রা পদ্মা আবাসিক এলাকায়। সরফরাজের বাবা এম ওবায়দুল্লাহ পুলিশের সাবেক ডিআইজি ছিলেন। তবে তিনি দিনাজপুর জেলা কোটায় পুলিশে চাকরি নেন।

পুলিশ কর্মকর্তা ইফতেখায়ের আলম সাংবাদিকদের বলেন, সাব্বিরের কক্ষের ভেতরে তার লাশ সোফায় বসা অবস্থায় দেখা গেছে। গলায় নাইলনের একটি চিকন দড়ি বাঁধা আছে, যার অপর অংশ জানালার গ্রিলের সঙ্গে বাঁধা।

পুলিশ অফিসার্স মেসে তার ঘরের দরজা বন্ধ ছিল। সকাল ১০টার পর তার অন্য সহকর্মী অফিসাররা জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো তার মরদেহ দেখতে পেয়ে মেস কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়। সাব্বির আত্মহত্যা করেছেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

এভাবে আত্মহত্যার কোনো নজির আছে কিনা সে বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি এ পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহরের শ্রীরামপুর এলাকায় পুলিশ অফিসার্স মেসে নিজের কক্ষের জানালার গ্রিলের সঙ্গে দড়ি দিয়ে ফাঁস লাগানো অবস্থায় ছিলেন সাব্বির।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এনামুল হক ঘটনাস্থলে যান। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ আছে। ওই কক্ষে ঢোকার আর কোনো রাস্তা না থাকলে এবং শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া না গেলে এটাকে আত্মহত্যা বলা যাবে। তবে এটি আত্মহত্যা কী না- তা এখনো বোঝা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের পর বিষয়টি সম্পর্কে স্পষ্ট হওয়া যাবে।

সহকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে, সাব্বির বিবাহিত। তাঁর একটি ছেলে আছে। তিনি পরিবার নিয়ে রাজশাহী শহরের বাসায় থাকতেন। গতকাল শুক্রবার রাতে তাঁর ডিউটি ছিল। ডিউটি শেষে তিনি পুলিশ অফিসার্স মেসে যান।

ইফতে খায়ের আলম জানান, সরফরাজের বাবা এম ওবাইদুল্লাহ ঢাকা থেকে ইউএস বাংলার বিকেল ৩টা ১০এর ফ্লাইটে রাজশাহী পৌঁছাবেন। রাজশাহীতে তার পৌঁছানোর কথা রয়েছে ৩টা ৫০মিনিটে। সরফরাজের বাবার অনুরোধের কারণে তার মরদেহ এখনো রুম থেকে বের করা হয়নি। তিনি এলেই তখন এসি সরফরাজের মরদেহ বের করা হবে।

আরএমপির ঊর্ধ্বতন একটি সূত্র জানায়, সরফরাজ শনিবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালন শেষে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগার সংলগ্ন পুলিশ অফিসার্স মেসে আসেন। সকাল সাড়ে ৫টা থেকে সকাল ১০টার মধ্যে কোনো এক সময় আত্মহত্যা করেন।

এরপর বিষয়টি আরএমপির ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়। মৃত্যুর খবর পাবার পর সরফরাজের স্ত্রী সূচনা, খালা এবং নিকটাত্মীয়রা পুলিশ অফিসার্স মেসে আসেন। এসময় তারা কান্নায় ভেঙে পড়েন।

সরফরাজের গ্রামের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার বাবুপুর গ্রামে। সরফরাজ নগরীর উপশহরের একটি বাসায় স্ত্রী ও চারবছরের এক মেয়েকে নিয়ে থাকতেন।

৩১তম বিসিএস উত্তীর্ণ হয়ে সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে পুলিশ বিভাগে যোগ দিয়েছিলেন সরফরাজ। সরফরাজের মা ফাতেমা বেগম রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) সাবেক মহাব্যবস্থাপক ছিলেন। ছোট ভাই মার্কিন দূতাবাসে কর্মরত। বাবা এম ওবাইদুল্লাহ পুলিশের সাবেক ডিআইজি ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবে বছর দুয়েক আগে অবসরে যান।

x

Check Also

ব্যাংক রেজুলেশন আইন ২০২৬ দুর্নীতি সহায়ক, লুটেরাদের পুনর্বাসন আত্মঘাতী: টিআইবি

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক সদ্য পাস হওয়া ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনার ...