এমএনএ অর্থনীতি ডেস্কঃ ঋণপত্র বা এলসির দেনা পরিশোধে রপ্তানি আয়ের ডলার এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় মহাবিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। রপ্তানিকারকরা বলেছেন, এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে ডলার স্থানান্তর করতে না পারায় এলসির দেনা পরিশোধ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে রপ্তানিকারকের কোনো কোম্পানির নামে এক ব্যাংকে থাকা ডলার দিয়ে অন্য ব্যাংকে একই রপ্তানিকারকের অন্য কোনো এলসির দেনা পরিশোধ করা যাচ্ছে না। সংকটের কারণে অন্য কোনো ব্যাংক থেকে ডলার কিনে দেনা শোধ করার মতো পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রাও বাজারে নেই।
সূত্র জানায়, ডলারের নতুন দর অনুযায়ী আমদানির ক্ষেত্রে প্রতি ডলার কিনতে হচ্ছে ১১০ টাকা করে। রপ্তানির প্রতি ডলারের বিপরীতে গ্রাহকরা পাচ্ছেন ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। একই উদ্যোক্তা যদি রপ্তানিকারক ও আমদানিকারক হন তাহলে তাকে গড়ে প্রতি ডলার ৫০ পয়সা লোকসান দিতে হচ্ছে। রপ্তানির ডলার থেকে ‘ব্যাক টু ব্যাক’ এলসির দায় মিটিয়ে যে ডলার থাকে তার একটি অংশ রপ্তানিকারক রিটেনশন কোটায় নিতে পারেন। বাকি ডলার ৩০ দিনের মধ্যে একই ব্যাংকে কাজে লাগাতে হবে। তা না হলে ব্যাংক নিজ উদ্যোক্তা ওইসব ডলার নগদায়ন করে নেবে। এক্ষেত্রে রপ্তানিকারককে দেয়া হবে ১০৯ টাকা ৫০ পয়সা। কিন্তু রপ্তানিকারক আবার যখন বাণিজ্যিক বা শিল্পের যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খুলবেন তখন তাকে ১১০ টাকা দিয়ে ডলার কিনতে হবে।
এদিকে নির্ধারিত সময়ে দেনা শোধ করতে না পারায় একদিকে ব্যাংকের দুর্নাম হচ্ছে, অন্যদিকে গ্রাহকেরও দুর্নাম হচ্ছে। ঋণের বিপরীতে বাড়তি সুদ পরোক্ষভাবে রপ্তানিকারককেই দিতে হচ্ছে। এতে রপ্তানিকারকরা দুইভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। একদিকে সময়মতো দেনা শোধ না করায় দুর্নাম হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়তি সুদ দিতে হচ্ছে। ফলে রপ্তানি পণ্যেও উত্পাদন খরচ বাড়বে। এতে বৈশ্বিকভাবে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমবে। যা ক্ষতিগ্রস্ত করবে দেশের অর্থনীতিকে।
এছাড়া রপ্তানিকারকরা ডলার ৩০ দিনের বেশি ধরে রাখতে পারছেন না। নিজ কোম্পানির রপ্তানির মাধ্যমে অর্জিত ডলার ৩০ দিনের মধ্যে ব্যবহার না করলে ব্যাংক নগদায়ন (গ্রাহকের টাকা দিয়ে সমপরিমাণ ডলার নিয়ে যাচ্ছে) করে নিচ্ছে। নির্ধারিত সময়ের (৩০ দিন) পর সংশ্লিষ্ট রপ্তানিকারক এলসি খুলতে গেলে বাজার থেকে ডলার কিনতে হচ্ছে। কিন্তু সংকটের কারণে বাজারে চাহিদা অনুযায়ী ডলার পাওয়া যায় না। ফলে এলসি খোলাও বাধাগ্রস্ত হয়। এতে বিশেষ করে রপ্তানি বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
রপ্তানিকারকরা আরও জানান, বাজারে এখন তীব্র ডলার সংকট চলছে। এর মধ্যে নিজস্ব ব্যবস্থা ছাড়া এলসি খোলার মতো পর্যাপ্ত ডলার মিলছে না। এ অবস্থায় ডলার স্থানান্তরে নিষেধাজ্ঞার ফলে নতুন এলসি খোলার ক্ষেত্রে যেমন জটিলতা আরও বাড়বে। তেমনি এলসির দেনা শোধের ক্ষেত্রে সময়ক্ষেপণ হবে।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ডলারের অপব্যবহার থামাতে ওই বিধিনিষেধ দেয়া হয়েছে। এতে ডলার ধরে রাখার প্রবণতা কমবে। ফলে বাজারে ডলারের প্রবাহ বাড়বে। একই সঙ্গে ব্যাংক এক মাসের মধ্যে ডলার নগদায়ন করলে সংকটও কিছুটা কমবে।
উদ্যোক্তারা বলেছেন, নতুন নিয়মের ফলে অন্য ব্যাংকের এলসি দেনা পরিশোধে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ডলার থাকা সত্ত্বেও তারা ডলার স্থানান্তর করতে পারছেন না।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
