Don't Miss
Home / আইন আদালত / কারামুক্ত হলেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম

কারামুক্ত হলেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম

এমএনএ রিপোর্ট : তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দৃক গ্যালারির প্রতিষ্ঠাতা আলোকচিত্রী শহিদুল আলম জামিনে কারামুক্ত হয়েছেন।

আজ মঙ্গলবার রাত সোয়া ৮টার দিকে কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। কারাগারের ডেপুটি জেলার জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় কারাগারে থাকা আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে জামিন দেন হাইকোর্ট। জামিনের কপি কারাগারে পৌঁছে দেন শহিদুলের আইনজীবী। অন্যদিকে এ রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

আজ মঙ্গলবার তার মুক্তির আশায় সকাল সাড়ে ১১টা থেকে কারাগারের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন স্ত্রী রেহনুমা আহমেদ, স্বজন ও তার আইনজীবীরা। কিন্তু দিনভর অপেক্ষার পরও মেলেনি শহিদুল আলমে মুক্তি। পরে রাত সোয়া ৮টার দিকে তাকে মুক্তি দেয়া হয়।

এর আগে ৬ নভেম্বর হাইকোর্টের নতুন আরেকটি বেঞ্চে জামিন আবেদন করেছিলেন আইসিটি মামলায় গ্রেপ্তার আলোকচিত্রী শহিদুল আলম।

তার আগে হাইকোর্টে জামিন আবেদন করলে হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ জামিনের শুনানির জন্য বিচারিক আদালতে পাঠিয়ে দেন।

১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ ইমরুল কায়েস শহিদুল আলমের জামিন আবেদন নাকচ করেন। এরপর ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি হাই কোর্টে জামিন আবেদন করলে ৩ অক্টোবর শুনানি শুরু হয়।

এছাড়া গত ৪ সেপ্টেম্বর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় আলোকচিত্রী শহিদুল আলমের জামিন আবেদন শুনতে বিব্রতবোধ করেন হাইকোর্টের আরেকটি বেঞ্চ।

শুনানি শেষে গত ৭ অক্টোবর হাই কোর্ট শহিদুল আলমের জামিন প্রশ্নে রুল জারি করে। কেন জামিন দেওয়া হবে না- তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। এক সপ্তাহের মধ্যে রাষ্ট্রকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

সেই রুলের ওপর বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি এস এম মজিবুর রহমানের হাই কোর্ট বেঞ্চে শুনানি শুরু হলেও গত ১ নভেম্বর মামলাটি ওই বেঞ্চের কার্যতালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।

এরপর সহিদুল আলমের আইনজীবীরা বিচারপতি শেখ আবদুল আউয়ালও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর হাই কোর্ট বেঞ্চে গিয়ে নিজেদের পক্ষে আদেশ পান।

শহিদুলের মুক্তির জন্য নোবেলজয়ী অমর্ত্য সেনসহ বিশ্বের নানা অঙ্গনের নেতৃস্থানীয় অনেকে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।

গত ১২ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি আইনের মামলায় শহিদুল আলমকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

আলোকচিত্রী শহিদুল আলম গত আগস্টে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দেন। এ ঘটনায় গত ৫ আগস্ট তথ্যপ্রযুক্তি আইনে রমনা থানায় করা মামলায় তাকে তার ধানমণ্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।

ডিবি (উত্তর) পরিদর্শক মেহেদী হাসান বাদী হয়ে রমনা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ‘কল্পনাপ্রসূত তথ্যের’ মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির মধ্যে ‘মিথ্যা প্রচার’ চালানো, উসকানিমূলক তথ্য উপস্থাপন, সরকারকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ ও অকার্যকর’ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ‘অবনতি ঘটিয়ে’ জনমনে ‘ভীতি ও সন্ত্রাস ছড়িয়ে’ দেয়ার ষড়যন্ত্র এবং তা বাস্তবায়নে ইলেকট্রনিক বিন্যাসে ‘অপপ্রচারের’ অভিযোগ আনা হয় আলোকচিত্রী শহিদুলের বিরুদ্ধে।

মামলায় তার বিরুদ্ধে ফেসবুক ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ আনা হয়।

উল্লেখ্য, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে গত ৩ ও ৪ আগস্ট জিগাতলা এলাকায় সংঘর্ষের বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার ফেসবুক লাইভে এসেছিলেন শহিদুল আলম। ওই আন্দোলনের বিষয়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সরকারের কড়া সমালোচনা করেন।

x

Check Also

আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ...