Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / সিলেটে বিপিএলের পঞ্চম আসরের পর্দা উঠছে আজ

সিলেটে বিপিএলের পঞ্চম আসরের পর্দা উঠছে আজ

এমএনএ স্পোর্টস ডেস্ক : নয়নাভিরাম সিলেট স্টেডিয়ামে বিপিএলের পঞ্চম আসরের পর্দা উঠছে আজ ৪ নভেম্বর, শনিবার দুপুর ২ টায়। টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের জমজমাট আসরের উদ্বোধনী ম্যাচে সিলেট সিক্সার্সের মুখোমুখি হবে ঢাকা ডায়নামাইটস। একইদিন দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে রাজশাহী কিংস ও রংপুর রাইডার্স।
তবে থাকছে না আলোর রোশনাই, আতশবাজির ঝলকানি। দেশি-বিদেশি নামিদামি তারকাদের এনে নাচগানের আয়োজনও নেই। বন্যার্তদের দিকে সাহায্যের হাত বাড়াতেই বাতিল করা হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) পঞ্চম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। এরপরও ফ্র্যাঞ্চাইজিভিত্তিক এই টি২০ টুর্নামেন্ট নিয়ে আগ্রহের স্রোতে ভাটা পড়েনি। বরং তারকা ক্রিকেটারদের উপস্থিতি ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহটাকে বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণ। চারদিকে বাজছে বিপিএলের ডামাডোল। সবাই এখন মাঠে চার-ছক্কার বর্ণিল ক্রিকেট দেখার অপেক্ষায়। সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে আজ, পর্দা উঠছে পঞ্চম বিপিএলের।
আগের চার আসরের মতো ঢাকায় নয়, ৭টি দল নিয়ে বিপিএল এবার যাত্রা শুরম্ন করছে সিলেট থেকে। এবারই প্রথম আসরের ভেনু্য তালিকায় উঠেছে সিলেট আন্ত্মর্জাতিক স্টেডিয়ামের নাম। সেখানেই অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে হবে বিপিএলের বোধনপর্ব। এরপর মাঠের খেলা।
দেশে ক্রিকেটের জমজমাট আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগকে (বিপিএল) বরণ করে নিতে প্রস্তুত সিলেট। রঙবেরঙের ব্যানার, ফেস্টুন আর তোরণে সেজেছে সিলেট। প্রথমবারের মতো সিলেট স্টেডিয়ামে এই আসরের পর্দা উঠতে যাচ্ছে।
অবশেষে সিলেটবাসীর দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান হচ্ছে। ঘুচতে যাচ্ছে বড় কোন ক্রিকেট আসর না বসার আক্ষেপও। শনিবার দুপুর ২টায় সিলেট সিক্সার্স ও গত আসরের চ্যাম্পিয়ন ঢাকা ডায়নামাইটস এর ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে বিপিএলের ৫ম আসর। এবারই প্রথম সিলেটে বসছে বিপিএলের চার-ছক্কার আসর। যে কারণে দর্শকদেরও উন্মাদনারও কমতি নেই। নিজ ভেন্যুতে বসে খেলা উপভোগের প্রহর ঘুনছেন তারা। ইতোমধ্যে ম্যাচ আয়োজনে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
স্টেডিয়ামপাড়া সাজানো হয়েছে অপরুপ সাজে। আলোকবাতিতে রঙিন সিলেট নগরীও। সিলেট সিক্সার্স নগরীর বিভিন্ন সড়কে আলোকসজ্জা করেছে। এরই মধ্যে সিলেট এসে পৌঁছেছে বিপিএলে অংশ নেয়া ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোও। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম ও সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে করছে কঠোর অনুশীলন। দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের পদচারণায় মুখরিত পর্যটন নগরী খ্যাত সিলেট।
এদিকে সুষ্ঠুভাবে বিপিএল আয়োজনে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারস্তরের নিরাপত্তার পাশাপাশি বিভিন্ন নির্দেশনা জারি করেছে এসএমপি। শুক্রবার (০৩ নভেম্বর) থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত যানবাহন ও ট্রাফিক প্রয়োজন অনুযায়ী দুপুর ১টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত এবং সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত সিলেটের বেশক’টি সড়কে সাময়িক সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ থাকবে। কারণ এই সময় এসব সড়কে বিপিএলে অংশ নেয়া বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজির টিম বাস চলাচল করবে।
সার্বিক নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এবং সড়ককে যানজট মুক্ত রাখতে যান চলাচলে এ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তবে ৬ নভেম্বর কোন খেলা না থাকায় অন্যান্য দিনের মতো যান চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
বিপিএলের এটা পঞ্চম আসর; কিন্তু এবারের আসরে একটা নতুনত্ব আছে। তাহলো, রাজধানী ঢাকা ও বন্দর নগরী চট্টগ্রামের পর তৃতীয় শহরে বিপিএল। আগের চারবার শুধু ঢাকার শেরে বাংলা ও চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে খেলা হয়েছে। এবার বিপিএল নগরি হলো সিলেট।
তৃতীয় শহরে খেলা গড়ানোর পাশাপাশি এবারের বিপিএলে আরও একটি নতুনের সংযোজন ঘটেছে। এই প্রথম বিপিএল শুরু হলো রাজধানী ঢাকার বাইরে। আরও একটি নতুন খবর আছে, এতকাল একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি খেলা দেখানো হতো। এবারের বিপিএল দেখা যাবে দুই টিভি চ্যানেল মাছরাঙ্গা ও গাজী টিভিতে।
আগের চারবারই শেরে বাংলায় পর্দা উঠেছে। এবার সে ধারা পাল্টে বিপিএল মাঠে গড়াবে সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। হঠাৎ কি এমন হলো যে, রাজধানী ঢাকা এমনকি চট্টগ্রামেরও বাইরে খেলা শুরু? প্রশ্ন অনেকের মনে। কারণ, একটাই। তবে কোন ক্রিকেটীয় ব্যাপার-স্যাপার নেই সেখানে।
কারণ হলো, ঢাকায় ঠিক এই সময় হবে কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারিয়ান্সের কনফারেন্স। গত ১ নভেম্বর থেকে তা শুরুও হয়েছে। সেই কনফারেন্স উপলক্ষে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের পাঁচ শতাধিক প্রতিনিধি এখন ঢাকায়। রাজধানীর সব পাঁচ তারকা হোটেলে সেই প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিপিএলের সাত দলের ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, ম্যাচ অফিসিয়ালস এবং আয়োজক-ব্যবস্থাপকদের থাকার জায়গা সংকুলান হবে না। মূলতঃ এই কারণে এবার ঢাকায় শুরু হচ্ছে না বিপিএল।
সে কারণেই এবার সিলেট দিয়ে শুরু আসর। সিলেট শহরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার থেকে চার কিলোমিটার দূরে, লাক্কাতুরা চা বাগানের ভিতরে মাঠ। বাংলাদেশের কোন ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সঙ্গে যার নির্মান শৈলির মিল নেই। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড, মিডিয়া ভবন- সব কিছুতেই একটা বৃটিশ স্থাপনার ছোঁয়া।
মূল গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডের ছাদ শেরে বাংলা কিংবা জহুর আহমেদ চৌধুরী বা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের মত নয়। লাল টালির ছাদ। এ মাঠে কোন টেস্ট হয়নি। একদিনের খেলাও হয়নি। তবে ২০১৪ সালে বাংলাদেশে হওয়া বিশ্ব টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসরের ছয়টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে এখানে।
কার্তিকের মাঝামাঝি, হেমন্তের আগমনী বার্তা বাতাসে। শীত না আসলেও শীতের আমেজ টের পাওয়া যাচ্ছে। তবে রাজধানী ঢাকার তুলনায় দিনের বেলা গরমের মাত্রা বেশি সিলেটে। রাতে খানিক ঠান্ডা। সব মিলে চমৎকার সহনীয় আবহাওয়া।
শহরের কোলাহল থেকে একটু দুরে নাজিমগড় রিসোর্ট, আর শহরের প্রাণকেন্দ্রে রোজ ভিউ হোটেল এখন দেশ বিদেশের তারকা ক্রিকেটারদের সরব উপস্থিতিতে ঠাসা। ভারতের আইপিএলের মত বিপিএল শুরু থেকে সাড়া জাগিয়েছে।
তবে প্রথম দুই আসর ছিল অনিয়ম ও অব্যস্থাপনায় ভরা। ক্রিকেটারদের পারিশ্রমিক পেতে নাভিঃশ্বাস উঠতো। ফিক্সিং বিতর্কও মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল দ্বিতীয় আসরে।
মোহাম্মদ আশরাফুলের ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ে জড়িয়ে পড়ার ঘটনা ২০১৩ সালের দ্বিতীয় আসরে। শতভাগ নিশ্চিদ্র আর সাজানো-গোছানো ও সু-ব্যবস্থাপনার ছাপ না আসলেও সময় গড়ানোর সাথে সাথে বিপিএলে ভুল-ক্রুটি কমতে শুরু করেছে। আগের চেয়ে ব্যবস্থাপনায়ও এসেছে দক্ষতার ছাপ।
ভারতের আইপিএলের মত অত বেশি সংখ্যার শীর্ষ ও বিশ্ব তারকার সমারোহ নেই। তারপরও বিপিএলেও ভারত, অস্ট্রেলিয়া ছাড়া সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের নামি-দামি তারকার মিলন মেলা বসেছে। এবার তো একঝাঁক বিশ্ব তারকার অংশ নেয়ার কথা।
ক্রিস গেইল, ব্রেন্ডন ম্যাককুলাম, কুমার সাঙ্গাকারা, আফ্রিদি, সুনিল নারিন আর মোহাম্মদ আমিরের মত তারকার দেখা মিলবে এবার। বিশ্বজোড়া টেস্ট ক্রিকেটের আবেদন কমেনি একটুও। টেস্ট এখনো ক্রিকেটের কুলিন ও আভিজাত্যের প্রতীক হয়েই রয়েছে। ওয়ানডের বাজার পড়েনি একটুও। বরং বেড়েছে। তবে হঠাৎ করেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ‘টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট।’
হবার যথেষ্ঠ কারণও আছে। মাত্র ২০ ওভারের ম্যাচ; কিন্তু পরিপূর্ণ প্যাকেজ। চার-ছক্কার ফুলঝুড়ি। দর্শক বিনোদনের খোরাক ও রসদে পরিপূর্ণ। ধৈর্য্য ধরে, কাজ কর্ম ফেলে পাঁচ দিন খেলা দেখায় যাদের উৎসাহ কম, সৃষ্টি-সৃজনশীল ও শৈল্পিক ক্রিকেটের চেয়ে যারা চার-ছক্কার ফুলঝুড়ি ও রানের ফলগুধারা বেশি দেখতে পছন্দ করেন- তাদের প্রথম পছন্দ এখন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট।
৫০ ওভারের ম্যাচের দর্শকপ্রিয়তা আগের মত থাকলেও টি-টোয়েন্টির মজাই আলাদা। ক্রিকেটের প্রথাগত, ব্যাকরণসম্মত ব্যাটিং-বোলিং এখানে অনুপস্থিত। তার বদলে অনেকটাই ধুমধাড়াক্কা মার-মার কাট-কাট; কিন্তু খেলা দেখায় আছে অন্যরকমের আনন্দ।
তাই তো ভারতের আ্ইপিএল এখন বিশ্বের অত্যম আকর্ষণীয় ক্রিকেট আসর। আকার, আয়তন আর বাজার ও বাজেট হয়ত অতবড় নয়, তারপরও বাংলাদেশের বিপিএলও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এ কারণেই দক্ষিণ আফ্রিকায় জাতীয় দলের চরম ব্যর্থতা ও ভরাডুবির পর বিপিএল দেখতে মুখিয়ে সবাই।
সিলেট পর্বের আয়ুষ্কাল মোট পাঁচ দিন। তবে খেলা হবে ৪ দিন। ৪ ও ৫ নভেম্বর দু’দিন টানা খেলার পর ৬ নভেম্বর বিশ্রাম। ৮ নভেম্বর রাতেই ইতি এ পর্বের। এরপর আবার দু’দিন বিরতি। ১১ নভেম্বর শুরু ঢাকা পর্ব। চলবে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত। এরপর বিপিএল চলে যাবে চট্টগ্রামে। বন্দর নগরীতে খেলা শুরু ২৪ নভেম্বর। ২৯ ওই পর্ব শেষে শেষ রাউন্ড আবার শেরে বাংলায়। ১২ ডিসেম্বর ফাইনাল।
x

Check Also

মন্ত্রীদের বিদেশ সফর ও অভ্যন্তরীণ চলাচলে নতুন প্রটোকল জারি

এমএনএ প্রতিবেদক মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রীয় বা সরকারি কাজে বিদেশ গমন, দেশে প্রত্যাবর্তন এবং ...