এমএনএ রিপোর্ট : একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধারাবাহিক সংলাপের দ্বিতীয় ধাপে আজ বুধবার গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরই মধ্যে ইসির পক্ষ থেকে ৭১ জন সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। গণমাধ্যমের সম্পাদক, বার্তাপ্রধান ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে সংলাপ হবে।
ইসি কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ জানান, আজ বুধবার প্রিন্ট মিডিয়া ও সিনিয়র সাংবাদিক এবং আগামীকাল বৃহস্পতিবার অনলাইন, ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও রেডিওর প্রধানদের সঙ্গে সংলাপে বসবে ইসি।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে সকাল ১০টায় এই সংলাপ শুরু হবে। আজ বুধবারের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ৩৭ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বাকি ৩৪ জনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে আগামীকাল বৃহস্পতিবারের জন্য।
একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আইন সংস্কার, সীমানা পুনর্নির্ধারণ অধ্যাদেশসহ সাতটি বিষয়ে ইসি রোডম্যাপ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতামত নিয়েছে ইসি। যেখানে নির্বাচনে সেনা মোতায়েন ও না ভোট প্রবর্তনসহ বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন অতিথিরা।
আজ বুধবারের আমন্ত্রিতদের মধ্যে রয়েছেন-সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও সমকাল সম্পাদক গোলাম সারওয়ার, ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, নিউজ টুডে সম্পাদক রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, আমাদের অর্থনীতি সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খান, নিউএজ সম্পাদক নূরুল কবীর, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, জনকণ্ঠের নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায় প্রমুখ।
এ ছাড়াও অন্য আমন্ত্রিতরা হলেন-জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মুহম্মদ শফিকুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, বিএফইউজের একাংশের সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, মহাসচিব ওমর ফারুক, বিএফইউজের অপর অংশের মহাসচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ, কলামিস্ট আবেদ খান, সাংবাদিক মাহফুজউল্লাহ, আফসান চৌধুরী, পীর হাবিবুর রহমান, কাজী সিরাজ, আনিসুল হক, আমানুল্লাহ কবীর, কলামিস্ট সোহরাব হাসান ও প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুন নাহার প্রমুখ।
বৈঠকের কার্যপত্রে জানা গেছে, ইসি ঘোষিত রোডম্যাপের সাতটি বিষয় ছাড়াও প্রাসঙ্গিক অন্য বিষয়েও মতামত জানাতে অতিথিদের আহ্বান জানানো হয়েছে। বিদ্যমান ইংরেজি আইন কাঠামো বিশেষ করে ‘দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২’ এবং ‘দ্য ডিলিমিটেশন অব কনস্টিটিউয়েন্সিস অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬’ যুগোপযোগী করে বাংলা ভাষায় প্রণয়ন, বিগত নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে অবৈধ অর্থ এবং পেশিশক্তির ব্যবহার রোধকল্পে আইনি কাঠামো সংস্কার-সংক্রান্ত প্রস্তাবনা , সংসদীয় এলাকার সীমানা নির্ধারণকল্পে জনসংখ্যার পাশাপাশি ভোটার সংখ্যা, সংসদীয় এলাকার আয়তন, প্রবাসী ভোটারদের ভোটদান নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি আইনি কাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর মতামত চাইছে ইসি।
এ ছাড়াও রোডম্যাপে উল্লিখিত অন্যান্য কাঠামোকে যুগোপযোগী করা, নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণ নিশ্চিত করা, ভোটকেন্দ্র স্থাপন-সংক্রান্ত কার্যক্রম যুগোপযোগী করা, নতুন রাজনৈতিক দল নিবন্ধন এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল নিরীক্ষা এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ইসির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে রোডম্যাপের বাইরে কোনো বিষয়েও পরামর্শ চাওয়া হবে অতিথিদের কাছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
