শপথ নিলেন তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রী
Posted by: News Desk
January 2, 2018
এমএনএ রিপোর্ট : সরকারের মেয়াদের শেষ বছরে মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণে তিনজন মন্ত্রী এবং একজন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এর মধ্য একজন প্রতিমন্ত্রী পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হলেন।
পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ মোস্তফা জব্বার ও লক্ষ্মীপুরের সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল। আর রাজবাড়ীর সাংসদ কাজী কেরামত আলী প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আজ মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বঙ্গভবনে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্যদের শপথ পাঠ করান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম।
এর আগে গতকাল সোমবার দুপুরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম তাঁদের ফোন করে শপথ নিতে বঙ্গভবনে যাওয়ার আহ্বান জানান।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মো. ছায়েদুল হকের মৃত্যুতে এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদটি শূন্য রয়েছে। নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এই মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হতে পারেন।
আচমকা মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী বছর শুরু করে ফেলল সরকার। আজ মঙ্গলবার শপথ নেওয়া চারজনের মধ্য তিনজনই নতুন মুখ। রাজনৈতিকভাবেও তাঁরা অনেকটা অচেনা। এই চারজন যুক্ত হলে মন্ত্রিসভার সদস্য হবেন প্রধানমন্ত্রীসহ ৫৪ জন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ছাড়া পূর্ণ মন্ত্রী ৩৩ জন, প্রতিমন্ত্রী ১৮ জন এবং উপমন্ত্রী ২ জন। এ ছাড়া মন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা আছেন ছয়জন। এর বাইরে এইচ এম এরশাদ মন্ত্রী পদমর্যাদায় বিশেষ দূত।
নতুন ডাক পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এখন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁকে একই মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।
৭২ বছর বয়সী নারায়ণ চন্দ্র চন্দ খুলনা-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনবার। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় দফায় সরকার গঠন করলে নারায়ণ চন্দ্রকে দেয়া হয় প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। আর পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হন সায়েদুল হক। কিন্তু তিনি ১৬ ডিসেম্বর মারা গেলে এই পদ খালি হয়।
ক্ষমতাসীন দলের সূত্র জানায়, বর্তমান মন্ত্রিসভায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে নেই। এ জন্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দকে মন্ত্রী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
নতুন ডাক পাওয়া শাহজাহান কামাল লক্ষ্মীপুর সদর আসনের সাংসদ। জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি ছিলেন। ১৯৭৩ সালে প্রথম সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি এ এস এম মাকসুদ কামালের বড় ভাই।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীহতে পারেন লক্ষ্মীপুর-৩ এর এমপি একেএম শাহজাহান কামাল।

তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মোস্তাফা জব্বার সাংসদ নন, ফলে তাঁকে টেকনোক্রেট মন্ত্রী করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে কোনো মন্ত্রী নেই। ডাক ও টেলিযোগাযোগে তারানা হালিম ও তথ্যপ্রযুক্তিতে প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ দায়িত্ব পালন করছেন। মোস্তাফা জব্বারকে এগুলোর মধ্যে কোনো একটি মন্ত্রণালয়ে যুক্ত করা হতে পারে। আবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান হলেও সেখানে প্রতিমন্ত্রী পদে কাউকে দেওয়ার সুযোগ আছে।
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সরকার যেসব উদ্যোগ নেয়, এর প্রায় সবগুলোর সঙ্গেই মোস্তাফা জব্বার সম্পৃক্ত ছিলেন। জাতীয় সম্প্রচার আইন, অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালাসহ তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও নীতিমালা তৈরির লক্ষ্যে গঠিত কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন।
এ ছাড়া রাজবাড়ী সদর ও গোয়ালন্দের সাংসদ কাজী কেরামত আলী সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি। তিনি জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। চারবারের সাংসদ, তিনবারই নির্বাচিত। স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলীকে।
দলীয় সূত্র জানায়, এই দুই জেলা থেকে কখনোই আওয়ামী লীগের কেউ মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী হননি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের মেয়াদ প্রায় চার বছর পূর্ণ করেছে।
২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি শপথ নেন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের ২৯ মন্ত্রী, ১৭ প্রতিমন্ত্রী ও ২ উপমন্ত্রী। এই মন্ত্রিসভায় জাতীয় পার্টির ৩ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ও জাসদের ১ জন করে স্থান পান।
প্রথমবার রদবদল হয়েছিল শপথ গ্রহণের মাস দেড়েক পর ২০১৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি। ওইদিন আবুল হাসান মাহমুদ আলীকে (এমএইচ মাহমুদ আলী) পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং নজরুল ইসলামকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।
প্রায় দেড় বছর পর ২০১৫ সালের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভায় যোগ হন নতুন পাঁচজন। তাদের মধ্যে ওইদিন আসাদুজ্জামান খান কামাল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী থেকে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান প্রতিমন্ত্রী থেকে পদোন্নতি পেয়ে পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে হজ নিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করে বাদ পড়েন আবদুল লতিফ সিদ্দিকী।
পরের বছরের ১৪ জুলাই মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ করে নুরুল ইসলাম বিএসসিকে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী করা হয়। পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রী হন ইয়াফেস ওসমান ও আসাদুজ্জামান খান কামাল। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারানা হালিম ডাক ও টেলিযোগাযোগ) এবং নুরুজ্জামান আহমেদ (সমাজ কল্যাণ)।
মন্ত্রিসভায় সর্বশেষ রদবদল হয় ২০১৫ সালের ৯ জুলাই। ওই রদবদলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তৎকালীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে দফতরবিহীন মন্ত্রী করা হয়।
একইদিন প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বদলে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয় ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে। এক সপ্তাহ পর সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়।
শপথ নিলেন তিন মন্ত্রী এক প্রতিমন্ত্রী 2018-01-02