প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অন্যায় প্রভাব খাটাইনি : খালেদা
Posted by: News Desk
December 5, 2017
এমএনএ রিপোর্ট : জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সকল অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আদালতের কাছে ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন থাকার সময় কোনো মাধ্যমে আমার পদের অপব্যবহার করিনি। আমার পদের অন্যায় প্রভাব খাটাইনি।’
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর বকশী বাজারে বিশেষ জজ আদালতে-৫নং বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে হাজির হয়ে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলার আত্মপক্ষ সমর্থনের বক্তব্য উপস্থাপনের সময় খালেদা জিয়া এসব কথা বলেন। বেলা সোয়া ১১টা থেকে ২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত খালেদা জিয়া আত্মপক্ষ সমর্থন করে তাঁর বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে খালেদা জিয়া তার অসমাপ্ত বক্তব্য উপস্থাপন করে শেষ করেন। পরে আদালত ১৯, ২০ ও ২১ ডিসেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে দিন ধার্য করেন।
বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে ৩২ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন তা অসত্য কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণীত।’
আজ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার যুক্তিতর্ক শুনানির দিন ধার্য ছিল। বামদলের ডাকা হরতাল কর্মসূচি থাকায় এ দুই মামলায় গত ৩০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়া আদালতে হাজির না হওয়ায় জামিন বাতিল করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। ওই দিন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে বাকি বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য হাজির না হওয়ায় এই আদালতের বিচারক আখতারুজ্জামান খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে উভয় মামলা যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য ৫, ৬ ও ৭ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেন। এ নিয়ে মামলা দুটিতে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে তৃতীয় দফায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। আজ আদালতে হাজির হয়ে শুরুতেই জামিন চাইলে আদালত পৃথক দুই মামলায় তা মঞ্জুর করেন।
আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় খালেদা জিয়া আদালতকে বলেছেন, তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। এ মামলা থেকে বেকসুর খালাস পাওয়ার যোগ্য। আদালতের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যমূলকভাবে। আমাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্য আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ বানোয়াট ও অপ্রমাণিত। আমি দৃঢ়ভাবে সব অভিযোগ অস্বীকার করছি। আমি প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন থাকার সময় কোনো মাধ্যমে আমার পদের অপব্যবহার করিনি। আমার পদের অন্যায় প্রভাব খাটাইনি। আমাদের পারিবারিক বাসস্থান ৬ মঈনুল রোড, এখানে আমার পরিবারের সবাই থাকতেন। এটা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নয়। আমি আমার পদে থাকার সময় কারও মাধ্যমে আমার পদের প্রভাব খাটাইনি। আমি কাউকে কোনো অন্যায় আদেশ প্রদান করিনি। আমি আমার পদে থাকার সময় কারও কোনো অর্থের দ্বারা ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হইনি। কাউকে অনৈতিকভাবে লাভবান করিনি। আমি আমার পদে আসীন থেকে নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছি। কোনো আইন ভঙ্গ করিনি ও কোনো অপরাধ করিনি।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক হারুন অর রশীদ নিরপেক্ষতা লঙ্ঘন করে কোনো রুপ দালিলিক প্রমাণ ছাড়া আমার বিরুদ্ধে একটি হয়রানিমূলক ও মিথ্যা রিপোর্ট দাখিল করেন। তারই ধারাবাহিকতায় তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অসৎ উদ্দেশে অন্যের ইশারায় আমার বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়েছেন।এ মামলায় আমি ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছি।’
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করেননি বলেও আদালতে অভিযোগ করেন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি অরফানেজ ট্রাস্ট গঠন করেনি। ব্যাংকের লেনদেনের সাথে জড়িত ছিলাম না। কাজেই প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে নিজে লাভবান হওয়া এবং অন্য কাউকে লাভবান করার প্রশ্ন উঠতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে সাক্ষীরা কেউ দালিলিক প্রমাণ বা তথ্য প্রমাণ হাতেনাতে আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘ট্রাস্ট গঠন ও পরিচালনায় আমার কোনো ভূমিকা ছিল না। কিন্তু তদন্ত কর্মকর্তা মনগড়া অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করেছেন।’
আজ জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার যুক্তিতর্কের শুনানি ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার সাফাই সাক্ষ্যের জন্য দিন ধার্য ছিল। পরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৯, ২০ ও ২১ ডিসেম্বর যুক্তিতর্কের শুনানির জন্য পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন আদালত। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও একই দিনে সাফাই সাক্ষীর জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
মামলার বিবরণীতে জানা যায়, ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলা করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় আসামি হলেন খালেদা জিয়া, তাঁর বড় ছেলে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ছয়জন। তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এর মধ্যে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। ৩ কোটি ১৫ লাখ ৪৩ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় আসামি হলেন খালেদা জিয়াসহ চারজন।
খালেদা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অন্যায় প্রভাব খাটাইনি 2017-12-05