এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বা বিরোধী দল— কোনো পক্ষই যে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না তা এখন নিশ্চিত। ফলে যুক্তরাজ্য শেষ পর্যন্ত একটি ঝুলন্ত পার্লামেন্টই পেতে যাচ্ছে।
বিবিসির পূর্বাভাস বলছে, স্থানীয় সময় গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনে ভোট নেওয়া হয়। এখন ফলাফল আসছে। আর যে কয়েকটি আসনে ফল ঘোষণা বাকি আছে সেগুলো দিয়ে ক্ষমতাসীন থেরেসা মের কনজারভেটিভ পার্টি পার্লামেন্টে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না। এরপরও তারা বৃহত্তম দল হবে। এ পরিস্থিতিতে ঝুলন্ত পার্লামেন্ট হতে পারে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, এখন পর্যন্ত ৬৩৪টি আসনের ফল জানা গেছে। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩০৯ আসন। লেবার পার্টি পেয়েছে ২৫৮ আসন। এসএনপি ৩৪ আসন। লিব ডেম পেয়েছে ১২ আসন। অন্যান্য দল পেয়েছে ২১ আসন।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষ হাউস অব কমনসের মোট আসন ৬৫০টি। কোনো দল এককভাবে ৩২৬ আসন পেলেই মিলবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা।
২০১৫ সালে ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বে কনজারভেটিভ পার্টি ৩৩০টি আসন পেয়ে এককভাবে ক্ষমতায় ফেরে। আর বিরোধী দল লেবার পার্টি পায় ২২৯টি আসন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, কনজারভেটিভ পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে যাচ্ছে।
বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতির মুখে পড়তে পারে কনজারভেটিভ পার্টি। তারা ৩১৮টি আসন পেতে পারে। আর লেবার পার্টি পেতে পারে ২৬২টি আসন।
তবে নির্বাচনে ১০টি আসন পাওয়া উত্তর আয়ারল্যান্ড-ভিত্তিক দল ডিইউপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা তেরেসা মেকে সরকার গঠন করতে সমর্থন জানাবে।
যুক্তরাজ্যে সাধারণ নির্বাচনে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি এগিয়ে রয়েছে।
সর্বশেষ পাওয়া খবরে বিবিসি বলছে, মোট ৬৫০টি আসনের মধ্যে ৬৪৬টির ফল পাওয়া গেছে। এতে কনজারভেটিভ পার্টি পেয়েছে ৩১৫ আসন। আর লেবার পার্টি পেয়েছে ২৬১ আসন। এসএনপি ৩৫ আসন। লিব ডেম পেয়েছে ১২ আসন। অন্যান্য দল পেয়েছে ২৩ আসন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলে। নির্বাচনে ভোটার ছিলেন প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ।
হাউস অব কমনসের ৬৫০ আসনের বিপরীতে এবার মোট ৬৮টি দল ও ১৯১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২ হাজার ৩০৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে ইংল্যান্ডে ৫৩৩, স্কটল্যান্ডে ৫৯, ওয়েলসে ৪০ এবং নর্দান আয়ারল্যান্ডে ১৮টি আসন রয়েছে। সব আসনে একযোগে ভোট নেওয়া হয়।
২০১৬ সালের জুনে ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যুক্তরাজ্যের থাকা না-থাকা নিয়ে গণভোট হয়। এতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ইইউতে থাকার পক্ষে ছিলেন। জনগণ বিচ্ছেদের পক্ষে রায় দিলে ক্যামেরন পরাজয় মেনে পদত্যাগ করেন। পরে থেরেসা মে প্রধানমন্ত্রী হন।
এখন নির্বাচনের কোনো প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে ব্রেক্সিট বাস্তবায়নে নিজের ক্ষমতা আরও নিরঙ্কুশ করতে হুট করে মধ্যবর্তী নির্বাচন দেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

