এমএনএ শিল্প ও বাণিজ্য ডেস্কঃ রাজধানীর আড়তগুলো থেকে তরমুজ, বেগুন ও লেবু সহ প্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য পাইকারি বাজারে হাতবদল হয়ে খুচরা পর্যায়ে ভোক্তার কাছে বিক্রি হচ্ছে তিন থেকে চারগুণ বেশি দামে। রমজান মাসে মানুষকে জিম্মি করে নিত্যপণ্যে উচ্চমূল্য আদায় করছে অসাধু ব্যবসায়ীরা।
বাজার নিয়ন্ত্রণে এসব অসাধু ব্যবসায়ীদের ধরতে মধ্যরাতে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
বুধবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর কারওয়ান বাজরের আড়তে অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার এর নেতৃত্বে এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়। এসময় অভিযানে আরও অংশ নিয়েছেন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বিকাশ চন্দ্র দাশ ও সহকারী পরিচালক আব্দুল জব্বার মন্ডল প্রমুখ।
অভিযানে রাত ১২টার দিকে ট্রাকের চালকদের সঙ্গে কথা বলে ভোক্তা অধিদপ্তর জানতে পেরেছে, কৃষকের কাছ থেকে প্রতি বস্তা লেবু কেনা পড়ে আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা। প্রতি বস্তায় লেবু থাকে ৭শ থেকে ৮শ পিস। প্রতি বস্তায় ভাড়াবাবদ খরচ হয় প্রায় ৩০০ টাকা। অন্যান্য খরচ মিলিয়ে কৃষক থেকে গড়ে প্রতি পিছ লেবু কেনায় খরচ হয় সাড়ে তিন থেকে চার টাকা। এরপর পাইকারি ও খুচরা হাত বদলেই প্রতি পিছ লেবুর দাম উঠে যায় ১০ থেকে ১৫ টাকায়।
এরপর রাত সাড়ে ১২টার সময় অভিযান চালানো হয় বেগুনের আড়তে। পাইকাররা প্রতি কেজি বেগুন ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।
পরে রাত দেড়টার দিকে তরমুজের আড়তে অভিযান চালিয়ে জানা যায় পাইকাররা কৃষকের কাছ থেকে ৯ থেকে ১০ কেজি ওজনের একশ পিস তরমুজ কিনছেন ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকায়। সেই তরমুজ তারা পাইকারিতে বিক্রি করছেন ৩৫ হাজার টাকায়।
উল্লেখ্য লেবু, বেগুন ও তরমুজের পাইকাররা মৌখিকভাবে পাইকারি দাম বললেও কেউই পণ্য কেনার কোনো রশিদ দেখাতে পারেনি। অতিরিক্ত দাম নেওয়ার কারণে মেসার্স হাওলাদার এন্টারপ্রাইজের দুইজন পাইকারি ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার করে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এভাবে লেবু ও বেগুনের কয়েকজন পাইকারি ব্যবসায়ীকে জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার।
অভিযান সম্পর্কে মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার জানান, সবজির দাম লাগামহীন বাড়ছে এটার কারণ হিসেবে আড়তদার ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা বাণিজ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছিলেন রাস্তায় চাঁদাবাজি হয়। এ কারণেই দাম বাড়ছে। তাদের এ তথ্য সঠিক কি-না তা যাচাই করতে মাঠ পর্যায়ে বিষয়টি তদারকি করতে বলা হয়। তথ্য যাচাইয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশনায় মধ্যরাতে কারওয়ান বাজারের আড়তে তদারকি করেছি। এখানে বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পণ্য ট্রাকে বোঝাই করে এনে বিক্রি করছে। রাস্তায় চাঁদা দিতে হয়েছে কি-না জানতে চাইলে একজন চালক জানিয়েছেন ২০ টাকা দিতে হয়েছে। অন্য সব চালক বলেছেন তাদের কোনো চাঁদা দিতে হয়নি।
তিনি বলেন, আমরা ট্রাক থেকে কত টাকায় সবজি বিক্রি করছে এ তথ্য নিয়েছি। এক বস্তা লেবুর দাম পরে ২৫শ থেকে তিন হাজার টাকা। প্রতি বস্তায় ৭০০ থেকে ৮০০ লেবু থাকে। প্রতি বস্তার ভাড়া প্রায় ৩০০ টাকা। সব মিলিয়ে প্রতিপিস লেবুর দাম পরে তিন থেকে ৪ টাকা। এই লেবু খুচরা বাজারে ৪০ থেকে ৫০ টাকা হালি বিক্রি করছে। তিন টাকার লেবু বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১২ টাকায়। অর্থাৎ দুই থেকে চার গুণ বেশি দামে লেবু বিক্রি করছে। বিষয়টি তদারকি করতে পাইকারি ও খুচরা বাজারেও অভিযান করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পাইকারি পর্যায়েই তরমুজ আর বেগুনের অস্বাভাবিক দাম দেখা গেছে। তবে কৃষক প্রকৃতপক্ষে কত দর পায় তা খোঁজ নেওয়া হবে।
মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যাত্রাবাড়ী, মিরপুর আড়তসহ জেলা পর্যায়ের আড়তগুলোতেও অভিযান করা হবে। কেউ অযৌক্তিক দাম নিলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন সময়ে রাস্তায় পণ্যবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি হয় বলে যেসব অভিযোগ করে আসছে তার বাস্তব কোনো প্রমাণ ব্যবসায়ীরা দেখাতে পারেনি।’
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

