এমএনএ অর্থনীতি ডেস্ক : বিগত কয়েক বছরের মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়ন কাটছাঁটের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বৈদেশিক অর্থায়নের পরিমাণ কমছে সাড়ে ১৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রতিবছরই আরএডিপিতে বৈদেশিক বরাদ্দ কমানোর একটা প্রবণতা থাকে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত বেশি হারে কমানো হয়নি। গত বছর সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছিল। অর্থাৎ এ বছর কমছে গত অর্থবছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।
চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে কাটছাঁট করার অন্যতম কারণ করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আরএডিপিতে। বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দ থাকলেও বাস্তবতার প্রেক্ষিতে খরচ করতে না পারায় এই অর্থ ফেরত দিয়েছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।
চলতি অর্থবছরের জন্য বরাদ্দ ছিল ৮৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। এখন সংশোধিত এডিপির জন্য এই বরাদ্দ কমিয়ে ধরা হয়েছে ৭০ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ বৈদেশিক অর্থায়ন কমছে ১৭ হাজার ৭৭৪ কোটি টাকা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অর্থ চাহিদার প্রেক্ষিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) একটা খসড়া আরএডিপি পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে। ইআরডি ও পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এদিকে চলতি অর্থবছর এডিপি থেকে আরএডিপিতে (সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস রয়েছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে আরএডিপি চূড়ান্ত অনুমোদন পেতে পারে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে পরিকল্পনা কমিশনের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এনইসি সভায় প্রস্তাবিত আরএডিপির অনুমোদন দেওয়া হবে। সে লক্ষ্যে কাজ করছে পরিকল্পনা কমিশন।
এ বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, করোনার পর ওমিক্রন আতঙ্ক। এসব কারণে মূলত অনেক প্রকল্পে টাকা খরচ হয়নি। অনেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগ টাকা খরচ করতে পারেনি বিধায় সংশোধিত এডিপিতে কমবে। এটা উন্নয়ন সহযোগীদের ব্যর্থতা নয়, এটা আমাদের ব্যর্থতা। সব ব্যর্থতা কাটিয়ে সামনে এডিপি বাস্তবায়নে আরও সক্ষমতা দেখাতে হবে। এদিকে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমডি) সর্বশেষ প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, গত জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত গত ৬ মাসে সরকারি অর্থের তুলনায় বিদেশি ঋণের ব্যবহার কম হয়েছে। এ সময় সরকারি উৎসের অর্থ ব্যয় হয়েছে ২৫ শতাংশ হারে। বিদেশি ঋণের অর্থ ব্যয় হয়েছে ২২ শতাংশ।
আইএমডির প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৫ শতাংশের কিছু বেশি। আগের বছরের এ মাসটিতে বাস্তবায়নের হার ছিল প্রায় ৬ শতাংশের মতো। যদিও সার্বিকভাবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বাস্তবায়ন সামান্য বেশি। তবে আগের দুই অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় তা অনেক কম।
২০২১-২২ অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন দেওয়া হয়। এডিপিতে সরকার জোগান দিচ্ছে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। আর উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে ঋণ হিসেবে আসছে বাকি ৮৮ হাজার ২৪ কোটি টাকা। জিওবি অর্থায়ন ঠিক থাকলেও সংশোধিত এডিপিতে কমছে বৈদেশিক অর্থায়ন।
নতুন এডিপিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৬১ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা, যা মোট এডিপির ২৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। এরপরেই বিদ্যুৎ খাতে গুরুত্ব দিয়ে ৪৫ হাজার ৮৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ২৩ হাজার ৪২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে গৃহায়ন খাতে। নতুন এডিপিতে বরাদ্দ দেওয়ার ক্ষেত্রে চতুর্থ স্থানে শিক্ষা খাতে ২৩ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মোট এডিপির ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার বিভাগে ১৪ হাজার ২৭৪, পরিবেশ ও পানি উন্নয়নে ৮ হাজার ৪৭০, কৃষিতে ৭ হাজার ৬৪৬, শিল্প খাতে ৪ হাজার ৬৪৩, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে ৩ হাজার ২০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাবলিক অর্ডার অ্যান্ড সেফটি খাতে ৩ হাজার ২০৪, সাধারণ সেবা খাতে ২ হাজার ৯২৩, সাংস্কৃতিক খাতে ২ হাজার ১৯০, সামাজিক নিরাপত্তা খাতে ১ হাজার ৬৪৮ কোটি এবং ডিফেন্স খাতে ৮৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সংশোধিত এডিপিতেও এসব খাত গুরুত্ব পাবে বলে দাবি পরিকল্পনা কমিশনের।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
