Don't Miss
Home / ব্যবসা ও বাণিজ্য / ভারতে বহুল ব্যবহূত ওষুধের দাম ৫০% পর্যন্ত বাড়ছে

ভারতে বহুল ব্যবহূত ওষুধের দাম ৫০% পর্যন্ত বাড়ছে

এমএনএ অর্থনীতি রিপোর্ট : গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টি-অ্যালার্জি, অ্যান্টি-ম্যালেরিয়া ওষুধ, বিসিজি ভ্যাকসিন ও ভিটামিন সি-সহ বহুল ব্যবহূত ২১ ধরনের ওষুধের মূল্য ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের জাতীয় ফার্মাসিউটিক্যাল মূল্য নির্ধারণ কর্তৃপক্ষ (এনপিপিএ)। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়া।

জনস্বার্থে ওষুধের মূল্যবৃদ্ধির নজিরবিহীন সিদ্ধান্তটি ‘ওষুধের মূল্য নিয়ন্ত্রণ আদেশ (ডিপিসিও) ২০১৩’-এর ১৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী নেয়া হয়েছে। উল্লিখিত গুরুত্বপূর্ণ ওষুধগুলোর প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ডিপিসিও ২০১৩ এর আগে শুধু ওষুধের মূল্য কমাতে ব্যবহার হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ এ আদেশ এর আগে কার্ডিয়াক স্টেন্ট ও অর্থোপেডিক ইমপ্ল্যান্টের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োগ করা হয়েছে।

ওষুধ শিল্পের দুই বছর ধরে করে আসা অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এনপিপিএ এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ওষুধের কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার ফলে এসব ওষুধের পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় শিল্পটির পক্ষ থেকে মূল্য বাড়ানোর জন্য বারবার অনুরোধ করা হচ্ছিল।

চীন থেকে আমদানীকৃত গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল এপিআইয়ের মূল্য সম্প্রতি ২০০ শতাংশ বেড়েছে। পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা বাড়ায় দেশটির কারখানাগুলো এপিআইয়ের মূল্য এতটা বাড়িয়েছে।

এদিকে তালিকাভুক্ত ফর্মুলেশনের (ওষুধ তৈরির উপাধান) প্রতি বছর শুধু এপ্রিলে একবার সংশোধন করা যায় বলে জানিয়েছে ডিপিসিও। সেক্ষেত্রে আগের বছরের ওষুধের পাইকারি মূল্যসূচককে হিসাবে নেয়া হয়। প্রসঙ্গত, যেসব পদের মূল্য বাড়ানো হয়েছে, এগুলো কম দামের ওষুধ। এছাড়া বহুল ব্যবহূত বলে এগুলোর দাম বারবার নিয়ন্ত্রণে রাখার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

৯ ডিসেম্বর নেয়া সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় এনপিপিএ জানায়, যেসব ওষুুধের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, সেগুলো বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় অনিবার্যভাবে ব্যবহার হয়। তাই এগুলো দেশের জনস্বার্থ কর্মসূচির জন্য অত্যন্ত জরুরি। অন্যদিকে এসব ওষুধের বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করায় অনেক কোম্পানি সংশ্লিষ্ট পদগুলো উৎপাদন বন্ধ রাখতে আবেদন করেছে বলেও জানায় এনপিপিএ।

অন্যদিকে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সুলভ মূল্যে এসব ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। সিদ্ধান্তটির ফলে জীবন রক্ষাকারী এসব ওষুধ দেশের সর্বত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাবে। এছাড়া বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকার নিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় রোগীদের বাধ্য হয়ে উচ্চ মূল্যের বিকল্প ওষুধের দিকেও ঝুঁকতে হবে না বলে জানিয়েছে এনপিপিএ।

দেশটির ডিপিসিওর নীতিমালা অনুযায়ী, ওষুধের মূল্য উৎপাদন ব্যয়ের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা যায় না। তা নির্ধারণ করতে হয় বাজারের ভিত্তিতে। তবে এখন যে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে, তা ব্যতিক্রম। সংশ্লিষ্ট ওষুধগুলোর উপর্যুপরি মূল্য নিয়ন্ত্রণের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতির মোকাবেলায় ব্যতিক্রমী এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে ডিপিসিও-২০১৩ অনুযায়ী ওষুধের মূল্য বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট শিল্পটির পক্ষ থেকে ৪৯টি আবেদন জমা পড়ে। এসব আবেদনে ৭২টি ফর্মুলেশনের মূল্য বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়। কোম্পানিগুলোর আবেদনের ভিত্তিতে ১৯টি ফর্মুলেশনের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে এনপিপিএ।

এদিকে স্বাস্থ্য ও ওষুধ মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে ওষুধ নিয়ন্ত্রক জেনারেলও রয়েছেন। এ কমিটি কোম্পানিগুলোর দাবি অনুযায়ী মূল্য বাড়ানোর আগে ওষুধগুলোর স্থায়ী প্রয়োজনীয়তা, বাজারের শেয়ার ও বিকল্প ওষুধের দিকগুলো খতিয়ে দেখবে।

x

Check Also

আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম–এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আগামী এক বছরকে ‘নজরুল বর্ষ’ ...