Don't Miss
Home / আজকের সংবাদ / ৪ দিনের ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে রোববার, আলোচনায় আসছে ৪৯৮ প্রস্তাব

৪ দিনের ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে রোববার, আলোচনায় আসছে ৪৯৮ প্রস্তাব

এমএনএ প্রতিবেদক

ঢাকায় চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে আগামীকাল রোববার (৩ মে)। নতুন সরকারের অধীনে আয়োজিত এই প্রথম সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হবে। সম্মেলন চলবে ৬ মে পর্যন্ত।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের সম্মেলনে বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে পাওয়া মোট ১,৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ৪৯৮টি প্রস্তাব কার্যপত্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের দ্বিমত এবং আগের সম্মেলনে আলোচিত হওয়ায় অনেক প্রস্তাব বাদ দেওয়া হয়েছে।

সম্মেলনের উদ্বোধন হবে প্রথম দিন সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। এতে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনের পর দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। একই ভেন্যুতেই সমাপনী অধিবেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

চার দিনের এই সম্মেলনে মোট ৩৪টি কার্য-অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ৫৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কার্যালয় ও সংস্থার সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। অধিবেশনগুলোতে উপদেষ্টা, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা অংশ নেবেন এবং সভাপতিত্ব করবেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

এবারের সম্মেলনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো—জেলা প্রশাসকদের জন্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, তিন বাহিনীর প্রধান এবং জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ রাখা হয়েছে। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ হওয়ার কথা রয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছরের সম্মেলনে এ ধরনের আয়োজন ছিল না।

সম্মেলনে আলোচ্য প্রস্তাবগুলোর বড় অংশই জনদুর্ভোগ কমানো এবং সেবা ব্যবস্থার উন্নয়নকেন্দ্রিক। এর মধ্যে রয়েছে— ভূমি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন; স্বাস্থ্যসেবা ও জনসেবা সম্প্রসারণ; সড়ক ও সেতু অবকাঠামো উন্নয়ন; পর্যটন খাতের বিকাশ; ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন।

এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসনে আধুনিক পদ্ধতি চালু, স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

মাঠ প্রশাসনের সক্ষমতা বাড়াতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ এসেছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা বাড়াতে আইন সংশোধন; মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা; ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে তথ্যপ্রযুক্তির সচেতন ব্যবহার বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসকরা প্রস্তাবে উল্লেখ করেছেন, প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সীমাবদ্ধতার কারণে মাদক নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে। সীমান্ত দিয়ে মাদকের অবাধ প্রবাহ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

ভারতের ফারাক্কা বাঁধের প্রভাব মোকাবিলায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল রক্ষায় দ্রুত পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণের প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও ঝিনাইদহ জেলায় প্রায় দেড় লাখ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে গঙ্গা-কপোতাক্ষ (জি-কে) সেচ প্রকল্পের জরুরি পুনর্বাসন ও রক্ষণাবেক্ষণের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রস্তাবনায় শিক্ষা খাতেও বিভিন্ন সুপারিশ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— কওমি মাদরাসা স্থাপনে নীতিমালা প্রণয়ন; ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাতৃভাষায় শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষক নিয়োগ; ও ফরিদপুরে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন।

প্রতি বছর মাঠ প্রশাসন ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সরাসরি মতবিনিময় এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আনতে ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। গত বছর ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি তিন দিনব্যাপী এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এবারের সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জের ভিত্তিতে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো সরকারের নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

x

Check Also

প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবায় গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে বাংলাদেশ হাইকমিশন

এমএনএ প্রতিবেদক মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের কল্যাণ ও সেবার মান আরও উন্নত করতে গণমাধ্যমের সঙ্গে ...