সিলেট প্রতিনিধি : গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট নগরীর আম্বরখানা পয়েন্টে ছাত্রলীগের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ৪ পুলিশ সদস্যসহ আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০ জন। পুলিশ বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুঁড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগ নেতাসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সংঘর্ষে আহত ৪ পুলিশ সদস্যরা হচ্ছেন- কোতয়ালী মডেল থানার এসআই শাহিন, এএসআই আজিজ ও ২ কনস্টেবল। তাদেরকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষ চলাকালে হযরত শাহজালাল (রহ.) ওরসে আসা লোকজনসহ পথচারীদের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে তারা ছোটাছুটি শুরু করতে থাকেন। ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে দেন।
জানা যায়, হযরত শাহজালাল (রহ.) এর ওরস উপলক্ষ্যে গতকাল সোমবার সন্ধ্যার পর থেকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আম্বারখানা-চৌহাট্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখে প্রশাসন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সুফির নেতৃত্বে ৮-১০টি মোটরসাইকেলযোগে ১৫-২০ জন ছাত্রলীগ কর্মী আম্বরখানা পয়েন্টে যায়।
তারা আম্বরখানা-চৌহাট্টা সড়ক দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে যেতে চান। কিন্তু ওই রাস্তায় যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাদেরকে বাধা দেন। এতে ছাত্রলীগ কর্মীরা পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা সেখান থেকে চলে যান।
এর ১৫-২০ মিনিট পর আবার ১০-১৫টি মোটরসাইকেলযোগে ছাত্রলীগ কর্মীরা সেখানে এসে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অতর্কিতে পুলিশের উপর হামলা চালায়।
পুলিশ পাল্টা প্রতিরোধ করলে তাদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা-ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৩৬ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে ৪ পুলিশ সদস্য ও পথচারীসহ ২০ জন আহত হন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ছাত্রলীগের সহ সভাপতি সুফিসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে।
এ ব্যাপারে এসএমপির মুখপাত্র এডিসি রহমত উল্লাহ বলেন, ১০-১৫টি মোটরসাইকেলযোগে ছাত্রলীগ কর্মীরা ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে অতর্কিতে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। পুলিশ রাবার বুলেট ছুঁড়ে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
এদিকে সংঘর্ষের পর থেকে আম্বরখানা, সুবিদবাজার, চৌহাট্টা ও দরগাহ গেইট এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ফের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক

