ক্যাসিনো খালেদের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর
Posted by: News Desk
September 19, 2019
এমএনএ রিপোর্ট : রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়ংমেন্স ক্লাব ক্যাসিনোর মালিক ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভুঁইয়ার (ক্যাসিনো খালেদ) অস্ত্র ও মাদক মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। আজ বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা মহানগরের পৃথক পৃথক আদালতে অস্ত্র মামলায় ৪ দিন ও মাদক মামলায় ৩ দিনসহ পর্যায়ক্রমে মোট সাতদিনের এ রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
প্রথমে ঢাকা মহানগর হাকিম মাহমুদা আক্তারের আদালতে হাজির করে অস্ত্র মামলায় খালেদের ৭দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি নিয়ে বিচারক ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পরে ঢাকা মহানগর হাকিম শাহিনুর রহমানের আদালতে হাজির করে মাদক মামলায় খালেদের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করে পুলিশ। শুনানি নিয়ে বিচারক ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে গুলশান থানা থেকে আদালতে হাজির করে পুলিশ ১৪ দিনের রিমান্ড আবেদন করে। তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। দুপুর আড়াইটায় র্যাব-৩ ব্যাটালিয়ন কর্তৃক অস্ত্র-গুলি ও মাদকসহ আটক খালেদকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করেছে।
রাজধানীর ফকিরাপুলের ইয়াংমেন্স ক্লাবের অবৈধ ক্যাসিনো মালিক যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে চারটি মামলা দায়ের হয়েছে।
অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে গুলশান থানায় ৩টি ও বিকালে মতিঝিল থানায় মাদক আইনে আরও একটি মামলা করা হয়।
এর মধ্যে র্যাব-৩ এর ওয়ারেন্ট অফিসার গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে গুলশান থানায় অস্ত্র, মাদক ও মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে তিনটি মামলা দায়ের করেন। আর মতিঝিলি থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা করেন র্যাবের ওয়ারেন্ট অফিসার চাইলা প্রু মার্মা।
গতকাল বুধবার রাতে খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের সময় অস্ত্র ও ইয়াবা পাওয়া যায়। এ ছাড়া তার ক্যাসিনো থেকে নারী, মদসহ নিষিদ্ধ বস্তু উদ্ধার করে র্যাব।
অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে গতকাল বুধবার রাতে দীর্ঘ অভিযান শেষে গুলশানের বাসা থেকে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। গ্রেপ্তারের সময় খালেদের বাড়ি থেকে চারশ পিস ইয়াবা, লকার থেকে এক হাজার, পাঁচশ ও পঞ্চাশ টাকার বেশ কয়েকটি বান্ডিল উদ্ধার করা হয়। সেগুলো গণনার পর ১০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া ডলারেরও বান্ডিল পাওয়া যায়। টাকায় তা ৫-৬ লাখ টাকা হবে বলে র্যাব জানায়। এর পর থেকে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত র্যাব-৩ এর হেফাজতে ছিলেন খালেদ।
এছাড়া তার কাছ থেকে মোট ৩টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। যার একটি লাইসেন্সবিহীন, অপর দুইটি লাইসেন্সের শর্তভঙ্গ করে রাখা হয়েছিল। রাতভর জিজ্ঞাসাবাদে মতিঝিলের ক্যাসিনো পরিচালনার বিষয়টি যুবলীগের সম্রাট, মতিঝিল থানা পুলিশ, মতিঝিল জোন, পুলিশ সদর দপ্তর ও ডিএমপি সদর দপ্তরের কর্মকর্তারা জানতেন বলে দাবি করেন খালেদ।
আজ বৃহস্পতিবার মামলা দায়েরের পর খালেদকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করা হয়।
গতকাল বুধবার খালেদকে গ্রেপ্তারের আগে ফকিরাপুলের ইয়াংমেন্স ক্লাবে নিষিদ্ধ ক্যাসিনোতেও অভিযান চালায় র্যাব। এখান থেকে দুই নারীসহ ১৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়েছে। ক্যাসিনোতে মদ আর জুয়ার বিপুল সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রায় ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
ক্লাবটির সভাপতি খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। অনেক দিন ধরে এখানে জুয়াসহ নানা অপকর্ম চলছিল। সাম্প্রতিককালে অতিমাত্রায় বেড়ে যাওয়ার পর গতকাল বুধবার অভিযান পরিচালিত হয়। ইয়াংমেন্স ক্লাবের পর ওই রাতেই ঢাকার আরও তিনটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র্যাব।
র্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, ইয়াংমেন্স ক্লাব থেকে মাদক এবং জুয়ার সরঞ্জামাদি উদ্ধার করা হয়েছে। ক্লাবের কাউন্টার থেকে প্রায় ২৫ লাখ টাকা জব্দ করা হয়।
তিনি বলেন, এদিন মতিঝিলের ঢাকা ওয়ান্ডারার্স ক্লাব এবং বনানী এলাকার একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালানো হয়। ওয়ান্ডারার্স ক্লাব থেকে মাদক, জালটাকা, বিপুল পরিমাণ টাকা ও ক্যাসিনো সামগ্রী জব্দ করা হয়েছে।
এর পর ক্যাসিনোটি সিলগালা করে দেয়া হয়। বনানীর আহমেদ টাওয়ারে অবস্থিত গোল্ডেন ঢাকা বাংলাদেশ নামে ক্যাসিনোতে অভিযান চালিয়ে সিলগালা করে দেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ওয়ান্ডারার্স ক্লাবের নেতৃত্বে আছেন মমিনুল হক সাঈদ এবং আবু কাউসার মোল্লা নামে দুই ব্যক্তি।
দুজনই রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। এদিকে গতকাল বুধবার রাতেই গুলিস্তানে পীর ইয়েমেনী মার্কেটসংলগ্ন একটি ক্যাসিনোতে অভিযান চালায় র্যাব। স্থানীয় কয়েকজন জানান, এ ক্যাসিনোর নেতৃত্বে আছেন ইসমাইল হোসেন সম্রাট।
খালেদ মাহমুদের সন্ধানে গতকাল বুধবার দুপুরের পর থেকে তার গুলশান-২ এর ৫৯ নম্বর রোডের ৫নং বাসা ঘিরে রাখে র্যাব। প্রিমোরোজ গার্ডেন নামে ৬ তলাবিশিষ্ট এ ভবনের তিনতলায় পরিবার নিয়ে থাকেন যুবলীগ নেতা খালেদ।
বাড়ির ব্যবস্থাপক জানান, প্রথমে ডিবি পরিচয়ে একদল লোক বাসায় আসে। এর পর আসে র্যাব। রাতে এখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় বাসার লকার ও দেয়াল আলমিরা থেকে অবৈধ অস্ত্র, ইয়াবা, টাকা, ডলার উদ্ধার করা হয়।
মঞ্জুর ক্যাসিনো ৭ দিনের খালেদের রিমান্ড 2019-09-19