Iranian mourners gather during the final stage of funeral processions for slain top general Qasem Soleimani, in his hometown Kerman on January 7, 2020. - Soleimani was killed outside Baghdad airport on January 3 in a drone strike ordered by US President Donald Trump, ratcheting up tensions with arch-enemy Iran which has vowed "severe revenge". The assassination of the 62-year-old heightened international concern about a new war in the volatile, oil-rich Middle East and rattled financial markets. (Photo by ATTA KENARE / AFP)
সোলাইমানির জানাজায় পদদলিত হয়ে নিহত ৪০
Posted by: News Desk
January 7, 2020
এমএনএ ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : ইরাকে মার্কিন বাহিনীর হামলায় নিহত ইরানের ‘কুদস বাহিনী’র প্রধান জেনারেল কাশেম সোলাইমানির জানাজায় ভিড়ের মধ্যে পদদলিত হয়ে অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২২৫ জন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে আজ মঙ্গলবার তার নিজের শহর কেরমানে দাফন করার কথা। এ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রাস্তায় লাখ লাখ শোকার্ত মানুষের ঢল নামে। সেখানে পদদলিত হয়ে হতাহতের এ ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা গেছে, শোকার্ত লোকজন অবসন্ন হয়ে ফ্লোরে পড়ে আছেন। অন্যরা তাদের বুকে ঘষামাজা করছেন। মাটিতে পড়ে থাকা কারো কারো মুখ জ্যাকেট ও কাপড় দিয়ে ঢাকা অবস্থায় দেখা গেছে। ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানের খবরে এমন তথ্য জানা গেছে।
দেশটির জরুরি সেবা বিভাগের প্রধান পীর হোসেন কলিভান্দ বলেন, শোকমিছিলে অংশ নিয়ে বেশ কিছু লোক আহত হয়েছেন। অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন।
কেরমানে এএফপির প্রতিনিধি বলেন, দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় শহরের রাস্তায় লোকে লোকারণ্য। নিহত জেনারেলের প্রতি শোক জানাতে তারা জানাজায় অংশগ্রহণ করতে রাস্তায় বেরিয়ে এসেছেন।
জানাজায় পদদলিত হয়ে এই হতাহতের আগে বিপ্লবী গার্ডসের কমান্ডার মেজর জেনারেল হোসাইন সালামি বলেন, শহীদ সোলাইমানি ছিলেন খুব ক্ষমতাবান। এখন তিনি মৃত। শত্রুরা অন্যায়ভাবে তাকে হত্যা করেছে।
আজ মঙ্গলবার সকালে সোলাইমানির মরদেহ তার শহর কেরমানে পৌঁছায়। দেশটির জাতীয় বীরকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে লাখো মানুষ কেরমানের প্রধান রাস্তা ও পার্শ্ব রাস্তায় জড়ো হন। তাদের পরনে ছিলো কালো পোশাক, হাতে ছিলো ইরানের পতাকা এবং সোলাইমানির ছবি। এছাড়া তেহরান, কুয়াম, মাশহাদ ও আহভাজ শহরেও মানুষের ঢল নেমেছে।
এর আগে গতকাল সোমাবার তার জানাজা উপলক্ষে রাজধানী তেহরানের সড়কগুলো লোকে লোকারণ্য হয়ে উঠেছিল। এতে অংশ নেয় অন্তত ১০ লাখ মানুষ। তারা কালো ব্যাচ ও পোশাক পরিধান করে, পতাকা উড়িয়ে ও সোলাইমানির ছবি বুকে নিয়ে শ্রদ্ধা জানায়। এছাড়া তারা ‘আমেরিকার মৃত্যু চাই’ বলে শ্লোগান দিতে থাকে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে গত শুক্রবার ভোরে বাগদাদে ড্রোন হামলা চালিয়ে সোলাইমানিকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী।
গত রবিবার সোলেমানির মৃতদেহ ইরাক থেকে ইরানে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল সোমবার ইরানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের জুমার নামাজ চত্বরে তার জানাজা হয়।
ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, এখানে সোলেমানিসহ তার সঙ্গে নিহত সবার জানাজা হয়।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি জানাজায় ইমামতি করেন, এর এক পর্যায়ে তাকে কাঁদতে দেখা গেছে।
জানাজায় যোগ দিতে তেহরানে ব্যাপক লোক সমাগম হয়েছিল। তাদের অনেককেই কাঁদতে দেখা গেছে। কেউ কেউ নিহত কমান্ডারের ছবি নিয়ে জানাজায় যোগ দিতে এসেছিলেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ইরাকের রাজধানী বাগদাদে মার্কিন হামলায় নিহত হন ইরানের এলিট ফোর্স হিসেবে পরিচিত বিপ্লবী গার্ড করপোরেশনের (আইআরজিসি) ‘কুদস বাহিনী’র প্রধান জেনারেল কাশেম সোলাইমানি। এরপর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে।
পদদলিত জানাজায় সোলাইমানির নিহত ৩৫ 2020-01-07