Don't Miss
Home / রাজনীতি / আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

এমএনএ রাজনীতি ডেস্কঃ আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করতে মনোনয়ন বোর্ডের বৈঠকে যোগ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার (২৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার পর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এ সভা শুরু হয়।

সভায় রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সংসদীয় আসনগুলোর মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হবে। টানা তিনদিন চলবে সংসদীয় মনোনয়ন বোর্ডের এ সভা। আজকের পর ধাপে ধাপে বাকি বিভাগগুলোর প্রার্থী চূড়ান্ত করবে আওয়ামী লীগ।

বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতাকে হত্যার পর দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার এবং ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। ক্ষমতা দখলকারীরা উর্দি খুলে হঠাৎ রাজনীতিবিদ হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করেই সংবিধান স্থগিত করে মার্শাল ল জারি করে। হ্যাঁ/না ভোটের আয়োজন করে। সে সময় ভোটের না বাক্স খুঁজেই পাওয়া যায়নি। তারা গণতন্ত্রের নামে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে।’

শেখ হাসিনা প্রশ্ন তোলেন, ‘আজ আন্তর্জাতিকভাবে অনেক দেশ কথা বললেও যখন মিলিটারি ডিক্টেটররা মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ন করেছিল তখন তাদের চেতনা কোথায় ছিল?’

তিনি বলেন, ‘ভোটচুরির অপরাধে খালেদা জিয়াকে ১৯৯৬ সালের ৩০ মার্চ পদত্যাগ করতে হয়েছে।’

বিএনপির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির মাথা কোথায়? আচ্ছা আমি একটা কথা বুঝি না, বিএনপি কি একটা লোককেও পেল না যে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে দলের চেয়ারম্যান করে রেখেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনে আসেন। কার কত দৌঁড়, সেটা আমরা দেখতে চাই। এরই মধ্যে যারা নির্বাচনে আসার ঘোষণা দিয়েছেন, তাদেরকে আমি স্বাগত জানাই। ধন্যবাদ জানাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মানুষের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছে। ভোটে স্বচ্ছতা রক্ষায় ছবিসহ ভোটার তালিকা করেছে। অথচ ভোট চুরির অপরাধে খালেদা জিয়াকে ১৯৯৬ সালের ৩০ শে মার্চ পদত্যাগ করতে হয়েছিলো।’

তিনি বলেন, ‘একসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করতে আওয়ামী লীগ সরকার আইন করে দিয়েছে। যে নির্বাচন কমিশনের অধীনে এখন দেশে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কমিশনকে স্বাধীন করতে যা যা করার আমরা তাই করেছি। নির্বাচনে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে আওয়ামী লীগ সবকিছু করেছে। কমিশন বা তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান কে হবে সেটা আমরা আইন করেছি। যে ক্ষমতা একসময়ে ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে ছিলে সেটা আমরা জনগণের হাতে এনে দিয়েছি।’

নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদেরকে জনগণকে সেবা করার সুযোগ দেবেন। আর সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে আপনাদের সোচ্চার হতে হবে। যেখানেই অগ্নিসন্ত্রাস হবে, কেউ এ ধরনের কাজ করতে যাবে, তাদেরকে শিক্ষা দিতে হবে। আমি বলছি না, আইন হাতে তুলে নেবেন। আপনারা তাদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেবেন।’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ‘যারা এখনও দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন, তাদেরকেও বলবো, আসেন, নির্বাচনে আসেন। কোনো ‍দ্বিধাদ্বন্দ্ব নেই। আমরা বিদেশি পর্যবেক্ষকদের আসতে বলেছি। তাতে কোনো অসুবিধা নেই।’

এ সময় নিজের সরকারের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘একসময় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা নির্বাচন কমিশনকে স্বাধীন করতে আওয়ামী লীগ সরকার আইন করে দিয়েছে। এতে ৮২টি সংশোধনী এনে অবাধ নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের উপযোগী করা হয়। সেই আইনের অধীনে এখন দেশে নির্বাচন কমিশন গঠিত হয়।’

এর আগে, যদিও মনোনয়ন বোর্ডের সভা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবনে হওয়ার কথা ছিলও। কিন্তু তিনি গণভবনে রাজনৈতিক কোনো কাজ করবেন না বলে জানিয়েছেন। এ কারণে সভাটি ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে হবে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচনে মনোনয়নপত্র ফরম দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। এ জন্য দুদিন সময় হাতে রেখে প্রার্থীদের নাম চূড়ান্ত করতে চায় ক্ষমতাসীনরা।

x

Check Also

১০০টি উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ স্থাপনসহ একনেকে ৭ হাজার কোটি টাকার ৫ প্রকল্প অনুমোদন

এমএনএ প্রতিবেদক জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ৭ হাজার ৩ কোটি ৩৬ লাখ ...