Don't Miss
Home / হোম স্লাইডার / এফ আর টাওয়ারের মালিক তাসভীর গ্রেপ্তার

এফ আর টাওয়ারের মালিক তাসভীর গ্রেপ্তার

এমএনএ রিপোর্ট : নকশা জালিয়াতির এক মামলায় রাজধানীর বনানীর এফ আর টাওয়ারের অন্যতম মালিক তাসভীর উল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাসভির অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত বনানীর এফআর টাওয়ারের অন্যতম মালিক এবং কাসেম ড্রাইসেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

আজ রবিবার বিকেল পৌনে ৪টার দিকে সেগুনবাগিচা থেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) উপ-পরিচালক মো. আবুবকর সিদ্দিকের নেতৃত্বে একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।

দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, এফ আর টাওয়ারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তাসভীরকে বিকেলে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত ২৮ মার্চ এফ আর টাওয়ারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৭ জনের মৃত্যু হয়।

নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে এফআর টাওয়ারটিতে কয়েকটি তলা বাড়ানোর অভিযোগে গত ২৫ জুন তাসভিরসহ ২৩ জনের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা করেন দুদক কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দিক। এর মধ্যে এক মামলায় রাজউকের ভুয়া ছাড়পত্রের মাধ্যমে এফআর টাওয়ারকে ১৯ তলা থেকে বাড়িয়ে ২৩ তলা করা, উপরের ফ্লোরগুলো বন্ধক দেয়া এবং বিক্রি করার অভিযোগে ২০ জনকে আসামি করা হয়।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এফ আর টাওয়ার নির্মাণে নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে গত ২৫ জুন দুটি মামলা করে দুদক। দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থার উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিকিকে দায়ের করা ওই মামলায় ২৩ জনকে আসামি করা হয়। তার মধ্যে অন্যতম আসামি হলেন কাসেম ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও ভবনটির অন্যতম মালিক তানভীর-উল-ইসলাম।

মামলা দুটির বাকি ২২ আসামি হলেন- রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন খাদিম ও কে এ এম হারুন, এফ আর টাওয়ারের মালিক এস এম ফারুক, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী মুকুল, রাজউকের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান, সাবেক অথরাইজড অফিসার-২ সৈয়দ মকবুল আহম্মেদ, সৈয়দ নাজমুল হুদা, সামছুর রহমান, সাবেক প্রধান ইমারত পরিদর্শক মাহবুব হোসেন সরকার, সাবেক ইমারত পরিদর্শক আওরঙ্গজেব সিদ্দিকী, নজরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (এস্টেট) রেজাউল করিম তরফদার ও আ ই ম গোলাম কিবরিয়া, সাবেক পরিচালক (এস্টেট) শামসুল আলম ও আব্দুল্লা আল বাকী, সাবেক উপপরিচালক (এস্টেট) মুহাম্মদ শওকত আলী, সাবেক সহকারী পরিচালক শাহ মো. সামসুল আলম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক (এস্টেট) জাহানারা বেগম ও মোফাজ্জেল হোসেন, সাবেক পরিদর্শক মেহেদউজ্জামান, নিম্নমান সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক মুহাম্মদ মজিবুর রহমান মোল্লা ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. এনামুল হক।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, অবৈধ নকশায় তৈরি হয়েছে এফ আর টাওয়ার। ১৫তলা থেকে গড়ে তোলা হয়েছে ২৩তলা। ১৫তলা নকশার অনুমোদনও মানা হয়নি কোনো নীতিমালা। নেই ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদফতর ও সিভিল অ্যাভিয়েশনের অনুমোদন।

এছাড়া ১৮ থেকে ২৩তলা নির্মাণের কোনো তথ্যই নেই রাজউকের কাছে। জমির মালিক ও ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি প্রশাসনের নাকের ডগায় নিজ সিদ্ধান্তে নির্মাণ করেছে বাকি পাঁচতলা। যারা আসামি হয়েছেন তারা ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।

চলতি বছরের ২৮ মার্চ দুপুরে এফ আর টাওয়ারে আগুন লাগে। এতে ২৭ জন নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই বনানীর এফ আর টাওয়ার নকশা অনুমোদনে জমির মালিক এস এম এইচ আই ফারুক হোসেন ও রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী খান মুকুল, কাশেম ড্রাইসেল ব্যাটারির মালিক ও এফ আর টাওয়ারের বর্ধিত অংশের মালিক তাসভীর-উল-ইসলাম এবং রাজউকের সংশ্লিষ্ট ইমারত পরিদর্শকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

x

Check Also

মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার দ্রুত চালুতে সরকারের জোর তৎপরতা: উপদেষ্টা মাহদী

এমএনএ প্রতিবেদক মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার দ্রুত পুনরায় চালু করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে ...