নিউইয়র্কে হামলাকারী কে এই আকায়েদ উল্লাহ?
Posted by: News Desk
December 12, 2017
এমএনএ রিপোর্ট : নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে বাস টার্মিনালে বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশ জানিয়েছে আটক ওই ব্যক্তি আকায়েদ উল্লাহ বাংলাদেশি অভিবাসী।
গতকাল সোমবারের ওই ঘটনার পর আমেরিকায় বাংলাদেশিদের মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এমনকি নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টে কর্মরত বাংলাদেশি কর্মকর্তারা সংবাদ সম্মেলনও করেছেন। আর পুরো কমিউনিটি এখন ভয়ের মধ্যে রয়েছে। কোনো ধরনের প্ররোচনা ছাড়াই এ ধরনের হামলায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কিন্তু যাকে নিয়ে এতো আলোচনা, কে এই আকায়েদ?
নিজ হাতে তৈরি করা বিস্ফোরকের মাধ্যমে অসহায় মানুষ হত্যার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত থাকার অভিযোগে হাতে-নাতে আটক হওয়া যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী আকায়েদ উল্লাহর (২৭) প্রতি প্রবাসীরা ধিক্কার দিচ্ছেন। একই সঙ্গে নিউইয়র্কে বিস্ফোরণের ঘটনা প্রবাসী বাংলাদেশিরা উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন।
নিউইয়র্কে বিস্ফোরণের বিষয়ে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের পার্লামেন্ট সদস্য ডেভিড ওয়েপ্রিন বলেন, ‘আকায়েদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কর্মের দায় জাতিগতভাবে বাংলাদেশিরা কখনোই নিতে পারে না। সন্ত্রাসীর কোনো জাত, ধর্ম বা গোষ্ঠী পরিচয় নেই। ওরা সন্ত্রাসী, মানবতা ও সভ্যতার শত্রু’।
কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট ডেমক্র্যাটিক পার্টির লিডার এটর্নি মঈন চৌধুরী বলেছেন, ‘আকায়েদের প্রতি সংঘবদ্ধভাবে ঘৃণা প্রদর্শন করতে হবে। ওরা বাংলাদেশিরে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে না। ওরা মানবতার দুশমন হিসেবে চিহ্নিত হয়েই থাকবে।’
বিশ্বখ্যাত টাইমস স্কোয়ার এবং পোর্ট অথরিটি বাস টার্মিনালের মধ্যে পাতাল পথে গতকাল সোমবার সকালে পাইপ বোমার বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বাংলাদেশি অভিবাসী আকায়েদ উল্লাহকে আটক করেছে পুলিশ।
এরপর থেকে আকায়েদের বিষয়ে কৌতূহল দেখা দিয়েছে, কারো-কারো মনে প্রশ্ন উঠেছে কে এই আকায়েদ উল্লাহ?
এনআরবি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের সন্দ্বীপের মুছাপুর ইউনিয়নের ভটান তালুকদার বাড়ির সন্তান আকায়েদ উল্লাহ। তারা বাবা মো. সানাউল্লাহ ঢাকার হাজারীবাগে বসবাস করতেন। চামড়ার ব্যবসা ছিল তার। সে সুবাদে আকায়েদ উল্লাহ হাজারীবাগেই বড় হয়েছেন। সেখানে ইসলামী ছাত্র শিবিরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। শিবিরের বিভিন্ন সাংগঠনিক তৎপরতায় তার সরব উপস্থিতিও ছিল। অভিবাসন ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর এখানে জামায়াত-শিবিরের সমর্থকদের সমন্বয়ে গঠিত মুসলিম উম্মাহ কিংবা একই শ্রেণীর প্রবাসীদের নিয়ে কর্মরত কোন সংগঠনের সঙ্গে আকায়েদ উল্লাহকে দেখা যেত না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আকায়েদ উল্লাহর পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে পরিচিত এক প্রবাসী এসব তথ্য জানিয়েছেন। আকায়েদ উল্লাহ বরাবরই নিজের মধ্যেই নিবিষ্ট থাকতেন। মাঝে-মধ্যে মসজিদে গেলেও কারো সঙ্গে কথা বলতেন না।
ব্রুকলিনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত চার্চ-ম্যাক ডোনাল্ডে সন্দ্বীপ প্রবাসীদের কোনো কর্মকাণ্ডেও তার উপস্থিতি ঘটেনি কখনো। এলাকাবাসী জানান, নিউইয়র্কে এক বাংলাদেশি নির্মাণ ঠিকাদারের অধীনে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করতেন আকায়েদ।
পাশাপাশি তার ট্যাক্সি ড্রাইভিংয়ের লাইসেন্সও ছিল। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা রয়েছে (পেশাগতভাবে) তারাও বিস্ময়ে হতবাক হয়েছেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হবার সংবাদে।
প্রবাসীরা আরো জানিয়েছেন, দু’বছর আগে তার বাবা সানাউল্লাহ নিউইয়র্কে ইন্তেকাল করেন। আকায়েদের এক ভাই, বোন এবং মা রয়েছেন নিউইয়র্কে। তদন্ত কর্মকর্তারা সোমবার বিকেলে জবানবন্দি নিয়েছেন।
আহত আকায়েদকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ম্যানহাটানের বেলভিউ হাসপাতালে। সেখানে তার বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে নিউইয়র্কের পুলিশ কমিশনার জেমস ও নীল গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন,ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে জেরুজালেমকে স্বীকৃতি প্রদানের ক্ষোভে তিনি আমেরিকানদের হত্যায় প্রবৃত্ত হয়েছিলেন।’
আকায়েদের আচরণে ক্ষোভ প্রকাশ এবং প্রচলিত আইনে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিভিন্ন যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিরা।
এদিকে, নিউইয়র্ক সিটির পুলিশ কমিশনার জেমস ও’নেইল বরাতে সিবিএস নিউজ জানায়, ২৭ বছর বয়সী আকায়েদের বাড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বাবা-মায়ের সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। পরে আকায়েদ স্থায়ী মার্কিন অধিবাসী হিসেবে নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে বসবাস করতে শুরু করে।
নিউ ইয়র্ক সিটি ট্যাক্সি এবং লিমোজিন কমিশন জানিয়েছে, ‘ ২০১১ সালে নিউইয়র্কে আসেন তিনি।পরে থাকতে শুরু করেন ব্রুকলিনে। এ এলাকায় ট্যাক্সিচালক হিসেবে কাজ করতেন। ২০১২ মার্চ থেকে ২০১৫ মার্চ পর্যন্ত তার নামে ট্যাক্সির লাইসেন্স ছিল।’
নিউইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি একটি বৈদ্যুতিক কোম্পানিতে কাজ করছিলেন আকায়েদ। সেখানে তার ভাইও কাজ করতেন।
কে এই হামলাকারী আকায়েদ উল্লাহ নিউইয়র্কে 2017-12-12