এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : ফরাসি গণমাধ্যমগুলোর দাবি, কাভানি-নেইমার মনোমালিন্যে শেষ পর্যন্ত হয়তো ব্রাজিলিয়ান তারকার পাশেই দাঁড়াবেন পিএসজি প্রেসিডেন্ট (মালিক) নাসের আল খেলাইফি।
এডিনসন কাভানি ছিলেন আগে থেকে, গ্রীষ্মের দলবদলে নেইমার-কাইলিয়ান এমবাপেকে দলে ভিড়িয়ে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণভাগই বানিয়েছে প্যারিস সেন্ত জার্মেই। যদিও এই ত্রয়ী কতটা সফল হবে, সেটা নিয়ে সন্দিহান এখন ফুটবল বিশ্ব।
‘আমি একই বোটে দুজন নাবিক রাখবো না’- ২০১৩ সালে নেইমার বার্সেলোনায় যোগ দেয়ার পর এমন মন্তব্য করেছিলেন প্রয়াত ইয়োহান ক্রুইফ। লিওনেল মেসির উপস্থিতিতে নেইমারের মতো খেলোয়াড় ন্যু-ক্যাম্পে আসায় ‘মানসিক সংঘাত’ লাগতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল ডাচ কিংবদন্তির। তবে এই গ্রেটকে ভুল প্রমাণ করেছেন মেসি-নেইমার। মাঠ এবং মাঠের বাইরে অসাধারণ সময় পার করেন আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল সুপারস্টার।
তবে এডিনসন কাভানি তো আর মেসি নন। তাইতো প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি) যোগ দিতে না দিতেই উরুগুয়ে ফরোয়ার্ডের সঙ্গে খেলার মাঠেই দ্বন্দ্ব লেগে যায় নেইমারের। ফ্রি-কিক ও পেনাল্টি কিক নিয়ে ঝগড়া বাঁধে নেইমার-কাভানির। এমনকি নাপোলির সাবেক ফরোয়ার্ড কাভানি মাঠে ঠিকঠাক পিএসজির নাম্বার টেনকে পাস দেন না বলেও অভিযোগ ওঠে।
২০১৩ সালের বার্সেলোনা এবং ২০১৭ সালের পিএসজির মধ্যকার বিশাল তফাৎ। মাঠের ঘটনায় ইতোমধ্যেই সবাই জেনেই গেছেন, কাভানি মেসি নন এবং ২০১৩ সালের নেইমার আর ২০১৭ সালের নেইমারের মধ্যেও পার্থক্য বিশাল।
মেসি খেলোয়াড় হিসেবে যেমন বিস্ময়কর ঠিক তেমনি তার ব্যক্তিত্বও ছিল আকর্ষণীয়। ইগোজনিত কোনো সমস্যা ছিল না আর্জেন্টাইন সুপারস্টারের। মেসির এই চারিত্রিক গুণাবলির কারণে নেইমার বার্সেলোনায় থাকতে উপকৃতই হয়েছেন।
২০১৪-১৫ মৌসুমের শেষের দিকের ঘটনা। কর্ডোবাকে বার্সেলোনা ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছিল। সেই ম্যাচে দুই গোল করে হ্যাটট্রিকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মেসি। কিন্তু কিং লিও স্পট-কিক নেননি; বল এগিয়ে দেন নেইমারকে। কারণ, গোলখরায় ভুগছিলেন ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টার। নেইমারের প্রতি মেসির নিঃস্বার্থ ভালোবাসার কারণেই দুজনের মধ্যে কখনো কোনো সমস্যা হয়নি; যেটির শঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ক্রুইফ।
মেসির প্রতি ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মুগ্ধতারও কোনো কমতি ছিল না নেইমারের। বার্সেলোনা আনুষ্ঠানিকভাবে যেদিন নেইমারকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল সেদিন শত শত ক্যামেরার সামনে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হওয়া নিয়ে আমি কখনোই উদ্বিগ্ন নই। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় এখানেই রয়েছে এবং সে হলো মেসি। কারো সঙ্গেই তার তুলনা হয় না। আমি পৃথিবীর ভাগ্যবান মানুষদের একজন এজন্য যে আমি তার সঙ্গে খেলার এবং তার কাছ থেকে শেখার সুযোগ পাচ্ছি। আমি তাকে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড় হিসেবে থাকতে এবং অনেক ট্রফি জিততে সাহায্য করতে এসেছি।’
আগস্টের ট্রান্সফার মার্কেটে নেইমারকে ২২২ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে বার্সেলোনা থেকে কিনে নেয় পিএসজি। প্যারিসে যুবরাজের মতো আগমন ঘটে ব্রাজিলিয়ান সুপারস্টারের। পিএসজিতে যোগ দিয়েই পান বিখ্যাত দশ নম্বর জার্সি। বিশাল অঙ্কের পারিশ্রমিক, বোনাস, ব্যক্তিগত জেট বিমান ইত্যাদি সুযোগ-সুবিধা তো রয়েছেই।
পিএসজিতে ব্রাজিল জাতীয় দলের চার সতীর্থ দানি আলভেজ, মার্কুইনোস, লুকাস মৌরা, থিয়াগো সিলভাকে পেয়েছেন নেইমার। পেনাল্টি হোক অথবা ফ্রি-কিক- কাভানির কাছ থেকে নেইমারকে বল কেড়ে নিতে হবে না। কেননা, সেই কাজটা করার জন্য আলভেজ তো রয়েছেনই। ঠিক যেমনটা লিঁওর বিপক্ষে কাভানির কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে নেইমারকে দেন বার্সেলোনার সাবেক তারকা।
প্যারিসে প্রিন্স হয়ে আগমন ঘটে নেইমারের। ক্লাবের প্রেসিডেন্ট নাসের আল খেলাইফি নেইমারকে অবারিত সুযোগ এবং স্বাধীনতা দিয়েছেন। যতদিন পারফরম্যান্সের ঝলক থাকবে কমপক্ষে ততদিন সেটি উপভোগ করবেন পিএসজির নাম্বার টেন। কাভানি যতদিন পর্যন্ত মেসির মতো খেলতে পারবেন না ততদিন তাকে নেইমারের তালেই নাচতে হবে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক




