Don't Miss
Home / সম্পাদকীয় / পে স্কেল নিয়ে অসন্তোষ : সংকট নিরসনে পদক্ষেপ জরুরি

পে স্কেল নিয়ে অসন্তোষ : সংকট নিরসনে পদক্ষেপ জরুরি

অষ্টম বেতন কাঠামোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে শতভাগ। বর্তমান বাজার অর্থনীতির সঙ্গে তুলনা করলে তাতে স্বস্তির পরিবেশ বজায় থাকার কথা। কিন্তু বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশের পর থেকেই প্রজাতন্ত্রের ১২ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ব্যাংক, বীমা, বিশ্ববিদ্যালয় ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে প্রায় ২১ লাখ জনবলের একটি বড় অংশ ক্ষুব্ধ। এই ক্ষোভ সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে এই সংকট নিরসনে জরুরি পদক্ষেপ নেয় প্রয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা টানা কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন। ব্যাংক চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। ১৫ জানুয়ারি থেকে গণছুটিতে যাওয়ার কর্মসূচি রয়েছে তাঁদের। প্রকৌশলী, চিকিৎসক, কৃষিবিদসহ ২৬ ক্যাডার ১১ জানুয়ারি থেকে দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে। আন্দোলনে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দাবি, বেতন বাড়লেও অষ্টম বেতন কাঠামোতে তাদের অবনমন করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ কতটা আইনসম্মত হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। মন্ত্রিসভার গত বৈঠকে মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, বেতন বৈষম্য নিরসন কমিটিতে যেভাবে আলোচনা হয়েছে তার প্রতিফলন নতুন পে স্কেলের গেজেটে নেই। অন্যদিকে আইনমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভেটিং যেভাবে হয়েছে সেভাবে গেজেট প্রকাশ হয়নি। নতুন বেতন কাঠামো বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গ্রেড-১-এ যাওয়ার সুযোগ কমবে। সরকারি কলেজের শিক্ষকদের পদ অবনমন করা হয়েছে। প্রকৌশলী, গবেষক, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাসহ কারিগরি পদে মেধাবীরা আগ্রহ হারাবেন। সরকারি চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেডের সিদ্ধান্ত নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা। ফলে শুধু প্রশাসন ক্যাডার বাদে সব ক্যাডারে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ।

Pay-Scale

প্রশাসন ও অন্যান্য ক্যাডারে পদোন্নতির জট আছে। পদের অভাবও রয়েছে। আগের বেতন কাঠামোতে তাতে কোনো সমস্যা ছিল না। পদোন্নতি না পেলেও সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল থাকার কারণে কর্মকর্তারা উচ্চতর গ্রেডে চলে যেতেন। কিন্তু অষ্টম বেতন কাঠামোতে এসে ক্যাডারদের এক ধাপ এগিয়ে রাখা হয়েছে। সিলেকশন গ্রেড তুলে দেওয়ায় সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের গ্রেড-১-এ যাওয়ার পথ বন্ধ হয়ে গেছে। কার্যত তৃতীয় গ্রেড থেকেই তাঁদের অবসরে যেতে হবে। অন্যদিকে বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা কলেজ শিক্ষকরা চতুর্থ গ্রেড থেকেই অবসরে যাবেন।

বেতন কাঠামো নিয়ে এমন জটিলতা সৃষ্টির কথা ছিল না। জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ, সচিব কমিটির সুপারিশ ও মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত সার সংক্ষেপেও ক্যাডার ও নন-ক্যাডার বৈষম্য ছিল না বলে খবরে প্রকাশ। এমনকি আইন মন্ত্রণালয়ও বিভিন্ন অসংগতি চিহ্নিত করে সেগুলো নিরসনের পরামর্শ দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী আলোচনা করে সমাধানের একটি ফর্মুলাও বের করেছিলেন বলে জানা যায়। তাতে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেডের বিকল্প ব্যবস্থা ছিল। এই ফর্মুলা বাস্তবায়িত হলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের দাবি অনেকটাই পূরণ হয়ে যেত। চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদসহ ২৬ ক্যাডারের অসন্তোষও মিটে যেত। কিন্তু এই ফর্মুলা উপেক্ষা করেই বেতন কাঠামোর গেজেট প্রকাশ করা হয়। ফলে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। তাই পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র লুকিয়ে থাকতে পারে বলেও অনেকে অনুমান করছেন।

দ্রুত এ অসন্তোষ দূর করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে একটি সহজ সমাধান বের করতে পারবে বলে আমরা মনে করি।

-সম্পাদক

x

Check Also

২০২১ গুরুত্বপূর্ণ একটি বছর

এমএনএ সম্পাদকীয় : হাসি-কান্না, আনন্দ-বেদনার মধ্য দিয়ে কেটে গেলো একটি বছর। শতাব্দির ভয়াবহ মহামারির কবলে ...