এমএনএ জাতীয় ডেস্কঃ জ্ঞান-বিজ্ঞানে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আশা প্রকাশ করেছেন এদেশের মানুষও একদিন চাঁদে যাবে, প্লেন বানাবে। এজন্য বিজ্ঞান ও গবেষণার প্রতি সরকার জোর দিয়েছে বলে জানান তিনি।
রোববার (৯ জুলাই) সকালে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারপ্রধান বলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমার ছোটবোন শেখ রেহানা, আমরা পড়াশোনা শেষ করতে পারিনি। এজন্য দুঃখটা রয়ে গেছে। পরে অনেক ডিগ্রি পেয়েছি, কিন্তু সেটাতে কী আর মন ভরে! এজন্য আমরা আমাদের ছেলেমেয়েদের শিখিয়েছি, তোমাদের জন্য কিছু রেখে যেতে পারিনি, একটা জিনিস রেখে যাচ্ছি, শিক্ষা। এটা কেউ কেড়ে নিতে পারবে না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশের ছেলেমেয়েদেরও বলব, কোনো ধনসম্পদ কাজে লাগে না। একটা জিনিস কাজে লাগে, সেটা হলো শিক্ষা। অনেক সময় ধনসম্পদ যে কাজে লাগে না কোভিড সেটা প্রমাণ করেছে। কিন্তু শিক্ষা কাজে লাগে।
প্রধানমন্ত্রী ফেলোশিপের আওতায় ৯৮ জনকে পিএইচডি এবং ২৩৯ জনকে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনের জন্য ফেলোশিপ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনা মহামারি ও রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে সারাবিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা চলছে। এর মধ্যেও আমরা এ ফেলোশিপ প্রদান অব্যাহত রেখেছি।
ফেলোশিপপ্রাপ্তদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সম্পদের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও জনগণের করের টাকায় আমরা গবেষণা অনুদান ও ফেলোশিপ দিয়ে যাচ্ছি। নির্বাচিত ফেলোদের প্রতি আমার অনুরোধ, জনগণের কষ্টার্জিত টাকায় আপনারা যে জ্ঞানার্জন করবেন তা যেন জনগণের কল্যাণে কাজে লাগানো হয়। আগে মেধাবীদের দেশে ধরে রাখার কোনো উদ্যোগ ছিল না। তেমন কোনো প্রতিষ্ঠানও ছিল না। আমরা কিন্তু এখন অনেক সুযোগ-সুবিধা তৈরি করে দিয়েছি। শুধু মৌলিক গবেষণা নয়, প্রায়োগিক গবেষণার ওপর আমরা জোর দিয়েছি। কৃষি, শিল্প স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থানসহ অর্থনৈতিক উন্নয়নের সব ক্ষেত্রে গবেষকদের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারপ্রধান জানান, গত সাড়ে ১৪ বছরে দেশের সবক্ষেত্রে পরিবর্তন হয়েছে। দেশ সমান তালে এগিয়ে যাচ্ছে, আর পিছিয়ে থাকবে না। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ রুখতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। এতে স্বাগত বক্তব্য দেন জিআইইউর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল লতিফ।
অনুষ্ঠানে দুই ফেলো শিবলী ইসলাম ও আফিফা আঞ্জুমান এবং ইতোমধ্যে এই বৃত্তি পেয়ে পিএইচডি করেছেন অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের উপসচিব এ এম আলমগীর কবির নিজ নিজ অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
মোহাম্মদী নিউজ এজেন্সী নিউজ – ফিচার – ফটো নেটওয়ার্ক
