Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / মির্জা ফখরুল সারাক্ষণ মিথ্যা বলেন : প্রধানমন্ত্রী

মির্জা ফখরুল সারাক্ষণ মিথ্যা বলেন : প্রধানমন্ত্রী

এমএনএ বিশেষ প্রতিনিধি : বিএনপি মহাসচিবের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম সারাক্ষণ মিথ্যা কথা বলেন। দিন-রাত মিথ্যা কথা বলতে বলতে তাঁর গলা ব্যথা হয়ে গেছে। এত মিথ্যা কথা তিনি কীভাবে বলেন ভেবে পাই না।
আজ বৃহস্পতিবার ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা স্কুল বড় মাঠের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ মন্তব্য করেন। প্রধানমন্ত্রী ঠাকুরগাঁওয়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়, আইটি পার্ক ও কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল স্থাপনসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেন।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যতদূরেই থাকি আমি সব সময় আপনাদের সঙ্গেই ছিলাম, সঙ্গে আছি এবং সঙ্গে থাকবো। আমি আপনাদের উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছি। আপনাদের ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া জন্য স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছি। আমি ক্ষমতায় এসে মানুষের উন্নয়নের কথা চিন্তা করি। দেশের প্রধান হিসেবে নিজেকে সেবক মনে করি। আমার ওপর ১৬ কোটি মানুষের দায়িত্ব রয়েছে। আমি সেই দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করার চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে যাতে একটা বিশ্ববিদ্যালয় হয় সে ব্যবস্থা আমরা করে দেবো। এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে ইপিজেড স্থাপন, আন্ত:নগর ট্রেন চালুসহ যেসব উপজেলায় সরকারি স্কুল কলেজ নেই সেখানে স্কুল কলেজ প্রতিষ্ঠা করা হবে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিন, আপনাদেরকে সোনার বাংলা উপহার দেব।’ এ সময় তিনি বলেন, ‘আপনারা ওয়াদা করেন, হাত তুলে ওয়াদা করেন—নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারে ধারাবহিকতা আছে বলেই উন্নয়নের ছোয়া লেগেছে। উন্নয়নের জন্যই আওয়ামী লীগে ভোট চাই। আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই।
শেখ হাসিনা বলেন, ১৮ সালের নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। হাত তুলে ওয়াদা করেন নৌকায় ভোট দেবেন। নৌকা মার্কায় ভোট দেন আপনাদের সোনার বাংলা উপহার দেব।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতাকে ভোগের বস্তু নয় জনসেবার জন্য ব্যবহার করি। আমরা জনগণের সেবক।
ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় শেখ হাসিনা বলেন, আমি বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে চিনি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় আমি গিয়েছি। আমি হেঁটেছি, নৌকায় চড়েছি, ট্রেনে যাতায়াত করেছি। আমি ভালো করে জানি দেশের কোথায় কোন সমস্যা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতার কাছে শুনেছি কীভাবে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে। এজন্য আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি এলে কোনো উন্নয়ন হয় না।
তিনি বলেন, আমরা ক্ষমতায় আসলেই দারিদ্র থেকে মুক্তি। আমরা দারিদ্র থেকে দেশকে দারিদ্রমুক্ত করব। আমরা চাই দেশ এগিয়ে যাক। বিশ্ব সভায় দেশ মর্যাদা নিয়ে এগিয়ে চলুক। আমরা দেশের উন্নয়ন চাই। বিএনপি আসা মানেই দেশকে ধ্বংস করা। আওয়ামী লীগ মানেই শান্তি।
শেখ হাসিনা আরও বলেন, আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল, উন্নয়নশীল দেশ কারণ আমরা দেশের উন্নয়নের জন্য কাজ করেছি। কর্মসংস্থান ব্যাংক করে দিয়েছি। ফলে ঋণ দিয়ে অনেকে ব্যবসা করতে পারছেন। এছাড়া একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মাধ্যমে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়া হয়।
তিনি বলেন, আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ছেলে-মেয়েদের শিক্ষাবৃত্তি, বইসহ নানা উপকরণ দিয়ে যাচ্ছি। এতে শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন হয়েছে। বর্তমানে আমাদের সন্তানরা পড়ালেখায় ভালো ফলাফল অর্জন করেছে।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের সরকার ক্ষমতায় এলেই দেশের উন্নয়ন হয়। আমরা উন্নয়ন করি আর বিএনপি লুটপাট করে। আমরা বিমানবন্দর চালু করি তারা বন্ধ করে। এভাবে একের পর এক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করে দেশের উন্নয়ন ধ্বংস করছে বিএনপি।
বিএনপি ক্ষমতায় এলে মানুষ উপহার পায় লাশ। আর আমরা ক্ষমতায় এলে মানুষ পায় উন্নয়ন। কারণ আমাদের কাজ জনগণের উন্নয়ন করা। দেশের ভাগ্য পরিবর্তন করা। এটাই আমাদের ওয়াদা।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সারা দিন কথা বলেন। দিন-রাত মিথ্যা কথা বলতে বলতে তাঁর গলা ব্যথা হয়ে যায়। কিন্তু মিথ্যা বলারও একটা সীমা আছে। এত মিথ্যা বললে আল্লাহও নারাজ হয়।’
তিনি বলেন, ‘তিনি (মির্জা ফখরুল) তো বিমানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু বিমানের কী উন্নয়ন করেছিলেন, বলেন। আমরা ক্ষমতায় এসে দেখলাম বিমান চলে না। সব টাকাপয়সা লুটপাট করে নেওয়া হয়েছে, বিমানকে ধ্বংস করে রেখে গেছে।’
মির্জা ফখরুল ইসলাম ২০০১ সালে ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর তিনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের বেসামরিক বিমান চলাচল ও কৃষি প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। আজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঠাকুরগাঁও সফরের সময় যেখানে বক্তব্য দেন, সেটি মির্জা ফখরুলের নির্বাচনী আসনের মধ্যে পড়ে।
বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিমান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী থাকলেও এই এলাকার সৈয়দপুর বিমানবন্দর বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘তিনি (মির্জা ফখরুল) ছিলেন বিমান প্রতিমন্ত্রী। কিন্তু এখান থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর। সেই বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এখানকার বিমানমন্ত্রী, অথচ এখানকার এয়ারপোর্টই বন্ধ করে দেন। আমরা আজ এই বিমানবন্দর চালু করে দিয়েছি। এখান থেকে এখন সব মানুষ যাতায়াত করতে পারছে। তারা রাজশাহী বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছিল, আমরা চালু করেছি। তারা বরিশাল বিমানবন্দর বন্ধ করেছিল, আমরা চালু করেছি।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘তারা (বিএনপি) ক্ষমতায় থাকতে পাঁচ পাঁচবার বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। কেন হয়েছিল? তারা তো পুরো দেশটাকেই ধ্বংস করে দিয়েছে। খালেদা জিয়া ও তাঁর ছেলেরা অর্থসম্পদ লুটপাট করে পাচার করেছে। এক টাকাও ফেরত দেয়নি। আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা সেই তথ্য বের করেছে, সিঙ্গাপুরে সেটা ধরা পড়েছে। আমরা সেই টাকা ফেরত পর্যন্ত এনেছি। সেই টাকা এখন জনগণের কাজে লাগাচ্ছি। আর ওরা (বিএনপি) জানে লুটপাট, দুর্নীতি, খুন। ওরা মানুষ খুন করে। তারা তাণ্ডব চালিয়েছে।
খালেদা জিয়াকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, বিদেশ থেকে এতিমের জন্য আনা টাকা মেরে খেয়েছেন তিনি। যে এতিমের টাকা মেরে জেলে গেছেন তার জন্য আবার আন্দোলন কিসের।
এতিমের হক না দিলে তার জন্য কোরআনে শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি ঠাকুরগাঁও বিজিবি সেক্টর মাঠে অবতরণ করে। আজকের সফরে প্রধানমন্ত্রী ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন ও ৩৩টি উন্নয়নকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
x

Check Also

টানা ৫ ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালানো যাবে না, সতর্ক করল বিআরটিএ

এমএনএ প্রতিবেদক একটানা দীর্ঘ সময় গণপরিবহণ চালানোর ফলে চালকদের ক্লান্তি, ঝিমুনি ও ঘুমের প্রবণতা বাড়ছে, ...