বিতর্কিত ৯টি ধারা সংশোধনের দাবি সম্পাদক পরিষদের
Posted by: News Desk
October 15, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিতর্কিত ৯টি ধারা সংশোধনের দাবিতে মানববন্ধন করেছে সংবাদপত্রের সম্পাদকের সংগঠন সম্পাদক পরিষদ। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী এই মানববন্ধন করা হয়। এতে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রের সম্পাদকেরা অংশ নেন।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের সঙ্গে আলোচনা করে বিতর্কিত ধারাগুলো সংশোধনের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। কিন্তু এটি না করেই আইনটি কার্যকর করা হয়েছে।
সম্পাদক পরিষদ বলছে, সদ্য কার্যকর হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কয়েকটি ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
এর আগে গত শনিবার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৯টি ধারা (৮,২১, ২৫,২৮, ২৯,৩১, ৩২,৪৩ ও ৫৩) নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মানববন্ধন কর্মসূচি ঘোষণা করে সম্পাদক পরিষদ।
তাদের ভাষ্য, উল্লিখিত ৯টি ধারা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এজন্য ২১ অক্টোবর শুরু হতে যাওয়া বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে ধারাগুলো সংশোধন করে আইনটি পরিবর্তনের দাবি পরিষদের।
মানববন্ধনে সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহ্ফুজ আনাম তাদের দাবি তুলে ধরে বলেন, সরকারের মন্ত্রীরা বলছেন, আলোচনা বন্ধ হয়নি। এটা ইতিবাচক। কিন্তু আলোচনার নামে যেন প্রহসন না হয়।
এ সময় তিনি আরও বলেন, আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটিকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থী মনে করি।
তিনি বলেন, এ আইন বলবৎ থাকলে প্রেস মিডিয়া, টেলিভিশন, অনলাইন মিডিয়াসহ কেউই আমরা স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারব না।
লিখিত বক্তব্যে মাহফুজ আনাম বলেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৮ পাস হওয়ার আগ থেকেই এ আইনটি নিয়ে, এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে সম্পাদক পরিষদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছিলাম।
‘আমরা মনে করি এ আইনটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের পরিপন্থী। আমরা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধী নই। আমরা এ আইনটির বিশেষ কতগুলো ধারার সংশোধন দাবি করছি।’
তিনি বলেন, বর্তমান আইনটি শুধু সাইবার জগৎ নয়, স্বাধীন গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার আইন। আমরা চাই আগামী সংসদ অধিবেশনে এ আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতা নিশ্চিত করা হোক।
এ সময় মাহফুজ আনাম পরিষদের পক্ষ থেকে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরেন।
সম্পাদক পরিষদের দাবি-
• সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাকস্বাধীনতা সুরক্ষার লক্ষ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩ ধারা অবশ্যই যথাযথভাবে সংশোধন করতে হবে।
• এসব সংশোধনী বর্তমান সংসদের শেষ অধিবেশনে আনতে হবে।
• পুলিশ বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালানোর ক্ষেত্রে তাদের শুধু নির্দিষ্ট বিষয়বস্তু আটকে দেয়ার অনুমতি দেয়া যাবে; কিন্তু কোনো কম্পিউটারব্যবস্থা বন্ধ করার অনুমতি দেয়া যাবে না। তারা শুধু তখনই প্রকাশের বিষয়বস্তু আটকাতে পারবে, যখন সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিষ্ঠানের সম্পাদকের সঙ্গে আলোচনা করে কেন ওই বিষয়বস্তু আটকে দেয়া উচিত, সে বিষয়ে যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে পারবে।
• কোনো সংবাদমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের কোনো কমপিউটারব্যবস্থা আটকে দেয়া বা জব্দ করার ক্ষেত্রে অবশ্যই উচ্চ আদালতের আগাম নির্দেশ নিতে হবে।
• সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের সাংবাদিকতার দায়িত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধের ক্ষেত্রে প্রথমেই আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তাদের বিরুদ্ধে সমন জারি করতে হবে (যেমনটি বর্তমান আইনে আছে) এবং সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীদের কোনো অবস্থাতেই পরোয়ানা ছাড়া ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া আটক বা গ্রেপ্তার করা যাবে না।
• সংবাদমাধ্যমের পেশাজীবীর দ্বারা সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে মামলার গ্রহণযোগ্যতা আছে কিনা, তার প্রাথমিক তদন্ত প্রেস কাউন্সিলের মাধ্যমে করা উচিত। এই লক্ষ্যে প্রেস কাউন্সিলকে যথাযথভাবে শক্তিশালী করা যেতে পারে।
• এ সরকারের পাস করা তথ্য অধিকার আইনকে দ্ব্যর্থহীনভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ওপর প্রাধান্য দেয়া উচিত। ওই আইনে নাগরিক ও সংবাদমাধ্যমের জন্য যেসব স্বাধীনতা ও অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, সেগুলোর সুরক্ষা অত্যাবশ্যক।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন কালের কণ্ঠ সম্পাদক ইমদাদুল হক মিলন, বাংলাদেশ প্রতিদিন সম্পাদক নঈম নিজাম, সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, যুগান্তর এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক সাইফুল আলম, ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত প্রমুখ।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের প্রতিবাদে গত ২৯ সেপ্টেম্বর মানববন্ধন করার কথা ঘোষণা করে সম্পাদক পরিষদ। কিন্তু তথ্যমন্ত্রীর অনুরোধে ওই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছিল।
সাংবাদিক, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি উপেক্ষা করে গত ১৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিল পাস করা হয়।
সম্পাদক সংশোধনের বিতর্কিত দাবি পরিষদের ৯টি ধারা 2018-10-15