জেলা প্রতিনিধি : সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার আশায় মাদকাসক্ত ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিলেন এক মা। আজ সোমবার পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় এ ঘটনা ঘটেছে।
মায়ের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ মাদকাসক্ত ছেলেকে গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে। আজ বেলা সাড়ে তিনটায় আদালত ওই যুবককে তিন মাসের জেল দিয়েছেন।
থানা-পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দড়িনারিচা মহল্লার ঝন্টু মিয়ার ছেলে নয়ন হোসেন (২৩) দীর্ঘদিন থেকে মাদকাসক্ত।
নেশার টাকার জন্য তিনি পরিবারে অশান্তি করতেন। টাকা না পেলে মাসহ পরিবারের সদস্যদের মারতে যেতেন। ঘরের জিনিসপত্র বিক্রি করে দিতেন।
ছেলের কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে মা নুরুন্নাহার বেগম আইনের মাধ্যমে সন্তানকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাকিল মাহমুদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা দেন।
এতে উল্লেখ করা হয়, তাঁর ছেলে নয়ন নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে পরিবারে অশান্তি সৃষ্টি করে আসছেন। নেশায় বাধা দেওয়ায় নয়ন তাঁর মাকেও মারতে আসেন। বাড়িঘরের জিনিসপত্র ভাঙচুর করে টাকাপয়সা নিয়ে চলে যান। তাই নেশাগ্রস্ত ছেলেকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য তিনি ইউএনওর সহযোগিতা চান।
মায়ের অভিযোগ আমলে নিয়ে ইউএনও শাকিল মাহমুদ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঈশ্বরদী থানা-পুলিশকে নির্দেশ দেন। পুলিশ আজ দুপুরে নয়নকে তাঁর বাড়ি থেকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গ্রেপ্তার করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করে। বেলা সাড়ে তিনটায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ঈশ্বরদীর সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহিদ নেওয়াজ অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে মাদক সেবনের দায়ে নয়নকে তিন মাসের জেল দেন।
সূত্র জানিয়েছে, নয়ন ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে দোষ স্বীকার করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, বন্ধুদের খপ্পরে তিনি মাদকাসক্ত হয়েছেন। মাদক সেবনের কারণে ইতিমধ্যে স্ত্রী ও সন্তান তাঁকে ছেড়ে চলে গেছেন। প্রতিবেশীদের কেউ তাঁকে ভালো চোখে দেখেন না। তবে জেল থেকে ছাড়া পেলে তিনি আর কখনো নেশা করবেন না বলে আদালতকে জানান।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

