ইনিংস ব্যবধানে জিতল বাংলাদেশ
Posted by: News Desk
February 25, 2020
এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : স্পিনার নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলামের বোলিং তোপের সামনে দাঁড়াতেই পারল না জিম্বাবুয়ে। সেই সঙ্গে যোগ হলো তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম আর মুমিনুল হকের দুর্দান্ত ফিল্ডিং। সবমিলিয়ে দুর্দান্ত দলীয় পারফরম্যান্সে ভর করে জিম্বাবুয়েকে এক ইনিংস ও ১০৬ রানের ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। এই নিয়ে টানা ৬ টেস্ট এবং দীর্ঘ প্রায় এক বছর পর জয়ের দেখা পেল টাইগাররা।
২০১৮ সালের ডিসেম্বরে এই মিরপুরেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানেই এসেছিল সর্বশেষ জয়। এর মধ্যে আফগানদের মতো নবীন দলের বিপক্ষেও হারের মুখ দেখতে হয়েছিল। ফলে এবারের জয়টি টাইগারদের জন্য তৃপ্তির উপলক্ষ হয়েই এলো।
আজ মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) ঢাকা টেস্টের চতুর্থ দিনে দিনের শুরু থেকেই জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরেন বাংলাদেশি স্পিনাররা। দিনের শুরুতে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নামা জিম্বাবুয়ের তৃতীয় উইকেটটি তুলে নেন তাইজুল ইসলাম। আগের দিনের অপরাজিত থাকা কেভিন কাসুজাকে মোহাম্মদ মিঠুনের ক্যাচে পরিণত করেন এই বাঁহাতি স্পিনার।
লাঞ্চে যাওয়ার আগে সফরকারী দলনেতা ক্রেইগ আরভিনকে রান আউটের ফাঁদে ফেলে বিদায় করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মুমিনুল হক। ৪৯ বলে ৪৩ করেন আরভিন। দলীয় ৪৪ রানে নাঈম হাসানের আঘাতে ব্র্যান্ডন টেইলরকে হারায় জিম্বাবুয়ে। ৪৭ বলে ১৭ রান করা টেইলরকে তাইজুল ইসলামের ক্যাচে ফেরান নাঈম।
লাঞ্চ থেকে ফিরে সিকান্দার রাজাকে মাঠ ছাড়া করান তাইজুল ইসলাম। ৭১ বলে ৩৭ রানে করা রাজা তুলে মারতে গেলে শটে থাকা মুশফিকুর রহিম দুর্দান্ত এক ক্যাচ লুফে তাকে বিদায় করেন। কার্যত সেখানেই শেষ হয় জিম্বাবুয়ের সব প্রতিরোধ। এরপর ১৮ রান করে তাইজুলের তৃতীয় শিকারে পরিণত হন রাগিস চাকাভা।
চাকাভার বিদায়ের পর ৫ রান যোগ হতেই আইন্সলে এনলভোকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন নাঈম। এরপর নাঈমের বলে গলার কাঁটা হয়ে থাকা মারুমার (৪১) তুলে মারা শট দারুণ দক্ষতায় লুফে নেন তামিম। আর এরই মাধ্যমে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো এক ইনিংসে পাঁচ উইকেট তুলে নেওয়ার কীর্তি গড়লেন তরুণ নাঈম। এরপর চার্লটনকে বিদায় করে জিম্বাবুয়ের ইনিংস গুটিয়ে দেন তাইজুল।
বল হাতে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেট মিলিয়ে বাংলাদেশের নাঈম দুই ইনিংস মিলিয়ে ১৫২ রান খরচে তুলে নিয়েছেন ৯ উইকেট। এই তরুণ স্পিনারের এটা ক্যারিয়ার সেরা বোলিং।
জিম্বাবুয়ে এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৬৫ রানে অলআউট হয়। তবে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে মুশফিকুর রহিমের ডাবল সেঞ্চুরি ও মুমিনুল হকের সেঞ্চুরিতে ভর করে রান পাহাড় গড়ে। ৬ উইকেট হারিয়ে ৫৬০ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে। পরে জিম্বাবুয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে তৃতীয় দিনের শেষে ৯ রানে দুই উইকেট হারিয়ে মাঠ ছাড়ে।
জিম্বাবুয়েও আরও একবার টাইগার স্পিন বিষেই নীল হলো। নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলাম ঘূর্ণিতে মিরপুর টেস্টে চতুর্থ দিনের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতেই বাংলাদেশ তুলে নিল ইনিংস ও ১০৬ রানের বড় জয়। টেস্টে যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস জয়ের কীর্তি। এর আগে ২০১৮ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে রেকর্ড গড়ে ইনিংস ও ১৮৪ রানের জয় তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ।
চতুর্থ দিনের শেষ বেলায় বাংলাদেশ ২৯৫ রানের লিড নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে। মুমিনুল হকের করা ১৩২ রান এবং দলের সেরা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিমের ২০৩ রানে ভর করে ৬ উইকেট হারিয়ে ৫৬০ রান তোলে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসে করা ২৬৫ রান শোধ দিয়ে নেয় বড় লিড। তারপরও মুশফিকের আক্ষেপ ছিল। ট্রিপল সেঞ্চুরির একটা ভালো সুযোগ এসেছিল তার সামনে। ক্যারিয়ার তিনটি ডাবল সেঞ্চুরি করলেও ব্যক্তিগত রানটা বড় হয়নি কোনবার।
তবে আবহাওয়া খুব একটা ভালো ছিল না। গতকাল সোমবারসহ টেস্টের চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে ছিল বৃষ্টির পূর্বাভাস। মুমিনুলরা তাই কিছুটা এগিয়ে থাকতে চেয়েছিলেন। আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে থেমে থেমে ছিটে ফোঁটা বৃষ্টিও পড়েছে। কিন্তু ম্যাচে তা ফেলতে পারেনি বিশেষ প্রভাব। বরং তৃতীয় দিনের শেষ বেলায় ৯ রানে দুই উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে চতুর্থ দিন মেঘলা দিনে নাঈম হাসান ও তাইজুল ইসলামের ঘূর্ণিতে বিপাকে পড়ে যায়। মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে আজ মঙ্গলবার শুরু থেকে জিম্বাবুয়ের ব্যাটসম্যানদের চেপে ধরে বাংলাদেশি স্পিনাররা। ৫৭.৩ ওভারে ১৮৯ রানে তুলে নেয় জিম্বাবুয়ের সবকটি উইকেট।
চতুর্থ দিন ব্যাটে নামা জিম্বাবুয়ে ষষ্ঠ ওভারে দিনের প্রথম উইকেট হারায়। স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলে কেভিন কাসুজা ফিরে যান। এরপর জিম্বাবুয়ের দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেইলর ও অধিনায়ক ক্রেগ আরভিনের জুটি গড়তে হতো। তারা আশাও দিচ্ছিলেন। কিন্তু ১৭ রান করা টেইলরকে সাজঘরে ফেরান নাঈম হাসান। শুরুর গুরুত্বপূর্ণ চারটি উইকেট পতনের পর জুটি গড়ার চেষ্টায় ছিলেন ক্রেইগ আরভিন। কিন্তু তিনি ফিরে যান রান আউটে। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা আরভিন করেন ৪৩ রান।
আরভিন ফিরে যেতেই যেন জিম্বাবুয়ে ইনিংস হার দেখতে শুরু করেন। পরে সিকান্দার রাজা কিংবা মারুমারা মেঘলা আকাশে অন্ধকার হয়ে আসা পরিবেশ দলকে একটু আলো দেখান। কিন্তু রাজা ৩৭ রান করে এবং টিমিসেন মারুমা ৪১ রান করে আউট হলে সব আশা শেষ হয়ে যায় তাদের। পরের উইকেট তিনটি পেতে বেগ পেতে হয়নি নাঈম-তাইজুলের। বাংলাদেশ দলে থাকা দুই স্পিনার নাঈম এবং তাইজুল মিলে তুলে নেন জিম্বাবুয়ের সবকটি উইকেট। প্রথম ইনিংসে চার উইকেট নেওয়া নাঈম হাসান দ্বিতীয় ইনিংসে তুলে নেন পাঁচ উইকেট। তাইজুল ইসলাম প্রথম ইনিংসে শেষের দুটি উইকেট নেন। তবে দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি তুলে নেন প্রতিপক্ষের চার উইকেট।
প্রথম ইনিংসের হতাশা ভুলে দ্বিতীয় ইনিংসে তাইজুলের শিকার ৪টি। বাংলাদেশের দুই স্পিনার মিলে ম্যাচে নিয়েছেন ১৫ উইকেট।
বাংলাদেশের পরের টেস্ট এপ্রিলের শুরুতে পাকিস্তানের বিপক্ষে। করাচিতে চ্যালেঞ্জ হবে আরও অনেক কঠিন। তবে সেই পরীক্ষার জন্য অন্তত আত্মবিশ্বাসের রসদ মিলতে পারে এই জয় থেকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর :
জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংস : ২৬৫
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৫৬০/৬ (ইনিংস ঘোষণা)
জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংস : ৫৭.৩ ওভারে ১৮৯ (আগের দিন ৯/২) (মাসভাউরে ০, কাসুজা ১০, টিরিপানো ০, টেইলর ১৭, আরভিন ৪৩, রাজা ৩৭, মারুমা ৪১, চাকাভা ১৮, এনডিলোভু ৪, টিশুমা ৩, নিয়াউচি ৭*; নাঈম ২৪-৬-৮২-৫, তাইজুল ২৪.৩-৭-৭৮-৪, আবু জায়েদ ৪-৩-৪-০, ইবাদত ৫-১-১৬-০)
ফল : বাংলাদেশ ইনিংস ও ১০৬ রানে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ : মুশফিকুর রহিম
বাংলাদেশ জিতল ব্যবধানে ইনিংস 2020-02-25