Don't Miss
Home / আন্তর্জাতিক / মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত তীব্র হলে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, বাজারে পড়বে প্রভাব
ধর্মীয় নেতা

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত তীব্র হলে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, বাজারে পড়বে প্রভাব

এমএনএ আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, যদি সংঘাত দীর্ঘায়িত হয়, পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এই হামলার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যে তাদের নিরাপত্তাজনিত হুমকি দূর হবে। তিনি আরও বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে ইরানের জনগণ যে সরকার পরিবর্তনের আন্দোলন চালাচ্ছেন, সেই আন্দোলনের জন্য এখন রাজনৈতিক সুযোগ তৈরি হবে। খবর রয়টার্সের।

হামলার পর তেলসমৃদ্ধ উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা বেড়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় তেহরান ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতি বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তেলের দাম পড়বে প্রভাব?

মধ্যপ্রাচ্যে কোনো সংকটের প্রথম প্রভাব সাধারণত তেলের বাজারে পড়ে। ইরান বিশ্বের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে একটি। হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয়। সংঘাত তীব্র হলে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়, যা তেলের দাম বৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করবে।

রোববার সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দর বারেলপ্রতি প্রায় ৭৩ ডলার, যা চলতি বছরে প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। বিভিন্ন বাণিজ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর কয়েকটি বড় তেল কোম্পানি ও শীর্ষ ট্রেডিং হাউস হরমুজ হয়ে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহন সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের উন্নয়নশীল বাজার বিষয়ক প্রধান বিশ্লেষক উইলিয়াম জ্যাকসনের মতে, সংঘাত সীমিত থাকলেও ব্রেন্টের দাম ৮০ ডলার স্পর্শ করতে পারে। গত বছরের জুনে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের সময় তেলের দাম বারেলপ্রতি সর্বোচ্চ ৮০ ডলার স্পর্শ করেছিল। তবে দীর্ঘমেয়াদে সরবরাহ ব্যাহত হলে দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে। এর ফলে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি ০.৬–০.৭ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেতে পারে।

ইরানের নেতৃত্বে পরিবর্তন ও বিশ্ববাজারে প্রভাব

বিশ্ববাজারে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা সাধারণত আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি ও প্রযুক্তি খাতে শেয়ার বিক্রির কারণে ইতিমধ্যেই ওয়ালস্ট্রেটে সূচকের ওঠানামা দেখা গেছে। হামলা শনিবারে শুরু হওয়ায়, বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে এখনও সরাসরি প্রভাব পড়েনি, কারণ পশ্চিমা দেশগুলোর বাজার রবিবার বন্ধ থাকে।

ভিআইএক্স (ভোলাটিলিটি ইনডেক্স) বা অস্থিরতা সূচক এ বছর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বন্ড বাজারের অস্থিরতার সূচক প্রায় ১৫ শতাংশ বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, মুদ্রাবাজারও চাপমুক্ত থাকবে না। কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার মতে, গত জুনের সংঘাতের সময় ডলারের সূচক প্রায় ১ শতাংশ পতন হয়েছিল, যদিও তা স্বল্পমেয়াদি ছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ডলারের মান সংঘাতের ব্যাপ্তি ও স্থায়িত্বের ওপর নির্ভর করবে। দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত এবং তেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে, মার্কিন ডলার অধিকাংশ মুদ্রার তুলনায় শক্তিশালী হতে পারে। তবে জাপানি ইয়েন ও সুইস ফ্রাঙ্ক তুলনামূলকভাবে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে টিকে থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র এখন নিট জ্বালানির রপ্তানিকারক হওয়ায়, তেলের দাম বাড়লেও কিছুটা সুবিধা পাবে।

ইসরায়েলের মুদ্রা শেকেলও অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে। অতীতে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার বিভিন্ন পর্যায়ে শেকেল সাময়িকভাবে দুর্বল হলেও দ্রুত ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তবে বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মর্গ্যান চেজ সতর্ক করেছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং বাজারে ঝুঁকির স্থায়ী প্রভাব পড়লে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে।

যদি ইরানের সঙ্গে এই সংঘাতে তার আঞ্চলিক মিত্র ও প্রক্সি গোষ্ঠীগুলো জড়িয়ে পড়ে, অর্থাৎ সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত হয়, তাহলে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে অস্থিরতা ও চাপ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

x

Check Also

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের ফাইল অনুমোদন নিয়ে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, অনিয়ম প্রমাণে চ্যালেঞ্জ আসিফ মাহমুদের

এমএনএ প্রতিবেদক স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কোনো ফাইলে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা সুনির্দিষ্টভাবে প্রকাশ ও প্রমাণ ...