টেকনোক্রেট মন্ত্রী হচ্ছেন মোস্তাফা জব্বার
Posted by: News Desk
January 2, 2018
বিশেষ প্রতিবেদক, তুষার আহমেদ : ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের টেকনোক্রেট মন্ত্রীর দায়িত্ব পাচ্ছেন মোস্তাফা জব্বার। তিনি ছাড়াও একজন প্রতিমন্ত্রী ও কয়েকজন সংসদ সদস্য আগামীকাল ২ জানুয়ারি মঙ্গলবার বঙ্গভবনে ডাক পেয়েছেন। এ দিন সন্ধ্যায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বণ্টন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদটি শূন্য রয়েছে। এই মন্ত্রণালয়ে টেকনোক্রেট মন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার।
এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে দুটি বিভাগে পৃথক প্রতিমন্ত্রী রয়েছে। এর মধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে তারানা হালিম এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে জুনাইদ আহ্মেদ পলক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
একই দিন বঙ্গভবনে ডাকা হয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী ও লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সাংসদ একেএম শাহজাহান কামালকে।
তাদের মধ্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদ শূন্য থাকায় এর দায়িত্ব পেতে পারেন নারায়ণ চন্দ্র চন্দ। অন্য দুজনকেও কোনো মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
নারায়ণ চন্দ্র চন্দ খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য। ২০১৪ সালের নির্বাচনে তিনি তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
কাজী কেরামত আলী রাজবাড়ী-১ আসন থেকে চতুর্থবারের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
একেএম শাহজাহান কামাল লক্ষ্মীপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত এই সংসদ সদস্য বর্তমানে মুক্তিযুক্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদে নতুন মন্ত্রী যোগ হওয়া ছাড়াও দুই একজন বিতর্কিতরা বাদ পড়তে পারেন। কারও কারও দপ্তর বদলও হতে পারে।
অবশ্য আলোচনায় থাকা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের এবারও হতাশ হতে হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা সরকার থেকে দল আলাদা করার প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখেছেন। সে কারণে সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কেউই এবারও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারছেন না বলে জানা গেছে। তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতাদের তিনি এবারও প্রাধান্য দিয়েছেন। এর বাইরে আওয়ামী লীগ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে দেশের খ্যাতিমান একজন তথ্য-প্রযুক্তিবিদকে।
মন্ত্রিসভার সর্বশেষ সম্প্রসারণ হয় ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই। ওই দিন নতুন মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন নুরুল ইসলাম বিএসসি। পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হন আসাদুজ্জামান খান কামাল ও ইয়াফেস ওসমান। আর প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারানা হালিম ও নুরুজ্জামান আহমেদ। এরপর আর কোনো নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর দেখা মেলেনি। এরই মধ্যে গত মাসে মারা গেছেন মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী ছায়েদুল হক। এর আগে ২০১৫ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মারা যান সমাজকল্যাণমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী। সেই থেকে ওই দুই মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম চলছে প্রতিমন্ত্রী দিয়ে।
২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় মেয়াদের ঐকমত্যের মন্ত্রিসভা শপথ নিয়েছিল। এরপর ওই বছর ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম দফায় মন্ত্রিসভার কলেবর বাড়ানো হয়। তখন শপথ নেন এ এইচ মাহমুদ আলী ও নজরুল ইসলাম। সর্বশেষ ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হয়। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে প্রথমে দপ্তরবিহীন এবং পরে জনপ্রশাসনমন্ত্রী করা হয়।
টেকনোক্রেট মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার হচ্ছেন 2018-01-02