এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে রাষ্ট্রপতি ভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা করা হয়েছে।
আজ শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতি ভবনে পৌঁছলে সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।
তিন বাহিনীর চৌকস দল আর বাদক দলের এক চমৎকার গার্ড অব অনারের মধ্য দিয়ে অতিথিকে বরণ করে নিলো ভারত। দেশটির প্রথা মেনে সে গার্ড অব অনার দেওয়া হলো রাষ্ট্রপতি ভবনের সম্মুখ চত্বরে। এর মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের দ্বিতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
সকালের সূর্য চকচকে আলো ফেলে লাল রঙা ভবনটিকে তখন করে তুলেছে অনেক উজ্জ্বল। আগে থেকেই প্রস্তুত প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের অশ্বারোহী দল।
প্রস্তুত জলপাই রঙা পোশাকে সেনাবাহিনীর, সাদা পোশাকে নৌ-বাহিনী আর কালো ও আকাশি রঙের উর্দিতে বিমানবাহিনীর সদস্যরা। আরও প্রস্তুত সাদা ও নেভি-ব্লু পোশাকে বাদক দল।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পৌঁছে যান ৯টা বাজার ৫ মিনিট আগে। মিষ্টি গোলাপি রঙের কোট, সাদা পাজামা-পাঞ্জাবিতে। অপেক্ষা করছিলেন শেখ হাসিনার আগমনের।
ঘড়ির কাঁটায় যখন ৯টা বেজে ৭ মিনিট, তখন দূর থেকে হাঁক শোনা গেলো। কমান্ডার চিৎকার করে ঘোষণা দিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমনের। একটু পরেই ফোর কোর্টে দেখা গেলে অশ্বারোহী বেষ্টিত হয়ে ঢুকলো প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি। এগিয়ে গেলেন নরেন্দ্র মোদী। তাকে স্বাগত জানিয়ে নিয়ে এলেন চত্বরের দিকে।
লাল-গালিচা বিছানো পথে হেঁটে একা মঞ্চের দিকে এগিয়ে গেলেন শেখ হাসিনা। দৃপ্ত পায়ে। মঞ্চে উঠে দুই হাত মুষ্টিবদ্ধ হয়ে ভবনের দিকে মুখ করে দাঁড়ালেন। সামনে চৌকস বাহিনী। মঞ্চের দুই দিকে পতপত উড়ছে লাল সবুজ আর তেরঙা পতাকা।
এরপর যন্ত্রে বেজে উঠলো ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালবাসি…।’ যন্ত্র তার ঢাকের তালে তালে বাজলো সে সুর। পুরো জাতীয় সঙ্গীতই বাজানো হলো বাজনার তালে। এরপর শুরু হলো ‘জনগণমন-অধিনায়ক জয় হে ভারতভাগ্যবিধাতা…।’
জাতীয় সঙ্গীত বাজানো শেষ হলে কৃপাণ উঁচিয়ে সালাম জানালেন কমান্ডার। আর শেখ হাসিনাকে আমন্ত্রণ জানালেন গার্ড পরিদর্শনের। মঞ্চ থেকে নেমে এগিয়ে গেলেন শেখ হাসিনা। বাদ্যের তালে তালে দৃপ্ত পায়ে। বাক পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টালো বাদ্যের ধরন। একে একে সব বাহিনীর গার্ড পরিদর্শন শেষ করলেন শেখ হাসিনা।
এরপর দ্রুত পায়ে এগিয়ে গেলেন দর্শক সারির দিকে। নরেন্দ্র মোদি আগেই গিয়ে সেখানে বসেছেন। শেখ হাসিনা সেখানে এগিয়ে গেলে মোদী উঠে উপস্থিত তার সরকারের পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এদের মধ্যে ছিলেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব জিতেন্দ্র সিং, পল্লী উন্নয়নমন্ত্রী রাম ক্রিপাল যাদব, বিদ্যুৎমন্ত্রী পিযুষ গোয়েল, পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিষয়ক মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হংসরাজ গঙ্গারাম আহির, দিল্লির গভর্নর অনিল বাইজাল, পররাষ্ট্র সচিব জয়শঙ্কর, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলাসহ অন্যরা।
এরপর সারিতে দাঁড়ানো বাংলাদেশি অতিথিদের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদীর পরিচয় করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এদের মধ্যে ছিলেন- মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক, পানিসম্পদমন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কাজী জাফর উল্লাহ, নজীব আহমেদ ও মানু মজুমদার, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক আবুল কালাম আজাদ, সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন, পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক প্রমুখ।
পরিচয় পর্ব শেষ করে গালিচার শেষ প্রান্তে অবস্থান নেওয়া মিডিয়া কর্মীদের দিকে এগিয়ে যান দুই প্রধানমন্ত্রী। হাত নেড়ে তারা শুভেচ্ছা জানান। এর মধ্য দিয়েই শেষ হয় গার্ড অব অনারের কর্মসূচি।
পরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
মহাত্মা গান্ধীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের পর হায়দরাবাদ হাউসে শীর্ষ বৈঠকে বসবেন দুই প্রধানমন্ত্রী— শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী। এই বৈঠকে ভারতের সঙ্গে সাইবার নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, পরমাণু বিদ্যুৎ ও বিজ্ঞানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৩০টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা।
দুই প্রধানমন্ত্রীর শীর্ষ বৈঠকে দু’দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তিও সই হওয়ার কথা ছিল। তবে গতকাল শুক্রবার ভারতের সাউথ ব্লকের বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্মসচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন জানান, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বিষয়ে কোনো চুক্তি হচ্ছে না। তবে এ সংক্রান্ত দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হবে।
চার দিনের ঐতিহাসিক সফরে গতকাল শুক্রবার দিল্লি যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল শুক্রবার দুপুরে পালামের ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে পৌঁছার পরই তাকে লালগালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
সফরের প্রথম দিনে বিকেলে শেখ হাসিনার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ। দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানানো হয়। রাতে তিনি বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলীর বাসভবনে নৈশভোজে অংশ নেন।
আজ শনিবার সকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর রাতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

