এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইন্দোনেশিয়ার অধিবাসী বিশ্বের সবচেয়ে বয়জ্যেষ্ঠ ব্যক্তি সাপারাম সোদিমেজো যিনি ‘মে গোতা’ নামেই বেশি পরিচিত গতকাল রবিবার দেশটির মধ্য জাভার একটি গ্রামে মৃত্যুবরণ করেছেন। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ১৪৬।
ইন্দোনেশিয়ায় জন্মসনদ তৈরির কাজটি শুরু হয়েছিল ১৯০০ সালে। কিন্তু কর্মকর্তারা সোদিমেজোর সঙ্গে কথা বলে এবং তার জন্ম তারিখের সপক্ষে কাগজপত্র ও প্রমাণ জমা দিয়েছেন তা যাচাই করে তার বয়সের ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েছেন।
তবে দেশটির কর্মকর্তার বিবিসিকে জানিয়েছিল, সোদিমেজোর কাগজপত্রগুলো বৈধ।
জানা যায়, স্বাস্থ্যের অবনতি হলে গত ১২ এপ্রিল সোদিমেজোকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাকে হাসপাতালে
ভর্তি হওয়ার কথা জানালেও তিনি হাসপাতালে ভর্তি হতে অস্বীকৃতি জানাতে থাকেন। অবশেষে ছয়দিন পর তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনা হয়। বাড়ি ফিরে আসার পর থেকেই তিনি খাওয়া দাওয়ায় অনিয়ম শুরু করেছিলেন।
তার নাতি সুরিয়ান্তো বিবিসিকে বলেন, ‘হাসপাতাল থেকে ফিরে আসার পর থেকেই নানা দুই চামুচ জাউ (তরল খাবার) ও সামান্য পরিমান পানি পান করত। সেটাও মাত্র দুয়েকদিন। এরপর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি খানা-পিনা থেকে নিজেকে বিরত রেখেছিলেন।’
দীর্ঘ জীবনের গোপন চাবিকাঠি কী তা নিয়ে গত বছর বিবিসিকে এক সাক্ষাৎকারে সোদিমেজো বলেছিলেন, ‘একটি হচ্ছে ধৈর্য। আর অন্যটি হচ্ছে ভালবাসা – যারা আমার আশেপাশে রয়েছে, আমাকে দেখাশোনা করছে তাদের ভালবাসা।’
সোদিমেজো মৃত্যুর আগেই তার চার স্ত্রী, ১০ ভাই-বোন ও ৩ সন্তান মারা গিয়েছিলেন।
মারা যাওয়া সোদিমেজোর আত্মীয়রা জানিয়েছেন, তার কবরের ফলকটি দীর্ঘদিন ধরে বাড়ির দরজার পাশে পড়ে ছিল। আজ সোমবার তার কবর হয়ে যাওয়ার পর ফলকটি সেখানে লাগিয়ে দেয়া হয়।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

