Don't Miss
Home / জাতীয় / পুলিশ জনগণের বন্ধু, এটা প্রতিষ্ঠিত হওয়া একান্ত দরকার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পুলিশ জনগণের বন্ধু, এটা প্রতিষ্ঠিত হওয়া একান্ত দরকার: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

এমএনএ জাতীয় ডেস্কঃ পুলিশ জনগণের বন্ধু, এটা প্রতিষ্ঠিত হওয়া একান্ত দরকার বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, দেশের মানুষ যখনই কোনো বিপদে পড়ে, সবার আগে আশ্রয় খোঁজে পুলিশের কাছে। পুলিশ জনগণের বন্ধু, এটা সব সময় হয়ে আসছে। এটা প্রতিষ্ঠিত হওয়া একান্ত দরকার।

মঙ্গলবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ যখনই কোনো বিপদে পড়ে, সবার আগে আশ্রয় খোঁজে পুলিশের কাছে। পুলিশ জনগণের বন্ধু, এটা সব সময় হয়ে আসছে। এটা প্রতিষ্ঠিত হওয়া একান্ত দরকার। পুলিশ বাহিনীকে মানুষের সেবায় আমরা গড়ে তুলছি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে পুলিশ বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। করোনায় যখন আত্মীয় স্বজন পাশে ছিল না, পুলিশ ছিল মানুষের পাশে। মৃত লাশ দাফন কাফনের ব্যবস্থাও করেছে।

তিনি আরও বলেন, রাজনৈতিক আন্দোলনের নামে অগ্নিসংযোগে বাধা দিতে যাওয়ায় পুলিশের উপরও হামলা হয়েছে। তাদের পিটিয়ে মারা হয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষায় পুলিশ জীবন দিয়েছে। জনগণের জানমাল রক্ষা করেছে। ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর রাজারবাগে ঢুকে ওই জামায়াত-বিএনপি হামলা করেছে। পুলিশ ধৈর্যের সঙ্গে এগুলো মোকাবিলা করেছে। জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে গিয়েও আমাদের পুলিশ বাহিনী বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। অনেকে জীবনও দিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতাকে হত্যার সেই কালরাতে পুলিশের এএসআই সিদ্দিকুর রহমান ঘাতকদের বাধা দিতে গিয়ে বিনা দ্বিধায় নিজের জীবন উৎসর্গ করেন। দেশবিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তির আগুন-সন্ত্রাস মোকাবিলা ও জঙ্গিবাদ দমনসহ সবধরনের সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াইয়ে জীবন উৎসর্গ করেছেন অনেক অকুতোভয় পুলিশ সদস্য।

তিনি বলেন, ‘বিগত ২০১৩, ২০১৪ ও ২০১৫ সালে স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী সারাদেশে হরতাল-অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও ও আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে নিরীহ মানুষ হত্যা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে। পুলিশ সদস্যগণ জীবন বাজি রেখে পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করে তাদের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড রুখে দিয়েছিল।

‘‘বরাবরের মতোই সেই অপশক্তি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বানচাল এবং গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। তারা ট্রেন-বাসে আগুন দিয়ে নির্মমভাবে নিরীহ মানুষ হত্যা, যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর এবং প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারপতিদের বাসভবনে হামলা চালিয়েছে। পেশাদারিত্বের সাথে পুলিশ সদস্যগণ এ সকল পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছেন, এজন্য আমি আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ জানাই।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে আমরা পুলিশের বাজেট বৃদ্ধি, ঝুঁকিভাতা চালু, রেশন প্রাপ্তির হার দ্বিগুণ এবং প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা করি। ১৯৯৮ সালে আমরাই প্রথম পুলিশ সুপার পদে একজন নারী কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেই। পাঁচ কোটি টাকা সিড মানি দিয়ে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্ট গঠন করি। ২০০০ সালে পুলিশ স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠা করি। আমরা ৮০৩ জন এসআই, ৫০৭ জন সার্জেন্ট এবং ১৪ হাজার ৬৮০ জন কনস্টেবল নিয়োগ দেই। কমিউনিটি পুলিশিংয়ের উদ্যোগ নেই। ২৫টি থানা, ৮৬টি তদন্ত কেন্দ্র, ৫৮টি হাইওয়ে ফাঁড়ি, ১৫০টি পুলিশ ক্যাম্প এবং ১০টি ফাঁড়ি স্থাপন করি।’

তিনি বলেন, ‘২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আমরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পদক্ষেপ নেই। আমরা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করি। পুলিশ, র‍্যাবসহ সকল আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করি। গত ১৫ বছরে আমরা পুলিশের উন্নয়নে বহুমুখী কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন করি।’

দশ তলা ভবন করে রাজারবাগে পুলিশ হাসপাতালকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিভাগীয় পর্যায়ে পুলিশ হাসপাতালের উন্নয়নে আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। ঢাকা বিভাগে একটি বিভাগীয় হাসপাতাল নির্মাণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যান্য বিভাগীয় শহরেও পুলিশ হাসপাতাল নির্মাণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা পুলিশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক যানবাহন সরবরাহ করেছি। পুলিশে একটি পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন ইউনিট গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রমে শীঘ্রই দুটি হেলিকপ্টার যুক্ত হতে চলছে। বিভিন্ন অনলাইনভিত্তিক সেবা ও মোবাইল অ্যাপস্ প্রবর্তন, অনলাইন জিডি, ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেটের জন্য ই-সার্ভিস চালু করা হয়েছে।’

শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বেও শান্তি রক্ষায় তাদের অবদানের জন্য আমি ধন্যবাদ জানাই। স্মার্ট পুলিশ স্মার্ট দেশ, শান্তি প্রগতির বাংলাদেশ- প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শুরু হয়েছে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪। বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে এবারের পুলিশ সপ্তাহ।

x

Check Also

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত বহাল

এমএনএ প্রতিবেদক উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলীয় এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে ...