এমএনএ রিপোর্ট : এবারের গ্রীষ্ম যেনো রুদ্র রোষে আবির্ভূত হয়েছে সারাদেশে। সূর্যের শরীর থেকে নির্গত তাপের মাত্রা বাড়ছে নিত্য দিনই। আজ রবিবার দুপুরে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজধানী ঢাকায়। চলতি সপ্তাহের শেষ নাগাদ ৪৬ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা উঠবে বলে আবহাওয়ার পূর্বাবাসে বলা হয়েছে।
আজ রবিবার রাজধানী ঢাকার ৩৮ ডিগ্রি হলেও বাতাসে আদ্রতা কম থাকায় গরম অনুভূত হচ্ছে আরো বেশি। ৩৮ ডিগ্রি তাপমাত্রা কোথাও ৪২ ডিগ্রি, কোথাওবা ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো অনুভূত হচ্ছে শরীরে।
আবহাওয়ার পূর্বাবাসে বলা হচ্ছে, আগামীতে তাপমাত্রা আরো বাড়বে। আগামী বুধবার নাগাদ ৪৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠে যেতে পারে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। পরদিন শুক্রবারও তা ৪৫ ডিগ্রির ঘরেই থাকার সম্ভাবনা বেশি।
আরো প্রায় এক পক্ষকাল এভাবেই ভোগাবে চামড়া পোড়ানো গরম।
এ সময় দেশের কোনো কোনো এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে একটু আধটু বৃষ্টি হতে পারে বটে, তবে সেই ছিটেফোটা বৃষ্টি গরমের পারদ নামাতে সক্ষম হবে না।
বাতাসের গতি এখন ৯ থেকে ১৫ কিলোমিটার। তবে দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রবাহিত এই বাতাসে বর্তমানে আদ্রতা কম থাকায় রোদের তাপ বেশি প্রখর মনে হচ্ছে। যদিও দমকা হাওয়ার আদলে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পর্যন্ত হঠাৎ উঠে যাওয়া বাতাসের বেগ মোটামুটি প্রশান্তি ছড়াচ্ছে শরীরে।
অতিরিক্ত গরমের কারণে শরীরে জ্বালাপোড়া থেকে শুরু করে ত্বকজনিত বিভিন্ন সমস্যা বাড়ছে। প্রকোপ বাড়ছে ডায়ারিয়াসহ গরমজনিত রোগের। কোথাও কোথাও ফেটে চৌচির হয়ে যাচ্ছে ফসলের মাঠ।
এদিকে যশোরে এ মওসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আজ রবিবার বিকাল সাড়ে ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত যশোরে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
আবহাওয়া অধিদফতরের কর্তব্যরত কর্মকর্তা মনির উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে গত ১১ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গায় ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্র রেকর্ড করা হয়। আজ রবিবারের আগ পর্যন্ত এটাই ছিল মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্র।
আবহাওয়া অধিদফতর জানায়, আজ রবিবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রংপুরে। ভোর ৬টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে সেখানে তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আজ রবিবার রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ ৩৯ ও সর্বনিম্ন ২৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।
যশোর মতিউর রহমান বিমান ঘাঁটি আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, আজ রবিবার যশোরে সর্বনিম্ন ২৬ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
যশোর ব্যুরো জানায়, গত কয়েকদিন ধরে তীব্র গরমে কর্মজীবি মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। সারাদিনের তীব্র তাপদাহে স্বাভাবিক কাজকর্মে বিঘ্নিত হচ্ছে। গরমের কারণে দুপুরের পর থেকে ঘরের বাইরে মানুষের উপস্থিতি কমতে থাকে।
বোরো ধান কাটার পুরো মৌসুমে কৃষকরা আরও বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। মাঠের ধান কাটা, মাড়াই ও ঘরে তোলার কাজ করতে গিয়ে গলদঘর্ম হচ্ছে কৃষকরা।
নদী নালা পুকুর খাল বিলের পানি শূণ্যতায় প্রকৃতিতে হাহাকার বাড়ছে। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে গরমজনিত নানা রোগ।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

