Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / চলতি বছর ৪৮ হাজার শিশু জন্মাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে

চলতি বছর ৪৮ হাজার শিশু জন্মাবে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে

এমএনএ রিপোর্ট : চলতি বছর কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোতে অন্তত ৪৮ হাজার শিশু জন্ম নেবে। নোংরা পরিবেশে জন্ম নেওয়া এসব নবজাতকের অধিকাংশেরই পুষ্টিহীনতাসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে।
৫ ডিসেম্বর শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শিশুবিষয়ক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন।
সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গাদের জন্য গড়ে তোলা অস্থায়ী শিবিরগুলোতে সুপেয় পানির অভাব ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা এরই মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া জনাকীর্ণ শিবিরের অপরিচ্ছন্ন পরিবেশও হয়ে উঠেছে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ। ফলে এই পরিবেশে জন্ম নেয়া অনেক শিশু ৫ বছরের আগেই মারা যেতে পারে।
কক্সবাজারে কর্মরত সেভ দ্য চিলড্রেনের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা র‌্যাচেল কুমিংস বলেন, ‘উদ্বাস্তু শিবিরগুলোর পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা খুবই নাজুক। বর্তমানে এগুলো ডিপথেরিয়া, হাম ও কলেরার মতো রোগের উৎসস্থল হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত নবজাতকদের এসব রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। তাই কোনো শিশু জন্মানোর জন্য রোহিঙ্গা শিবির উপযুক্ত স্থান নয়।’
গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা শুরু হলে প্রাণ বাঁচাতে সাড়ে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে এসেছে যাদের ৬০ শতাংই শিশু। ইউনিসেফের হিসাব অনুযায়ী, শরণার্থী শিবিরে বর্তমানে ৪ লাখ রোহিঙ্গা শিশু রয়েছে যার ২ লাখ ৭০ হাজারই নতুন।
রোহিঙ্গাদের মধ্যে জরিপ চালিয়ে এখন পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩৭৩ জন এতিম শিশু শনাক্ত করা হয়েছে। ‘মিয়ানমার ন্যাশনাল অরফান চাইল্ড’ কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব এতিম রোহিঙ্গা শিশুদের সুরক্ষার জন্য আবাসস্থল ‘শিশু পল্লী’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।
আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনার নি‌র্দেশনা অনুযায়ী রোহিঙ্গা শিশুদের স্মার্ড কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হ‌য়ে‌ছে। বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের মধ্যে অন্তত ৭০ হাজার অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন। ফলে পালিয়ে আসা শিশু শরণার্থীদের বাইরেও প্রতিদিন যোগ হচ্ছে প্রায় ১০০ নবজাতক।
সেভ দ্য চিলড্রেনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর রোহিঙ্গা শিবিরে শিশু জন্মানোর হার প্রতিদিন ১৩০ জনে দাঁড়াবে।
গত ২৩ অক্টোবর সোমবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে ইউনিসেফের পক্ষ থেকে বলা হয়, বাংলাদেশে পালিয়ে আসা প্রায় ১৭ হাজার শিশুর পুষ্টির চিকিৎসা প্রয়োজন এবং ১ লাখ ২০ হাজার গর্ভবতী ও অসুস্থ নারীর পুষ্টিকর খাদ্যের প্রয়োজন।  তাদের মধ্যে অপ্রতুল শৌচাগার ও অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতির কারণে কলেরা, ডায়রিয়ায় হাজারো মানুষের মৃত্যু ঘটতে পারে।
x

Check Also

সক্ষমতা

জেলা-উপজেলা হাসপাতালের সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করছে সরকারঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

এমএনএ জাতীয় ডেস্কঃ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় ...