মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত ৩ হাজার সৈন্য পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
Posted by: News Desk
January 4, 2020
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইরান সমর্থিত কুদস বাহিনীর প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর আবারো মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অতিরিক্ত তিন হাজার সেনা প্রেরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র।
আল জাজিরা ও এনবিসি নিউজ জানায়, যুক্তরাষ্ট্র সেনাবাহিনীর ৮২তম এয়ারবর্ন ডিভিশন থেকে সেনাদের মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়েছে। বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইরাকে নতুন করে ৩ হাজার সৈন্য প্রেরণ করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে দেশটিতে সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর আল জাজিরার
ওই অঞ্চলে মার্কিন বাহিনীর ওপর হুমকি বাড়তে থাকায় সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এসব সেনা মোতায়েন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার পর এই পদক্ষেপ নিল ওয়াশিংটন।
আজ শুক্রবার ভোরে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জেনারেল সোলাইমানির গাড়িবহর লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। এ হামলায় সোলাইমানিসহ বেশ কয়েকজন নিহত হন।
১৯৯৮ সাল থেকে ইরানের কুদস ফোর্সের নেতৃত্ব দেওয়া সোলাইমানি ইরানের শাসনব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি, রাষ্ট্রীয়ভাবে তাকে দেওয়া হতো জাতীয় বীরের সম্মান। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পর জেনারেল সোলাইমানিকে ইরানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি মনে করা হতো।
এই হামলার পর খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেছেন, সোলাইমানিকে হত্যার কঠোর প্রতিশোধ নেবে ইরান। এ হত্যার নিন্দা করে ইরানের পক্ষ থেকে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিলম্বে ইরাক ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বছরের মে মাস থেকে মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে ১৪ হাজার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। এ সপ্তাহের শুরুতে ৭৫০ বাহিনীকে কুয়েতে পাঠানো হয়েছে। অতিরিক্ত সেনারা তাদের সঙ্গে যোগ দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুদ্ধ সৃষ্টির জন্য নয়, বরং যুদ্ধ বন্ধের জন্য এই হামলা। কিন্তু ইরানের সীমান্তে থাকা ইরাকে নতুন করে ৩ হাজার সৈন্য প্রেরণ এবং মার্কিন সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজ দেশের সামরিক বাহিনীর সক্ষমতা সম্পর্কে ট্রাম্পের বক্তব্য ভিন্ন বার্তা দিচ্ছে বিশ্বকে।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত যুদ্ধ সৃষ্টির জন্য। জাতিসংঘকে পাঠানো তাদের চিঠিতে মার্কিন এই হামলাকে ‘অ্যাক্ট অব ওয়ার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে হামলার পাল্টা জবাব দেয়ার ঘোষণা নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
যুক্তরাষ্ট্র ৩ হাজার পাঠাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সৈন্য 2020-01-04