Don't Miss
Home / অর্থনীতি / মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত, ছুটিসহ ৭ নভেম্বরকে জাতীয় দিবস ঘোষণা

মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত, ছুটিসহ ৭ নভেম্বরকে জাতীয় দিবস ঘোষণা

এমএনএ প্রতিবেদক

মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সম্প্রসারণ, নতুন জাতীয় দিবস ঘোষণা এবং বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা প্রণয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকের সিদ্ধান্তগুলো পরে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গণি।

এতে মন্ত্রিসভা ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পুনঃঘোষণা করেছে। দিবসটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত হওয়ায় প্রতি বছর এদিন সরকারি ছুটি থাকবে।

একই সঙ্গে ৬ জুলাইকে ‘জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, যা ‘খ’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হবে—তবে এদিন কোনো সরকারি ছুটি থাকবে না।

ঐতিহাসিকভাবে ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহি-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তৎকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটে এবং নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার সূচনা হয়। ওই সময় বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকার এই দিবসের স্বীকৃতি ও ছুটির বিষয়টি পরিবর্তন করেছে।

৭ নভেম্বরকে পুনরায় জাতীয় দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ একটি পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের রাজনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

মন্ত্রিসভা বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকারি মালিকানাধীন জমি ব্যবহার করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বেসরকারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর দ্রুত কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি জৈবগ্যাস ও বায়ুশক্তির সম্ভাবনাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় ৪ থেকে ৮ টাকার মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হয়েছে।

বৈঠকে বিদ্যমান নীতিমালা সহজ করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল-সংলগ্ন সরকারি জমিতে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। অতীতের কিছু সৌর প্রকল্প প্রত্যাশা অনুযায়ী সফল না হওয়ায় নতুন করে বাস্তবায়ন কাঠামো ও নীতিমালা পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক জ্বালানি সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। তবে বাজারে কিছু অস্থিরতা ও ব্যবসায়িক আচরণের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ খাতে বড় প্রকল্প বাস্তবায়নে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ আরও বাড়ানো হবে বলেও জানান তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্য বাস্তবায়িত হলে আমদানি-নির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমবে। তবে এর জন্য কার্যকর নীতিমালা, স্বচ্ছ বাস্তবায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন অপরিহার্য।

সব মিলিয়ে, মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্তগুলো একদিকে যেমন জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের ইঙ্গিত দিচ্ছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয়ও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

x

Check Also

আনসার বাহিনীর জাতীয় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিতে বিশৃঙ্খলা, তিন আনসার সদস্য গ্রেপ্তার

গাজীপুর প্রতিনিধি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ ও প্রধানমন্ত্রীর দরবার কর্মসূচিকে ...