Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / বাজে ফিল্ডিং-ব্যাটিংয়ের মাশুল দিল বাংলাদেশ

বাজে ফিল্ডিং-ব্যাটিংয়ের মাশুল দিল বাংলাদেশ

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : বাজে ফিল্ডিং এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ের মাশুল দিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। চট্টগ্রাম টেস্টে মুশফিকদের ৭ উইকেটে হারিয়ে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ১-১ সমতা ফেরায় অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের দেয়া ৮৬ রানের লক্ষ্যে মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে পৌছে যায় অসিরা।

এর আগে মিরপুর টেস্টে ২০ রানের রোমাঞ্চকর জয় পাওয়া বাংলাদেশ সিরিজ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়।

চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩০৫ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। আজ বৃহস্পতিবার ৯ উইকেটে ৩৭৭ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে অস্ট্রেলিয়া। কোনো রান যোগ করার আগেই দিনের দ্বিতীয় ওভারে নাথান লায়নকে আউট করে বাংলাদেশের মুখে হাসি ফোটান মোস্তাফিজ।

৭২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে নাথান লায়ন ও প্যাট কামিন্সের বোলিং তোপে ১৫৭ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে অজিদের সামনে ৮৬ রানের সহজতম লক্ষ্য দাঁড়ায়। সেই লক্ষ্য পেরুতে কোনো সমস্যাই হয়নি স্মিথের দলের।

ছোট পুঁজি নিয়েও বাংলাদেশের বোলাররা দারুণ শুরু করেন। ৪৮ রানের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ান তিন শীর্ষ ব্যাটসম্যান ওয়ার্নার, স্মিথ ও রেনশকে সাজঘরে পাঠান মোস্তাফিজ, সাকিব, তাইজুলরা। তবে এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও পিটার হ্যান্ডসকম্বের মারকুটে ব্যাটিংয়ে সহজেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অজিরা। ২টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৭ বলে ২৪ রান করে অপরাজিত থাকেন ম্যাক্সওয়েল, তার সঙ্গে অপরাজিত ছিলেন ১৪ বলে ১৬ রান করা পিটার হ্যান্ডসকম্ব। চতুর্থ উইকেটে এই দুজন ৩৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। ওয়ার্নার আউট হন ৮ রান করে। স্মিথ ১৬ ও রেনশ করেন ২২ রান।

চট্টগ্রাম টেস্টে জিততে পারলে কিংবা ড্র করতে পারলে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে টপকে টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ের আট নম্বরে ওঠে আসতে পারতো বাংলাদেশ। তবে বাজে ফিল্ডিং ও দায়িত্বজ্ঞানহীন ব্যাটিংয়ে সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায় টাইগারদের।

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে একটি করে উইকেট নেন মোস্তাফিজ, তাইজুল ও সাকিব। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ওয়ার্নারকে আউট করেন মোস্তাফিজ।

৮৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের পঞ্চম এবং মোস্তাফিজের ব্যক্তিগত তৃতীয় ওভারের পঞ্চম বলে বাউন্সারে নাকাল হয়ে শেষ সময় হুক করেন ওয়ার্নার। বল ডিপ মিডউইকেটে সৌম্য সরকারের হাতে জমা পড়লে উদযাপনে মেতে ওঠে বাংলাদেশ।

শুরুতেই উইকেট হারালেও সহজাত খেলাই চালিয়ে যান রেনশ ও স্মিথ। তাইজুল এসে জুটি ভাঙেন। তার করা দশম ওভারের প্রথম বলে স্মিথের ব্যাট ছুঁয়ে মুশফিকের গ্লাভসে জমা পড়ে। সাকিবের করা পরের ওভারে মুশফিকের হাতেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন রেনশ। তবে এরপর আর বিপদ হতে দেননি ম্যাক্সওয়েল ও হ্যান্ডসকম্ব। সাবলীল ব্যাটিংয়ে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন এই দুজন।

আজ বৃহস্পতিবার ৯ উইকেটে ৩৭৭ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে অস্ট্রেলিয়া। কোনো রান যোগ করার আগেই দিনের দ্বিতীয় ওভারে নাথান লায়নকে আউট করে বাংলাদেশের মুখে হাসি ফোটান মোস্তাফিজ। ৭২ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে নাথান লায়ন ও প্যাট কামিন্সের বোলিং তোপে দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ১৫৭ রানে গুটিয়ে যাওয়ায় সেই হাসি উধাও হয়ে যায়।

ফলে অজিদের সামনে ৮৬ রানের সহজতম লক্ষ্য দাঁড়ায়; হেসেখেলেই যেই লক্ষ্য পেরিয়ে যায় সফরকারীরা।

বাংলাদেশের হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিক ৩১ এবং মুমিনুল করেন ২৯ রান। সাব্বির রহমানের ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। মেহেদী হাসান মিরাজ ১৪ রানে অপরাজিত থাকেন। সৌম্য ৯, তামিম ১২, ইমরুল ১৫, সাকিব ২ ও নাসির ৫ রান করে আউট হন।

দ্বিতীয় ইনিংসেও অস্ট্রেলিয়ার সেরা বোলার নাথান লায়ন। ৬০ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট নেন তিনি। প্রথম টেস্টে ৯ উইকেট নেয়া লায়ন চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম ইনিংসে নেন ৭ উইকেট। সবমিলিয়ে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ২২ উইকেট নেন তিনি। দুই টেস্টের সিরিজে তার চেয়ে বেশি উইকেট নেন কেবল রঙ্গনা হেরাথ (২৩টি)। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে দুটি করে উইকেট নেন স্টিভ ও’কিফ ও প্যাট কামিন্স।

মিরপুরে চার দিনে হারের জবাব চট্টগ্রামে চার দিনে জিতেই দিল অস্ট্রেলিয়া। বড় দলের সঙ্গে সিরিজ জয়ের স্বাদটা বাংলাদেশের রইল অধরাই।

বাংলাদেশ একাদশ : তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মুমিনুল হক, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাইজুল ইসলাম, নাসির হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান।

অস্ট্রেলিয়া একাদশ : ডেভিড ওয়ার্নার, ম্যাট রেনশ, স্টিভেন স্মিথ, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, হিলটন কার্টরাইট, ম্যাথু ওয়েড, অ্যাস্টন অ্যাগার, স্টিভ ও’কিফ, প্যাট কামিন্স ও নাথায় লায়ন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৩০৫

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস : ৩৭৭

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস : ৭১.২ ওভারে ১৫৭ (তামিম ১২, সৌম্য ৯, ইমরুল ১৫, নাসির ৫, সাকিব ২, মুশফিক ৩১, সাব্বির ২৪, মুমিনুল ২৯, মিরাজ ১৪*, তাইজুল ৪, মুস্তাফিজ ০; কামিন্স ২/২৭, লায়ন ৬/৬০, ও’কিফ ২/৪৯, অ্যাগার ০/৯)

অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস : (লক্ষ্য ৮৬) ১৫.৩ ওভারে ৮৭/৩ (রেনশ ২২, ওয়ার্নার ৮, স্মিথ ১৬, হ্যান্ডসকম ১৬*, ম্যাক্সওয়েল ২৫*; মুস্তাফিজ ১/১৬, সাকিব ১/৩৫, তাইজুল ১/২৬, নাসির ০/১০)

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : ন্যাথান লায়ন

সিরিজ সেরা : ন্যথান লায়ন ও ডেভিড ওয়ার্নার।

x

Check Also

অনগ্রসর এলাকায় শিক্ষার সুযোগ বাড়ালে বিকশিত হবে সুপ্ত প্রতিভা: জুবাইদা রহমান

শিক্ষাঙ্গন প্রতিবেদক দেশের প্রত্যন্ত ও অনগ্রসর অঞ্চলে শিক্ষার সুযোগ আরও সম্প্রসারণ করা গেলে সেখানে লুকিয়ে ...