Don't Miss
Home / আইন আদালত / খাসকামরায় ঐশীর বক্তব্য শুনলেন হাইকোর্ট

খাসকামরায় ঐশীর বক্তব্য শুনলেন হাইকোর্ট

এমএনএ রিপোর্ট : খাসকামরায় নিয়ে বাবা-মাকে হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার মেয়ে ঐশী রহমানের বক্তব্য শুনলেন হাইকোর্ট। মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে ১৫ মিনিট ধরে একান্তে তার কথা শোনা হয়। সেখানে ছিলেন কেবলমাত্র আসামিপক্ষ ও রাষ্ট্রপক্ষের একজন করে আইনজীবী। পরে তাকে নিয়ে যায় কারা কর্তৃপক্ষ।

হাইকোর্টের নির্দেশে ১০ এপ্রিল আজ সোমবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে ঐশীকে আদালতে হাজির করা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হয়। ঐশীর করা আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ওপর এই বেঞ্চে শুনানি চলছে।

আজকের শুনানির শুরুতে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম বলেন, এই মামলায় মানবাধিকারকর্মীরা একটি রিট করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনার আগে-পরে ঐশীর মানসিক অবস্থা বিষয়ে চিকিৎসকেরা প্রতিবেদন দিয়েছেন। বিচারিক আদালতে ওই প্রতিবেদন দেখানো হয়েছে। আসামিপক্ষ ওই প্রতিবেদনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। ঐশীর সঙ্গে বিশেষভাবে কথা বলা হবে। এ সময় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষর একজন করে আইনজীবী উপস্থিত থাকবেন।

আদালতের এই বক্তব্যের পর সকাল ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে ঐশীকে খাসকামরায় নেওয়া হয়। দুই বিচারপতি এজলাস ত্যাগ করেন। বেলা ১১টার পর ঐশীকে কারা কর্তৃপক্ষ খাসকামরা থেকে নিয়ে যায়।

এর আগে, ঐশী রহমানের ডেথ রেফারেন্সের শুনানি চলাকালে গত ০৩ এপ্রিল মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে আইজিকে (প্রিজন) তাকে ১০ এপ্রিল হাজির করার আদেশ দেন বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ।

গত ১২ মার্চ থেকে ডেথ রেফারেন্সের এ শুনানি চলছে।

আদালতে ঐশীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আফজাল এইচ খান ও সুজিত চ্যাটার্জি বাপ্পী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জহিরুল হক জহির।

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী বলেন, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় তাকে দেয়া বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায় আমরা বহাল রাখার আর্জি জানিয়েছি। আর তার মানসিক অবস্থা নিয়ে যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে সে ব্যাপারে আমরা বলেছি, ঘটনার সময় ও তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার সময় তার মানসিক অবস্থা ঠিক ছিল।

ঐশীর আইনজীবীরা আদালতে বলেন, কোনো সুস্থ ব্যক্তি বাবা-মাকে হত্যা করতে পারে না। একটি মেডিকেল রিপোর্টেও দেখা গেছে, সে মানসিক বিকারগ্রস্ত।

এর আগে গত ৩ এপ্রিল শুনানিকালে ঐশীর আইনজীবীরা আদালতকে জানান, ঘটনার সময় ঐশী মানসিক বিকারগ্রস্ত ছিল। এক মানবাধিকারকর্মীর রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের অপর একটি বেঞ্চ ঐশীর মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে এ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার সময় সে মানসিকভাবে একটু অন্যরকম ছিল। ওই প্রতিবেদনের আলোকে পর্যবেক্ষণের জন্য গত ৩ এপ্রিল কারা কর্তৃপক্ষকে আজ সোমবার ঐশীকে হাইকোর্টে হাজিরেরর নির্দেশ দেয়া হয়।

২০১৩ সালের ১৬ আগস্ট রাজধানীর মালিবাগের চামেলীবাগে নিজ বাসা থেকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (রাজনৈতিক শাখা) পরিদর্শক মাহফুজুর রহমান ও তার স্ত্রী স্বপ্না রহমানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মা-বাবা খুন হওয়ার পর পালিয়ে যান ঐশী। এ ঘটনায় পরের দিন ১৭ আগস্ট নিহত মাহফুজুর রহমানের ছোট ভাই মো. মশিউর রহমান রুবেল পল্টন থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

এই মামলায় ২০১৫ সালের ১৫ নভেম্বর ঐশী রহমানকে দুবার মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। একইসঙ্গে ঐশীর বন্ধু মিজানুর রহমান রনিকে দুই বছর কারাদণ্ডাদেশ ও অপর আসামি আসাদুজ্জামান জনিকে খালাস দেন আদালত। ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক সাঈদ আহমেদ এ রায় ঘোষণা করেন।

x

Check Also

নারী কেলেঙ্কারি ও দুর্নীতির অভিযোগে বিআইডব্লিউটিএ পরিচালক আরিফ উদ্দিন সাময়িক বরখাস্ত

বিশেষ প্রতিবেদক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়া এবং দীর্ঘদিনের নানা ...